কলকাতায় নিহত সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছে কালীগঞ্জসহ ঝিনাইদহের হাজার হাজার মানুষ। হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তার মরদেহের সন্ধান না পাওয়ায় হতাশা বাড়ছে দলীয় নেতাকর্মীসহ স্বজনদের মাঝে।
এমপি আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন বলেন, ‘আমি যতদিন বেঁচে থাকব জীবনে কোনোদিন এই নৃসংশতার কথা ভুলতে পারব না। সামান্য হাত কেটে গেলেও আমরা বলি কী ব্যথা, সহ্য করতে পারছি না। মৃত ব্যক্তির শরীরে ব্যথা লাগবে বলে আস্তে আস্তে গোসল করানো হয়। আর কেন ওরা আমার বাবাকে এত আঘাত দিয়ে হত্যা করল? আল্লাহ ওদের বিচার করবে। আমার দীর্ঘশ্বাস বৃথা যেতে পারে না। আমি খুনীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’
শুক্রবার বাড়ির সামনে বসে এভাবেই কান্নায় বুক ভাসাচ্ছিলেন এমপি আনারের মেয়ে ডরিন। এর আগে ভোররাতে কালীগঞ্জের বাসায় ফেরেন ডরিন, তার মা ইয়াসমিন ফেরদৌস শেফালী ও এমপি আনারের পিএস আব্দুর রউফ। এদিন সকাল ১১টার দিকে বাড়ির ভেতর থেকে বের হন ডরিন। এ সময় স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে এক হৃদয় বিদারক অবস্থার সৃষ্টি হয়। বাবাহারা সন্তানের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
ডরিন বলেন, ‘আমার বাবা কালীগঞ্জে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে রাজনীতি করেছেন। তার রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থাকতেই পারে।’
এমপি আনারের নামে স্বর্ণ ব্যবসা, হুন্ডি ব্যবসাসহ যে সব অভিযোগ উঠে আসছে তা নিয়ে ডরিন বলেন, ‘আমার বাবার নামে এখন যেসব অপপ্রচার চলছে সেটা সঠিক নয়।’ সাংবাদিকদের প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘আপনারা তো এতদিন ছিলেন, তখন কিছু করেননি কেন? পুরনো কথা নিয়ে এসে এখন বিতর্ক সৃষ্টি করছেন।’
ডরিন বলেন, ‘অনেক আগে থেকে পরিকল্পনা করে আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় যার নাম আসছে তাকে বিদেশ থেকে নিয়ে আসুন। কান টানলে মাথা আসবে। তার ওপরে যদি আর কেউ থাকে তার নামটাও খতিয়ে দেখুন।’ এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তার আস্থার কথা জানান। বলেন, তিনি পিতা হত্যার সুষ্ঠু বিচার পাবেন বলে আশা করেন।
সরেজমিনে একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বললে দেশ রূপান্তরকে তারা জানান, এমপি আনার নিহত হওয়ার পর কালীগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে শোকের মাতম। প্রিয় নেতাকে হারিয়ে তারা এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন।
কালীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ওদুদ বলেন, ‘এমপি আনারকে যে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শুনেছি তার দেহটা ছিন্ন ভিন্ন করা হয়েছে। এর কোনো একটা অংশ উদ্ধার হোক। আমরা লাশ মনে করে জানাজা পড়ব এবং পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করব, এটাই আমাদের দাবি।’
কালীগঞ্জ থানা শ্রমিক লীগের সভাপতি গোলাম রসুল বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড আখতারুজ্জামান শাহীন। তাকে গ্রেপ্তার করে যদি দেশে আনা যায় তাহলে কেন এমপিকে হত্যা করা হলো, কারা কারা জড়িত সবকিছুই জানা যাবে।’
কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান শিবলী নোমানী বলেন, ‘মোটরসাইকেলে করে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিতেন। তার মতো এমপি আমরা হয়তো আর পাব না।’
গত ১২ মে কলকাতায় চিকিৎসার জন্য যান ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনার। ১৩ মে তাকে কৌশলে কলকাতার নিউটাউন এলাকার একটি আবাসিক ভবনে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় হত্যাকারীদের মধ্যে তিনজন আটক হলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহীন।
