ফ্যাশন ডিজাইনার হবেন

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৪, ০১:২৫ এএম

ফ্যাশন ডিজাইনিং সৃজনশীল কাজ। অনেকে চান ফ্যাশন ডিজাইনার হতে। ডিজাইনার হতে গেলে নিজস্ব কিছু গুণ আর দক্ষতা থাকা জরুরি। ফ্যাশন ডিজাইনাররা পোশাক থেকে শুরু করে জুতা, ব্যাগ, স্কার্ফ, গয়নার ওপর নকশা করে নান্দনিকতা ফুটিয়ে তোলেন। আবার চলমান ফ্যাশন ধারাকে, পোশাক বা অন্যান্য অনুষঙ্গে ফুটিয়ে তোলাও ডিজাইনের অংশ। লিখেছেন মো. মনিরুজ্জামান

কাজের ধরন

শুরুতে পোশাকের ধরন অনুযায়ী ডিজাইন করা হয়। কী ধরনের পোশাক তৈরিতে কী ধরনের কাপড় ব্যবহার করলে ভালো হবে সে জ্ঞান থাকা। কেমন পোশাক হবে নির্ধারণ করা। এর পাশাপাশি পোশাকের রং ও আনুমানিক খরচসহ বাজেট নির্ধারণ করা। নিত্যনতুন ফ্যাশন ট্রেন্ড সম্পর্কে ধারণা এবং সব কাজের তদারকি করা।

কোথায় পড়বেন

ফ্যাশন ডিজাইনার হতে হলে এ বিষয়ে পড়াশুনা করতে হবে। সাধারণত ৪ বছর মেয়াদি অনার্স বা ডিপ্লোমা কোর্স করলেই ডিজাইনার হিসেবে বিবেচিত হবেন।  দেশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে ফ্যাশন ডিজাইন পড়ার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আছে। এরমধ্যে পরিচিত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি, ঢাকা ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি, বিজিএমইএ ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি এবং শহীদ এস এ মেমোরিয়াল টেক্সটাইল ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেক্সটাইল কলেজে অনলাইনে ফ্যাশন ডিজাইন শেখার কোর্স আছে। চাইলে অনলাইনেও পড়তে পারেন দেশ ও বিদেশের অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে।

পড়ার খরচ ও যোগ্যতা

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গ্রাজুয়েশন করতে খরচ হবে ৩ লাখ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে খরচ ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। কেউ ধাপে ধাপে ফ্যাশন ডিজাইনিং শেখে, কেউ বা আবার নিজের মতো করে কাজ করতে করতেই শিখে যায়। আন্ডার গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের জন্য এসএসসি এবং এইচএসসি বা সমমান উভয় ক্ষেত্রে জিপিএ ন্যূনতম ২.৫০ (৫.০০ স্কেলে) থাকতে হবে। গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের জন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২.৫০ সিজিপিএ (৪.০০ স্কেলে)-সহ স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। এমএসসি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ও এমএসসি ফ্যাশন ডিজাইনে প্রাসঙ্গিক শাখার স্নাতক ডিগ্রি প্রয়োজন।

ফ্যাশন ডিজাইনার হতে

সেলাই জানা ও ধারণা থাকা হচ্ছে ফ্যাশন ডিজাইন পড়ার পূর্বশর্ত। সেলাইয়ের পাশাপাশি কাপড়ের প্রকারভেদ, ধরন ও ব্যবহার সম্পর্কে জানতে হবে। আরও জানতে হবে রঙের যাবতীয় খুঁটিনাটি। ট্রেন্ড সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। ফ্যাশনের বাজারে প্রতিযোগিতা চলে, কারণ মানুষের পছন্দ-অপছন্দ, রুচি খুব দ্রুত পরিবর্তন হয়। সেই অনুযায়ী কাজ করাটাও কঠিন। কাজেই ট্রেন্ড আর সময় দুটোর প্রতি ডিজাইনারকে সমানভাবে মনোযোগ দিতে হবে। এই পেশায় ছবি আঁকার দক্ষতা আর গ্রাফিক্স ডিজাইনে পারদর্শিতা থাকা জরুরি। গ্রাফিক্স ডিজাইনের টুলসগুলোর মধ্যে Adobe Illustrator, Adobe Photoshop, AutoCAD ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। শুধু সেলাই, রঙ, কাপড় আর ডিজাইনের জ্ঞান থাকলেই হবে না। বাজেট, মার্কেটিং এবং ডিস্ট্রিবিউশনের ব্যাপারগুলোও মাথায় রাখতে হবে। ওপরের সব বিষয় জানার পরও আপনি সফল হতে পারবেন না যদি না আপনি সৃজনশীল হন। আপনি যদি সৃজনশীল ও চিন্তাশীল না হন তাহলে ডিজাইনে বৈচিত্র্য সৃষ্টি করতে পারবেন না। নিত্যনতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করার জন্যও অনেক পরিশ্রম করতে হবে। ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের জন্য প্যাশন না থাকলে যতই শিখুন, লাভ নেই কোনো। ফ্যাশনকে ভালোবাসতে হবে, ক্রিয়েটিভ হতে হবে, রঙ নিয়ে খেলতে হবে, আঁকাআঁকি করতে হবে। তবেই সফল ফ্যাশন ডিজাইনার হতে পারবেন।

উপার্জন

যদি নিজের ফ্যাশন হাউজ তৈরি করেন, তাহলে শুরুতে উপার্জন কম হলে আস্তে আস্তে সফলতা পাবেন। আর যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ডিজাইনার হিসেবে কাজ করতে চান তাহলে শিক্ষানবিশ হিসেবে শুরুতে ১৫-২০ হাজার টাকা বেতন পেতে পারেন। যদি কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকে, তাহলে বেতন আরও বাড়বে।

কাজের পরিচিতি

নিজের ডিজাইন করা পোশাক বা অনুষঙ্গ ফেসবুক টাইমলাইনে বা ইনস্টাগ্রাম ফিডে পোস্ট করতে পারেন। জুতা বা গয়নার ওপর নিজের পছন্দমতো কারুকার্য করে সেটাও পোস্ট করতে পারেন। এভাবে ছোট ছোট কাজ দিয়ে শুরু করুন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি তৈরির পুরো প্রক্রিয়া ইউটিউবে ভিডিও আকারে আপলোড করেন। এতে করে আপনার কাজের পরিচিতি বাড়বে। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম বা টুইটারে আলাদা পেইজ বানিয়ে সেখানে আপনার ডিজাইনগুলো পোস্ট করতে পারেন। লিংকডইনের প্রোফাইল সঠিকভাবে তৈরি করতে পারলে পরিচিতি বাড়ানো সহজ হবে। নিজের কাজ নিয়ে একটা ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। এর মাধ্যমে সবাই আপনার কাজ সম্পর্কে জানতে পারবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত