২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোড়ি দাঁড়িয়েছিলেন দুই আসনে। গুজরাটের বদোদরায় তিনি জিতেছিলেন প্রায় ছয় লক্ষ ভোটে। কিন্তু এরকম বড় ব্যবধানেও জিতেও, বদোদরা ছেড়ে দেন মোদি। চলে গেলেন উত্তরপ্রদেশের গঙ্গাতীরে, কাশীতে। 'হিন্দুহৃদয়-সম্রাট' শিরোপায় নিজের অবস্থান শক্তপোক্ত করতে মোদি দাঁড়ান বারাণসী আসনে। বিপরীতে কড়া চ্যালেঞ্জ করতে প্রার্থী হন আম আদমি পার্টি প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিন লক্ষেরও বেশি ভোটে জিতেন মোদি। বারাণসী হয়ে ওঠে দেশের প্রধানমন্ত্রীর কেন্দ্র। ২০১৯-এও সেই ঝড় অব্যাহত। বারাণসীতে ব্যবধান বাড়িয়ে ৪ লক্ষ ৭৯ হাজার ৫০৫ ভোটে এসপির শালিনী যাদবকে পিছনে ফেলেছিলেন মোদি।
কিন্তু ২০২৪-এ কার্যত পুরোটাই উল্টো। বারাণসীতে মোদি এখনও অনেকটাই এগিয়ে আছেন বটে। কিন্তু ব্যবধান কমে এসেছে মাত্র এক লাখে!
২০২৪ ভোটে যে মোদি ঝড় অনেকটাই ফিকে হয়েছে, তার একটা ইঙ্গিত মিলেছিল আগেই। কার্যত সমস্ত বুথ-ফেরত সমীক্ষাকে মিথ্যা প্রমাণ করে দেশজোড়া ভাল ফল করেছে ইনডিয়া জোট। সেই হাওয়ায় এবার বিপাকে পড়লেন মোদিও। হারের সম্ভাবনা নেই। কিন্তু যেখানে আগের দুই দফায় তিন লক্ষের কাছাকাছি ভোটে জিতেছিলেন মোদি, সেখানে এই দফায় লোকসভা নির্বাচনের গণনা বলছে, মাত্র ১ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি পেয়েছেন ৬,০৮,২০১ ভোট। পাল্টা অজয় রাই পেয়েছেন ৪,৫৭,৭৭৮ ভোট।
যদিও মোদির জয়ের সম্ভাবনায় এখনও সেরকম চিন্তার জায়গা আসেনি। কিন্তু নিঃসন্দেহে যেখানে সারা দেশে ৪০০ পার করার ডাক দিয়েছিল বিজেপি, সেখানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর জয়ের ব্যবধান এরকম ভয়াবহভাবে কমে আসায় চিন্তা বাড়ছে গেরুয়া শিবিরে। সকালে সাড়ে ৯টার একটু পরে প্রথম রাউন্ডের গণনার শেষে সাময়িকভাবে পিছিয়েও পড়েছিলেন মোদি। দেশজোড়া জাতীয় সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে যায় সেটা। পরে অবশ্য সেই খামতি পুষিয়ে দেন মোদি।
স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যেখানে মাত্র দেড় লক্ষ ভোটে এগিয়ে, সেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী রাহুল গান্ধী রায়বরেলিতে কার্যত ঝড় তুলে দিয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রায়বরেলি থেকে ৪ লক্ষের বেশি ভোটে বিজেপির দীনেশ সিংহের এগিয়ে রয়েছেন রাহুল গান্ধী। সম্ভবত আর কিছুক্ষণের মধ্যেই রাহুলকে জয়ী ঘোষণা করা হবে। জয়ের খবর এসেছে অমেঠি থেকেও। স্মৃতি ইরানিকে হারিয়ে জিতে গিয়েছেন গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ কিশোরীলাল শর্মা। ওদিকে সুলতানপুর আসনে ১৯,০০০ ভোটে পিছিয়ে গিয়েছেন বিজেপির মানেকা গান্ধী।
বুথ ফেরত জরিপের সঙ্গে মিলছে না প্রকৃত হিসাব
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির স্বপ্ন ধূলিসাৎ