লক্ষ্যপূরণ নিয়ে শঙ্কায় পোশাক খাত

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৪, ০৯:৫৮ পিএম

ঈদের ছুটি নিয়ে বৈদেশিক রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণে শঙ্কায় দেশের তৈরি পোশাক খাত। চলতি অর্থবছরে পোশাক খাতে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এখনো প্রায় ৫ বিলিয়ন পিছিয়ে রয়েছে। মাস শেষে এই ঘাটতি পূরণ হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে পোশাক মালিকরা। আর এই শঙ্কা থেকে মুক্তি পেতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছে চিঠি দিয়েছে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ কনটেইনার শিপিং অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারস অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন বরাবর পাঠানো চিঠিগুলোতে কি চাওয়া হয়েছে?

চিঠিগুলোর মূল বিষয়বস্তু দেখা যায়, আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটির দিনগুলোতে যাতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল থাকে তা নিশ্চিত করা। আর এই সচল রাখতে গিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থাগুলোও যাতে সচল থাকে। এ বিষয়ে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রপ্তানীবাহী পণ্যগুলো যাতে সঠিকভাবে জাহাজীকরণ করতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য অফডকগুলোকে যেমন চালু রাখতে হবে। তেমনিভাবে ব্যাংক ও কাস্টমস অফিসকেও খোলা রাখতে হবে। অন্যথায় রপ্তানিবাহী পণ্যগুলো অফডক থেকে জাহাজীকরণের জন্য জেটিতে পৌঁছাবে না।’

দেশের ২১টি অফডকের মাধ্যমে শতভাগ রপ্তানীবাহী পণ্য জাহাজীকরণ হয়ে থাকে। গার্মেন্টস কারখানা থেকে জাহাজীকরণের উদ্দেশ্যে পণ্যগুলো অফডকগুলোতে পৌঁছে। আর সেখান থেকে জাহাজীকরণের জন্য প্রস্তুত করে সেগুলোকে বন্দরের জেটিতে পাঠানো হয়ে থাকে। এ বিষয়ে দেশের অফডকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, ‘আমাদের অফডকগুলো শুধুমাত্র ঈদের দিন ছাড়া সব দিন খোলা থাকে। তাই আমাদের কাছ থেকে রপ্তানিবাহী পণ্য জাহাজীকরণ হতে কোনো সমস্যা নেই। ঈদের ছুটিতে এজন্য পর্যাপ্ত জনবলও রাখা থাকে জরুরি কার্যক্রম শেষ করার জন্য।’

একই চিত্র চট্টগ্রাম বন্দরের ক্ষেত্রেও। চট্টগ্রাম বন্দর শুধুমাত্র দুই ঈদের দিন পণ্য হ্যান্ডেলিং কার্যক্রম বন্ধ রাখে। এ ছাড়া বছরের সব দিন চালু থাকে জানিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক বলেন, ‘অফডক থেকে পণ্য এলে জাহাজীকরণ করতে কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু ঈদের ছুটিতে দেখা যায় পরিবহন শ্রমিকরা না থাকার কারণে সঠিকসময়ে অফডক থেকে জেটিতে পণ্য আনা যায় না। তাই পরিবহনও ফ্যাক্টর।’

তবে আর্থিক বছরের শেষ মাস হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতার শঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে বিজিএমইএ’র সহসভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘চলতি অর্থ বছরে (জুনের মধ্যে) আমাদের ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। গত মে মাস পর্যন্ত আমরা প্রায় ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আহরণ করতে পেরেছি। এখন শেষ মাসে ঈদের বন্ধের কারণে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবো কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।’ তিনি আরো বলেন, এজন্যই সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছে আমরা চিঠি দিয়েছে ঈদের বন্ধের সময়ে যাতে সকল সেবা নিশ্চিত করা হয়।

ব্যবসায়ীদের এই শঙ্কা দূর করতে কাস্টমস থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের যুগ্ম কমিশনার নাজিউর রহমান মিয়া বলেন, ‘ঈদের বন্ধে কাস্টমস হাউস সচল রাখার জন্য নন মুসলিমদের ছুটি বাতিল করে ডিউটি করানো হয়। তাই আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত