মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এবার আইবাস সফটওয়্যার দিয়েই করা যাবে গৃহঋণের আবেদন

  • ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট অর্থ বিভাগে প্রেরণ করতে হবে
  • আবার বাস্তবায়নকারী সংস্থাকেও ঋণ অনুমোদনের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যেই অনুমোদনপত্র অর্থবিভাগে পাঠাতে হবে
  • সাময়িক মঞ্জুরি আদেশ জারির ৯০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে ঋণ বিতরণপূর্বক ফ্ল্যাট বা বাড়ি রেজিস্ট্রেশন ও বন্ধকী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে
আপডেট : ২৪ মে ২০২৪, ০২:৫৩ পিএম

এবার সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা—আইবাস প্লাসপ্লাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ঋণের আবেদন করতে পারবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। অর্থাৎ এবার অর্থ বিভাগে সরাসরি গৃহনির্মাণ ঋণের আবেদন করা যাবে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে 'ঋণ মঞ্জুর প্রক্রিয়ায়' এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ঋণ আবেদনকারীরা অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে 'সরকারি গৃহনির্মাণ ঋণ' উইন্ডোর প্রবেশ করে 'অনলাইন ঋণ আবেদন' অথবা সরাসরি 'আইবাস প্লাসপ্লাস' ইউজার আইডি ব্যবহার করে আবেদন করা যাবে।

ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম বা আইবাস প্লাসপ্লাস হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা। এটি একটি ইন্টারনেটভিত্তিক সফটওয়্যার। যার মাধ্যমে সরকারের বাজেট প্রণয়ন, বরাদ্দ বিভাজন, অর্থ অবমুক্তি, বাজেট পুন.উপযোজন, অনলাইনে বিল দাখিল এবং তার বিপরীতে চেক বা ইএফটির মাধ্যমে অর্থ প্রদান, রাজস্ব জমার হিসাবরক্ষণ, স্বয়ংক্রিয় ব্যাংক হিসাব সমন্বয়— ইত্যাদি আর্থিক কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করা যায়।

অনলাইন ঋণ আবেদন প্রক্রিয়ায় বলা হয়েছে, আবেদনকারী হাউজ লোন সাবসিডি অ্যাপলিকেশন (সেল্ফ) অপশন হতে ঋণের আবেদন ফরম পূরণ করে সাবমিট করতে পারবেন। এরপর অর্থ বিভাগের ডেস্ক অফিসার কর্তৃক যাচাই-বাছাই করে আবেদনটি বাস্তবায়নকারী সংস্থা এবং আবেদনকারীর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণারয়ে প্রেরণ অথবা প্রয়োজনীয় সংশোধনীর জন্য আবেদনকারীর নিটক ফেরত পাঠাবেন। এরপর আবেদনকারী কর্তৃক জমি বা ফ্ল্যাট সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য বাস্তবায়নকারী সংস্থার সংশ্লিষ্ট শাখা অফিসে দেখাতে হবে। এবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ফোকাল পয়েন্ট বা বিকল্প ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা কর্তৃক আবেদনকারীর মামলা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহপূর্বক আইবাস প্লাসপ্লাস আইডি ব্যবহার করে ঋণ প্রাপ্তির যোগ্যতা সংক্রান্ত এনওসি তৈরি করবেন। এরপর বাস্তবায়নকারী সংস্থা কর্তৃক আবেদনকারীর দাখিলকৃত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই পূর্বক ঋণ প্রদানে সম্মত হলে সাময়িক ঋণ অনুমোদনপত্র ও সাময়িক রিপেমেন্ট শিডিউল তৈরি করবেন।

অনলাইন ঋণ আবেদন প্রক্রিয়ায় আরও বলা হয়েছে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরিকৃত এনওসি ফোকাল পয়েন্ট অথবা বিকল্প ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা কর্তৃক আইবাস প্লাসপ্লাস সিস্টেমের মাধ্যমে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে অর্থ বিভাগে প্রেরণ করতে হবে। আবার বাস্তবায়নকারী সংস্থা কর্তৃক ঋণ অনুমোদনের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে ঋণের সাময়িক অনুমোদনপত্র ও রিপেমেন্ট শিডিউল আইবাস প্লাসপ্লাস সিস্টেমের মাধ্যমে অর্থবিভাগে পাঠাতে হবে। এরপর অর্থবিভাগ প্রাপ্ত আবেদনের সকল তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা করে ঋণ অনুমোদন ও সুদ ভর্তুকির সাময়িক মঞ্জুরি আদেশ জারিপূর্বক অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবেন এবং আবেদনকারী ও বাস্তবায়নকারী সংস্থা বরাবর ইমেইল করবেন।

অর্থ বিভাগ বলছে, সাময়িক মঞ্জুরি আদেশ জারির ৯০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নকারী সংস্থা কর্তৃক ঋণ বিতরণপূর্বক ঋণের বিপরীতে ক্রয়তব্য ফ্ল্যাট অথবা বাড়ি রেজিস্ট্রেশন ও বন্ধকী কার্যক্রম সম্পন্ন করে চূড়ান্ত ঋণ অনুমোদন ও চূড়ান্ত রিপেমেন্ট শিডিউল প্রণয়নপূর্বক আইবাস প্লাসপ্লাস সিস্টেমের মাধ্যমে যথাসময়ে অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে। এরপর অর্থ বিভাগ কর্তৃক প্রাপ্ত চূড়ান্ত ঋণ অনুমোদনপত্র ও রিপেমেন্ট শিডিউলের তথ্য যাচাই করে সুদ ভর্তুকির চূড়ান্ত মঞ্জুরি আদেশ জারিপূর্বক অর্থবিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং আবেদনকারী ও বাস্তবায়নকারী সংস্থা বরাবর ইমেইল করতে হবে। এবার অর্থবিভাগ কর্তৃক সুদ ভর্তুকির অর্থ সংশ্লিষ্ট ঋণ গ্রহীতার আইবাস প্লাসপ্লাস অ্যাকাউন্টে এন্ট্রি করবে। 

তবে অবশ্যই নির্দিষ্ট ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। না হলে আইবাস প্লাস প্লাস ইউজার আইডিতে এই আবেদন প্রক্রিয়া সাপোর্ট করবে না।

ফ্ল্যাট ও প্লট কিনতে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহনির্মাণ ঋণের নীতিমালা জারি ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই, যা ওই বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী, জমি বা ফ্ল্যাট কিনতে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন তারা। যেকোনো সরকারি চাকরিজীবী ১০ শতাংশ সুদে এই ঋণ নিতে পারবেন। ২০ বছর মেয়াদি এ ঋণের পাঁচ শতাংশ সুদ ঋণগ্রহীতা পরিশোধ করবেন। বাকি পাঁচ শতাংশ সরকার মাসিক কিস্তিতে ভর্তুকি দেবে। নীতিমালা জারির পর রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি করে সরকার। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত