নদী রক্ষা কমিশনকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ার দাবি সাবেক প্রতিমন্ত্রীর

আপডেট : ৩১ মে ২০২৪, ০৬:১১ এএম

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেছেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর সপ্তম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। আমরা ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় বলেছি, নদীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তাপমাত্রা কমাতে হলে জলাধার সৃষ্টি করতে হবে। পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে, ঢাকার তাপমাত্রাও বাড়ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনাল (সিপিআই) এবং ইউএসএআইডির যৌথ আয়োজনে সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ঢাকার পরিবেশ : পানি, বায়ু এবং শব্দদূষণ বিষয়ে নীতি, আইনি কাঠামো ও জনআকাক্সক্ষা’ শীর্ষক একটি নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ড. শামসুল আলম বলেন, আমাদের আইন, নীতি এবং কৌশলপত্র আছে, কিন্তু তার যথাযথ প্রয়োগ নেই। আইন এবং নীতি বাস্তবায়নে আমাদের কাজ করতে হবে এবং নদী বাঁচাতে হলে নদীরক্ষা কমিশনকে অবশ্যই বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের বেসরকারি উপদেষ্টা এমএস সিদ্দিকী বলেন, আমাদের পরিবেশ-নদীকে বাঁচাতে হলে অবশ্যই আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, আমাদের নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই তাদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন আনতে হবে। নদীদূষণের ফলে, বায়ু এবং শব্দদূষণের ফলে জাতীয় অর্থনীতি এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর যে প্রভাব পড়ছে তা অবশ্যই আমাদের বিবেচনায় নিয়ে আসতে হবে। রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ২০০৫ সাল থেকে শুরু করে ঢাকা ও ঢাকার আশপাশে যে শিল্পায়ন হয়েছে তার অধিকাংশ হয়েছে জলাধারের পাশে অথবা জলাধার ভরাট করে। এ সময় নীতি তৈরির মাধ্যমে পরিবেশ বিনষ্টের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়।

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ঢাকা শহরে সবচেয়ে বেশি শব্দদূষণ হয় জিরো পয়েন্ট এলাকায়, যা সচিবালয়ের একশ মিটারের মধ্যে। ঘূর্ণিঝড় রিমালের পর বায়ুদূষণের মাত্রা যতটা কমে এসেছিল সেই মাত্রায় আমরা কভিডকালীন লকডাউনের সময়ও দূষণ কমাতে পারিনি।

লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ল’র সহযোগী প্রভাষক গোলাম সারোয়ার বলেন, আইন তৈরি হয়েছে দূষণ বন্ধ করতে। কিন্তু আদতে একে পরিবেশ ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সংলাপে ঢাকার নদী বুড়িগঙ্গা, তুরাগ এবং বালু নদীপাড়ের নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বুড়িগঙ্গা নদী মোর্চার সদস্য ক্যামেলিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ সেলিম, এসএম জাহাঙ্গীর আদেল, ইশরাত জাহান লতা, উম্মে সালমা, মানিক হোসেন; বালু নদী মোর্চার নেতা ইসরাফিল হাবিব সুমন, আমজাদ হোসাইন, জান্নাতি আক্তার রুমা এবং তুরাগ নদী মোর্চার নেতা আমজাদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত