চাঁদের দুর্গম অংশে অবতরণ করেছে চীনের চন্দ্রযান

  • চীনের মহাকাশযানটি চাঁদের এক অনাবিষ্কৃত জায়গায় অবতরণ করেছে যেখানে আগে কেউ যায়নি
  • চাঁদের ওই অংশে অবতরণ খুব ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে মহাকাশযানের সাথে সহজে যোগাযোগ করা যায় না
আপডেট : ০২ জুন ২০২৪, ০১:১৫ পিএম

চাঁদের দূরবর্তী ও দুর্গম অঞ্চলে অবতরণ করেছে চীনের মনুষ্যবিহীন চন্দ্রযান। চায়না ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (সিএনএসএ) জানায়, স্থানীয় সময় রোববার (২ জুন) সকাল ৬টা ২৩ মিনিটে চাঁদের দক্ষিণ মেরু-আইটকেন অববাহিকায় অবতরণ করে চ্যাং'ই-৬।

গত ৩ মে প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দূরবর্তী অঞ্চল থেকে পাথর ও মাটির কিছু নমুনা পৃথিবীতে নিয়ে আসতে মনুষ্যবিহীন লং মার্চ-৫ রকেটে করে চন্দ্রযান ছ্যাং'এ-৬ উৎক্ষেপণ করে চীন।

রোববার এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স ও বিবিসি।

চীন সরকার জানিয়েছে, মহাকাশযানটি এমন এক অনাবিষ্কৃত জায়গায় অবতরণ করেছে যেখানে আগে কেউ যাওয়ার চেষ্টা করেনি। সেই জায়গাটি ‘সাউথ পোল এইটকেন বেসিন' নামে পরিচিত। ধারণা করা হয়, চাঁদ গঠিত হওয়ার শুরুর দিকে বিরাট কোন সংঘর্ষের ফলে সেখানে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছিল।

চাঁদের ওই অংশে অবতরণ করা খুব ঝুঁকিপূর্ণ কারণ সেখানে মহাকাশযানের সাথে সহজ যোগাযোগ করা যায় না। চীনই একমাত্র দেশ যারা এর আগে ২০১৯ সালে চ্যাং'ই-৪ অবতরণ করে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ সফল অবতরণের ঘটনাকে 'ঐতিহাসিক মুহূর্ত' বলে অভিহিত করেছে। তারা জানায়, রোববার সকালে চ্যাং'ই ল্যান্ডিং ক্রাফটটি চাঁদের মাটি স্পর্শ করার পর বেইজিং অ্যারোস্পেস ফ্লাইট কন্ট্রোল সেন্টারে করতালির ঝড় ওঠে।

চাঁদের মাটিতে মহাকাশযানটির অবতরণ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কারণ মহাকাশযানটি একবার চাঁদের দূরবর্তী প্রান্তে পৌঁছে গেলে সেখানে যোগাযোগ করা প্রায় অসম্ভব। নাসা বলছে, মহাকাশযানটির উচ্চ ঝুঁকি নিয়ে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে কাঙ্ক্ষিত উপকরণ সংগ্রহ করতে তিন দিন সময় লাগবে।

চাঁদ থেকে নমুনা সংগ্রহে এটি চীনের দ্বিতীয় মিশন। ২০২০ সালে চ্যাং'ই ৫ চাঁদের কাছাকাছি ওশেনাস প্রোসেলারাম থেকে ১.৭ কেজি নমুনা নিয়ে আসে। চাঁদে পানির সন্ধান এবং একটি স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের জন্য চীন এই দশকে আরও তিনটি মনুষ্যবিহীন মিশনের পরিকল্পনা করেছে। বেইজিংয়ের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে একজন চীনা নভোচারীকে চাঁদে পদচারণা করানো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত