মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে ২০১৭ সালে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছিল। এখন সেই সেনাবাহিনীর পক্ষেই লড়তে বাধ্য করা হচ্ছে তাদের। এমনই অভিযোগ কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা বাসিন্দাসহ সংশ্লিষ্টদের।
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে বাস করা ছয় পরিবার এবং জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এএফপি৷
এতে বলা হয়, বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে সক্রিয় কয়েকটি সশস্ত্র গ্রুপ মিয়ানমারে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে লড়তে বাংলাদেশ থেকে কয়েকশ রোহিঙ্গা পুরুষ ও ছেলে নিয়োগ দিয়েছে৷
কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া সফুরা বেগম এএফপিকে বলেন, আমার ১৫ বছরের ছেলে আব্দুলকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঘর থেকে ধরে নিয়ে গেছে৷ তারা আমাকে তাদের হাতে তুলে দিতে বলেছে। তারা আমাদের হুমকি দিয়েছে। কিন্তু আমি চাইনি আমার ছেলে যুদ্ধে যাক৷ তবে আমরা সে সময় বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ছিলাম৷
এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করে এএফপিকে বলেন, আরসা আমার ২০ বছরের ছেলেকে সীমান্তের ওপারে যুদ্ধ করতে নিয়ে গেছে৷ শুনতে পেয়েছি আমার ছেলে যুদ্ধে আহত হয়েছে। তিনি বলেন, আমার ছেলেকে জোর করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর প্রতিদিনই আমাদের মানুষদের ধরে নিয়ে যাওয়া যুদ্ধের জন্য।
জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা এবং মানবাধিকার সংগঠনের এক কর্মকর্তাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশ থেকে কয়েকশ রোহিঙ্গা নিয়োগ দিয়েছে৷
বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরে সক্রিয় থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন' আরএসও বলছে, তারা লড়াইয়ের জন্য শরণার্থীদের নিয়োগ করেছে৷
আরএসওর রাজনৈতিক প্রধান কো কো লিন বলেন, আরাকান আর্মি আমাদের মানুষদের অত্যাচার ও খুন করেছে। তাদের একমাত্র নীতি রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে নির্মূল করা৷ তাই আমরা নিয়মিত রোহিঙ্গাদের নিয়োগ দিয়ে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছি৷
আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থু খা তিনটি সংগঠন- আরএসও, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন বা আরসা এবং আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি বা এআরএর- বিরুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন৷ তিনি বলেন, জান্তা বাহিনীর ‘পাশাপাশি লড়ার' আগে নিয়োগপ্রাপ্তদের মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ঘাঁটিতে নিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে৷
আবারও কি জেলে ফিরতে হবে কেজরিওয়ালকে
ট্রাম্প নিয়ে মুখ খুললেন সেই পর্ন তারকা