জোয়ারে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত, বন্যপ্রাণীর প্রাণহানির শঙ্কা

আপডেট : ২৬ মে ২০২৪, ০৬:২৪ পিএম

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে অতি জোয়ারে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে বনের হরিণ, বানর, রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর প্রাণহাণির আশঙ্কা করছে বনবিভাগ। এছাড়াও বনের প্রাণিকুলের মিষ্টি পানির আধার শতাধিক পুকুর তলিয়ে গেছে। ফলে প্রাণিকুল ও বনকর্মীদের বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে দুই রেঞ্জ। শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জ। এই দুটি রেঞ্জের কটকা, কচিখালী, দুবলা, আলোরকোল, কেকিলমনি, হিরণ পয়েন্ট, মান্দারবাড়িসহ বনের বিভিন্ন এলাকায় বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ।

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে উপকূলীয় বাগেরহাটের প্রধান প্রধান নদনদীগুলোতে বিপৎসীমার উপর দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। নদীগুলোতে দুই থেকে পাঁচ ফুট পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান মোহাম্মদ আল-বিরুণী।

জোয়ারে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত।

সুন্দরবনের বনসংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দে বলেন, রিমাল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে পানির অস্বাভাবিক চাপ। আজ রবিবারের দুপুরের জোয়ারের পানি সুন্দরবনের সব নদনদীতে প্রবাহিত হয়। সেই পানির উচ্চতা ছিল পাঁচ থেকে আট ফুট পর্যন্ত। সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। বনের প্রাণীকুলের আবাসস্থল তলিয়ে যাওয়ায় প্রাণীর প্রাণহানির শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এছাড়া বনের মিষ্টি পানির একমাত্র আধার শতাধিক পুকুর তলিয়ে গেছে। বনকর্মী ও প্রাণিকুল ওই পুকুরের পানি পান করে থাকে। এতে করে মিষ্টি পানির একটা সংকট তৈরি হবে। দুর্যোগ চলে যাওয়ার পর প্রাণীকুলসহ অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত বলতে হবে। রাতের জোয়ারের পানির চাপ আরও বাড়লে কি হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ থাকবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত