ভুল চিকিৎসায় শিক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৪, ০৭:০২ পিএম

ফেনী শহরের ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় আতিফ ইসলাম নিশান (১৩) নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মৃত নিশান নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার মোহাম্মদপুর পুর আনিছ হাফেজিয়া মাদ্রাসার হিফয শাখার শিক্ষার্থী ও একই উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ শহীদ উল্যাহর ছেলে।

মৃতের বাবা মোহাম্মদ শহীদ উল্যাহ বলেন, সোমবার বিকাল ৪টার দিকে আমার ছেলের গলার টনসিল অপারেশন করানোর জন্য ডা. কিশোর কুমার হালদারের পরামর্শে ওয়ান স্টোপস ক্লিনিকে ভর্তি করি। রাত ১১ টায় আমার ছেলের অপারেশন শেষ করে ডা.কিশোর কুমার হালদার ক্লিনিক ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে অ্যানেসথেসিয়ার ডাক্তার নাজমুল হক ভূঁইয়া আমাকে বলেন, আপনার ছেলের অপারেশন সাকসেসফুল। অপারেশন থিয়েটারে দিকে ক্লিনিক স্টাফরা ঘন ঘন প্রবেশ করার কারণে আমার সন্দেহ হয়। মূলত আমার ছেলেকে অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর সে আর চোখ খুলেনি। ভোর ৪টার দিকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আমাকে ডেকে বলে রোগীর অবস্থা ভালো না, দ্রুত রোগীকে কুমিল্লা বা চট্টগ্রাম নিয়ে যেতে হবে।

নিহত শিক্ষার্থীকে অপারেশন করা অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ও ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিকের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হক ভূঁইয়া বলেন, অপারেশনের জন্য নিশানের মৃত্যু হয়নি। অপারেশন করানোর সময়ে এ সকল রোগী হার্ট ফেইল করে মৃত্যু হয়। কুমিল্লা মর্ডাণ হাসপাতালের চিকিৎসকের দেওয়া মৃত্যুর সনদপত্রে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে হার্ট ফেইল করে শিশুর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কারণ তদন্তের মাধ্যমে বের হয়ে আসবে।

ডা. কিশোর কুমার হালদার বলেন, অপারেশান সফলভাবে সম্পূর্ণ করেছিলাম। কিন্তু রোগীর শারীরিক দুর্বলতার কারণে অ্যানেসথেসিয়ার পর হার্টবিট ও অক্সিজেন লেবেল কমে যায়। যার ফলে আর জ্ঞান ফিরে আসেনি। রোগীর অবস্থা ভালো না হওয়ায় দ্রুত রোগীকে কুমিল্লা বা চট্টগ্রাম নিয়ে যেতে পরামর্শ দিই।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে এসে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত