মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পুলিশ ট্রাক আটকে রাখায় প্রাণ গেল পাঁচ লাখ টাকার মৌমাছির

আপডেট : ২৬ মে ২০২৪, ০১:৪৮ পিএম

রাজবাড়ীতে প্রচণ্ড গরমে এক মৌচাষির ৯১ বাক্স মৌমাছি মারা গেছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই মৌচাষি। শুক্রবার (১৭ মে) বিকেলে সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের শায়েন্তাপুর গ্রামে গিয়ে মরা মৌমাছিগুলো পড়ে থাকতে দেখা যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত মৌ চাষির নাম মো. খলিফর রহমান (৬৫)। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার পটুয়াপাড়া গ্রামে। তিনি দিনাজপুরে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে পরিবারসহ থাকেন। তিনি প্রতি মৌসুমেই রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের শায়েন্তাপুর গ্রামে মধু সংগ্রহের জন্য যান।

মৌচাষি মো. খলিফর রহমান জানান, তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার পটুয়াপাড়া গ্রামে। প্রায় ১২ বছর আগে তিনি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন (বিসিক) থেকে আধুনিক পদ্ধতিতে মৌচাষের প্রশিক্ষণ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে মৌমাছির চাষ শুরু করেন। প্রতি মৌসুমেই তিনি সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের শায়েন্তাপুর গ্রামে মৌমাছি নিয়ে মধু সংগ্রহের জন্য আসেন।

তিনি বলেন, সোমবার (১৩ মে) দিনাজপুর থেকে ট্রাকে করে ২৫১ বাক্স মৌমাছি নিয়ে রাজবাড়ীতে আসছিলাম। পথে রাজবাড়ীর মনষার বটতলা এলাকায় আসলে একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে আমাদের ট্রাকের সামান্য ঘষা লাগে। এ সময় প্রাইভেটকারের চালক পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে আমাদের ট্রাকের কাগজপত্র প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চেক করে। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে শায়েন্তাপুর গ্রামে এসে ট্রাক থেকে মৌমাছির বাক্স নামিয়ে দেখি আমার সব মৌমাছি মারা গেছে। এতে আমার পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমি পুলিশকে বলেছিলাম যে, আমার ট্রাকে বাক্সে মৌমাছি আছে। আমাকে একটু তাড়াতাড়ি ছেড়ে দেন। কিন্তু পুলিশ আমার কথা শোনেনি। আমার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান বলেন, মৌচাষিদের প্রশিক্ষণসহ সব বিষয় দেখার দায়িত্ব বিসিকের। যেহেতু উনি অন্য জেলার চাষি, সেহেতু উনি ওনার জেলার বিসিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহযোগিতা চাইতে পারেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত