৩০ জুনের মধ্যে পেনশন স্কিম প্রত্যাহারের আলটিমেটাম

আপডেট : ২৭ মে ২০২৪, ০৬:৪৯ এএম

সর্বজনীন পেনশন-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনকে বৈষম্যমূলক দাবি করে, সেটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এবার ৩০ জুনের মধ্যে পেনশন স্কিম (প্রত্যয়) প্রত্যাহারের আলটিমেটাম দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতারা। এর মধ্যে দাবি মানা না হলে আগামী ৪ জুন শিক্ষকরা একযোগে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন। এরপরও পেনশন স্কিম প্রত্যাহার করা না হলে ১ জুলাই থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

গতকাল রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এই আলটিমেটাম ঘোষণা করা হয়। মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য আগের পেনশন স্কিম চালু রাখা এবং পেশাগত সুযোগ-সুবিধাসংবলিত একটি স্বতন্ত্র বেতনকাঠামো প্রবর্তনের দাবি জানান। তারা বলছেন, এমন পেনশন স্কিম বৈষম্যমূলক এবং অগ্রহণযোগ্য; যা কার্যকর হলে আগামী দিনে মেধাবীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় আসার আগ্রহ হারাবেন।

মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষা খাতে বিনিয়োগকে সর্বশ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ বলে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি, বাজেটে শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষা খাতের বাজেটকে কাটছাঁট করা হচ্ছে। তাই শিক্ষকরা আজ পাঠদান ছেড়ে রাস্তায় আন্দোলনে নেমেছে। আমাদের দাবি পূরণ না হলে ২৮ মে সারা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একযোগে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করবেন। এ সময়ের মধ্যে দাবি না মানা হলে ৪ জুন সারা দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা একযোগে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন। এরপরও দাবি না মানা হলে পর্যায়ক্রমে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব।’

সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেন, ‘বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কলম-বই নিয়েই ক্লাসরুমে থাকতে চায়, কিন্তু আমাদের ওপর আরোপিত অন্যায় প্রজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য যে প্রত্যয় স্কিম আরোপ করা হয়েছে, তা আমাদের পারিবারিক সুরক্ষা নষ্ট করছে। এই প্রত্যয় স্কিমের ফলে মেধাবীরা আর শিক্ষকতা পেশায় আসতে আগ্রহী হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘দাবি না মানা হলে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে সব শিক্ষকের ম্যান্ডেট নিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। যদি ৩ জুনের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে আমরা ৪ জুন আবারও শিক্ষকরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অর্ধবেলা কর্মবিরতি পালন করব। তবে এসব কর্মসূচিতে পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। যেহেতু জুন মাসে বাজেট হবে, তাই আমরা জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করব। এ সময়ের মধ্যেও যদি দাবি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে আগামী ১ জুলাই থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।’

এদিকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, প্রতিশ্রুত সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তনের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষকরা।

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি তাদের নিজ নিজ ক্যম্পাসে এ কর্মসূচি পালন করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত