ঝড়-বৃষ্টি-রোদ সবকিছুতে আটকায় মেট্রোরেল

আপডেট : ৩০ মে ২০২৪, ০৯:২৯ পিএম

রাজধানীতে দিন দিন বাড়ছে মেট্রোরেলের চাহিদা। সড়কে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকায় মানুষের ভরসা এখন মেট্রোতে। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টি-রোদে হুটহাট মেট্রোরেল বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আধঘণ্টা বন্ধ ও পরে ১৫ মিনিট পরপর চলায় ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। প্রতিটি স্টেশনে যাত্রীদের উপচে পরা ভিড় দেখা গেছে। শধু আজই নয়, চলতি সপ্তাহে বেশ কয়েকবার মেট্রোরেল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল নানা কারণে।

মিরপুরের বাসিন্দা মো. নাইম মতিঝিলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন ৭ বছর ধরে। নাইম বলেন, মিরপুরে বাসা হওয়ায় দীর্ঘ ৭ বছর ধরে আমাকে প্রতিনিয়ত ২ ঘণ্টার বেশি সময় হাতে নিয়ে যানজট পাড়ি দিয়ে অফিসে যেতে হতো। কিন্তু বর্তমানে মতিঝিল থেকে উত্তরা পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল করায় ঘড়ির টাইম মেপে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে অফিসে চলে যাই। সম্প্রতি মেট্রোরেল হুটহাট বন্ধ হওয়ায় নির্দিষ্ট সময় অফিসে পৌঁছাতে পারছি না। বৃহস্পতিবার মিরপুর ১০ থেকে হাতে ৩০ মিনিটের মতো সময় রেখে স্টেশনে গেলাম। প্রথমে দেখি মেট্রো বন্ধ। তারপর আবার ১৫ মিনিট পর পর ট্রেন আসছে। এতে করে আমার অফিসে যাওয়া নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছে।

আরেক যাত্রী মো. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘গত সোমবার মিরপুর এলাকায় অনেক জায়গায় হাঁটু পানি ছিল। সেই সঙ্গে ছিল গাড়ি সংকট। বৃষ্টি থাকায় রিকশা ভাড়াও কয়েকগুণ বেশি। তাই মেট্রোয় যাতায়াতের জন্য দুপুরের দিকে পল্লবী স্টেশনে যাই। কিন্তু গিয়ে দেখি মেট্রো চলাচল বন্ধ। প্রয়োজনের সময় যদি মেট্রো ব্যবহার করতে না পারি তাহলে কী লাভ এই মেট্রো দিয়ে?’

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মো. রাজু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত শনিবার সন্ধ্যায় মোহাম্মদপুর থেকে জরুরি কাজে মতিঝিল যাওয়ার কথা ছিল। তাই মেট্রোরেলের ফার্মগেট স্টেশনে যাই। কিন্তু মেট্রো চলাচল বন্ধ থাকায় সেখানে ৩০ মিনিট বসে থাকতে হয়। এই যে হুটহাট মেট্রো বন্ধ হয়ে যায় এজন্য বড় রকমের সমস্যায় পড়তে হয়।’

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) মহাব্যবস্থাপক ইফতেখার হোসেন বলেন, ‘সকালের দিকে ১৫ মিনিট পরপর চলছিল মেট্রোরেল। পরে সকাল সোয়া ১০টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।’

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমটিসিএলের একটি সূত্র জানায়, হুটহাট মেট্রো বন্ধ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ আগের চেয়ে বেশি তৎপর হয়েছে। কারিগরি ত্রুটির জন্য মেট্রো চলাচল বন্ধ থাকলেও কিভাবে দ্রুত সমস্যা সমাধান করা যায় তা নিয়ে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।

মেট্রোরেল মানুষের জীবন যাত্রার মান অনেক দিক থেকেই পরিবর্তন এনেছে উল্লেখ করে বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, মানুষ কম সময়ের মধ্যে কোথাও যেতে চাইলে মেট্রোরেলে ভরসা করে। আর দিন দিন মেট্রোরেলের চাহিদা বাড়ছে। ঠিক এই সময়ের মধ্যে হুটহাট মেট্রোরেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা বিপাকে পড়ে যায়। যার জন্য নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে মেট্রোরেলে। তাই কর্তৃপক্ষের উচিত কোনো সমস্যা হলে দ্রুত সময়েল মধ্যে সমাধান করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত