পাওনা টাকা না পেয়ে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, বিষপানে আত্মহত্যা

আপডেট : ৩১ মে ২০২৪, ১০:৪৮ পিএম

পাওনা টাকা না দেওয়ায় কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলা সদরের এক গৃহবধূকে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার স্বামী বিষপানে আত্মাহত্যার চেষ্টা করেন। বিষপানের ঘটনায় স্ত্রী মারা গেলেও স্বামী বেঁচে আছেন।

গত বুধবার (২৯ মে)  দুপুরের দিকে উপজেলা সদরের  কলেজপাড়া এলাকায় নিজ স্বামীর বাড়িতে গৃহবধূ আত্মহত্যা করেন। এই ঘটনায় এখনো কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী জাহাঙ্গীর আলম ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংসারে অভাব অনটনের কারণে জহির মন্ডলপাড়া গ্রামের জয়নাল আলীর কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা ধার নেন জাহাঙ্গীর-আশা দম্পতি। কিন্তু ধারের টাকা নির্ধারিত সমযে়র মধ্যে পরিশোধ করতে না পারায় পাওনাদার টাকা চেয়ে বসে। কিন্তু টাকা নেই বলে জানান আশা খাতুন। তিনি বলেন, বর্তমানে টাকা নেই আর কিছুদিন পরে টাকাটা পরিশোধ করবেন। সময় মতো টাকা না দিতে পারায় আশা খাতুনকে অবৈধ সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়। পরে জয়নাল তার সাথে শুক্কুর আলী নামের একজনকে সাথে নিয়ে এসে জোর করে ধর্ষণ করেন তাকে। পরবর্তীতে তারা দুজন সোলেমান নামের আরেকজনকে সাথে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। সোলেমান গোপনে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ফলে তিনি অতিষ্ঠ হয়ে যান। স্বামী তার স্ত্রীর মুখে সবকিছু শুনে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে স্ত্রীর সাথে খারাপ আচরণ করেন। পরে স্বামী-স্ত্রী লজ্জায় ফসলে দেওয়া কীটনাশক পান করেন। পরে তাদের দুজনকেই স্থানীয়রা উদ্ধার করে রাজীবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিযে় যান। প্রাথমিক চিকিৎসায় জাহাঙ্গীর কিছুটা সুস্থ হলেও আশা খাতুনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে জামালপুর সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসক।

সেখানে তিনদিন চিকিৎসা গ্রহণের পর আশা খাতুনের অবস্থার আরও অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। কিন্তু পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে তাকে মময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে না নিয়ে স্বজনরা গত সোমবার (২৮ মে) রাতে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে গত বুধবার (২৯ মে)  দুপুর আনুমানিক ২টায়  আশা খাতুন  তার নিজ বাড়িতেই মারা যান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জয়নাল জানান, আমি কিছুই জানি না সব মিথ্যা কথা। তবে টাকা পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং ধর্ষণের ঘটনাটি অস্বীকার করলেও ২০ হাজার টাকা দিয়ে মীমাংসা করার বিষয়টি স্বীকার করেন।

রাজিবপুর সদর ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মিরর জানান, আমি ঢাকায়। সংঘবদ্ধভাবে গৃহবধূকে ধর্ষণের বিষয়টি শুনেছি। আমি স্থানীয় ইউপি সদস্যের খোঁজ খবর নিতে বলেছি। যারা অপরাধী তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

রাজীবপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান বলেন, নিহতের মামার তথ্যের ভিত্তিতে থানায় অপমৃত্যু ইউডি মামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। যেহেতু এই মৃত্যু নিয়ে অনেক কথা আসছে। তাই আমাদের তদন্ত অব্যাহত রযে়ছে। তদন্তে কিছু নেগেটিভ বেরিয়ে আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত