দীর্ঘদিন ধরে পায়ের পাতায় স্নায়ুর সমস্যায় ভুগছেন সাফজয়ী নারী ফুটবল দলের ফরোয়ার্ড কৃষ্ণা রানী সরকার। ফলে জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন না। সুচিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার অনুরোধ করেও যখন সাড়া পাননি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কাছ থেকে, তখন হতাশা প্রকাশ করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এতেই ক্ষুদ্ধ হয়েছে ফুটবল কর্তারা। কৃষ্ণাকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নারী ফুটবল কমিটির প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ।
দেশের নারী ফুটবল জাগরণে বড় ভূমিকা ছিল কৃষ্ণার। প্রায় এক দশক নানা বয়সভিত্তিক দল পেড়িয়ে তিনি নিয়মিত হয়েছিলেন জাতীয় দলে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কাঠমান্ডুতে সাফ জয়ের পর ফিরেই এক অপ্রচলিত চোটে আক্রান্ত হন কৃষ্ণা। খেলতে গেলেই পায়ের পাতায় ব্যথা অনুভূত হয় তার। এ নিয়ে দেশের বেশ কজন বিশেষজ্ঞকে দেখিয়েও লাভ হয়নি। এমনকি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী তাকে পর্যবেক্ষণ করে অস্ট্রেলিয়া কিংবা ভারতের মতো দেশে পাঠিয়ে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেন।
২১ মাসে বাফুফেকে অনেকবার তাগাদা দিয়েও দেশের বাইরে চিকিৎসার সুযোগ পাননি কৃষ্ণা। ব্যথা নিয়েই অবশ্য সদ্য সমাপ্ত নারী ফুটবল লিগে বেশ কটি ম্যাচ খেলেন। তবে জাতীয় দলের বন্ধ দরজা খোলেনি তার। গত ডিসেম্বরে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে দুই ম্যাচ সিরিজে ছিলেন দর্শক হয়ে। চীনা তাইপের বিপক্ষেও রাখা হয়নি তাকে।
সুচিকিৎসা না পাওয়া, জাতীয় দলের জার্সি জড়াতে না পারার হতাশা থেকে নিজের ফেসবুক পেইজে প্রায়ই হতাশার কথা তুলে ধরে পোস্ট দেন কৃষ্ণা। যেখানে চিকিৎসার ব্যাপারে বাফুফের উদাসীনতার বিষয়টি প্রকাশ পায়। একটা সময় নিজের ক্যারিয়ার নিয়েই শঙ্কার কথা প্রকাশ করে ফেলেন তিনি। এ সব চোখ এড়ায়নি বাফুফের কর্তাদের।
শুক্রবার এ নিয়ে কথা বলেছেন মহিলা কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ। তিনি বলেন, 'আমি জানি না একজন চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় এভাবে বলতে পারে কিনা। চোট পাওয়ার পর থেকে আমরা তাকে দেশের অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখিয়েছি। চোট থাকা সত্যেও তাকে আমরা চুক্তির তালিকায় রেখেছি। ভারতে নিয়ে যাতে তার চিকিৎসা হয় সে ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এর মধ্যে মিডিয়ায় কথা বলা কিংবা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার মাধ্যমে শৃঙ্খলা ভেঙেছে। ওকে তাই নিয়ম অনুযায়ী শোকজ দেওয়া হবে।'
এদিকে কৃষ্ণার এই পরিণতি মানতে পারেননি স্বেচ্ছায় বাফুফের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়া ডিফেন্ডার আঁখি খাতুন। ফেসবুক স্ট্যাটাসে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দুই বছর, এত দিন এত সময় এত চেষ্টা করলাম নিজের মুখ চেপে রাখার জন্য। কিন্তু আর পারলাম না। আমি খুবই হতাশ।’ এরপর বাফুফের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘ট্রফির পেছনে না ছুটে খেলোয়াড়দের ইনজুরি ঠিক করেন। ট্রফি এমনিতেই আসবে।’
পিংকির তৃতীয় ফিফটিতে শীর্ষে রূপালী ব্যাংক
'রিয়ালের ডিএনএ জিততে থাকা'
রিয়াল-ডর্টমুন্ডের আগের ১৪ লড়াইয়ে কে কবে জিতেছিল