গত আট মাস ধরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজাতে তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। উপত্যকাটির এমন কোন স্থান নেই যেখানে হামলা চালায়নি দখলদার দেশটির বাহিনীরা।
বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান এই যুদ্ধে বার বার ইসরায়েলিদের হামলার শিকার হয়েছে গাজার হাসপাতালগুলো। পরিণত হয়েছে ধ্বংসযজ্ঞে।
ইসরায়েলের দাবি গাজার হাসপাতালগুলো ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে হামাস, কিন্তু এ দাবি বরাবরই অস্বীকার করে আসছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠনটি। আর এই দাবির জোরেই গাজার হাসপাতালগুলোকে একে একে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনের প্রথম শিকার হয় গাজা উপত্যকার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল শিফা। যুদ্ধের আগে একসময় গাজা ভূখণ্ডের সবচেয়ে বড় এবং সর্বোত্তম আধুনিক চিকিৎসা সুবিধাযুক্ত হাসপাতাল ছিল এটি। কিন্তু গত আট মাসে ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা ও অভিযানে বর্তমানে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে আল শিফা।
ইসরায়েলের হামলা ও অভিযানের পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে এই হাসপাতাল থেকেই চারটি গণকবর আবিষ্কার করা হয়েছে যেখানে কয়েকশ মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি অনুসন্ধান দল।
ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের কর্মী, রামি দাবাবেশ মে মাসে বিবিসিকে জানান, “গণকবর থেকে পাওয়া বেশীরভাগ মরদেহেরই পচন ধরেছে এবং শনাক্ত করা যাচ্ছে না”।
তিনি আরও বলেন, "আমরা নারী, শিশু এবং মাথাবিহীন ব্যক্তিদের মৃতদেহ এবং শরীরের ভাগ ভাগ করা অংশ খুঁজে পেয়েছি।" তবে সিভিল ডিফেন্সের ফরেনসিক সরঞ্জাম এবং দক্ষতার অভাব থাকায় তারা দেহাবশেষ শনাক্ত ও নথিভুক্ত করার জন্য ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে।
ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক, ডক্টর মোহাম্মদ মুগির বিবিসিকে জানান, "কিছু মৃতদেহে মৃত্যুদন্ডের চিহ্ন, বাঁধার চিহ্ন, মাথায় গুলির চিহ্ন এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে।"
আল-শিফায় সম্প্রতি পাওয়া মৃতদেহগুলোর মধ্যে কিছু মৃতদেহ ইসরায়েলের সর্বশেষ সামরিক অভিযানের সময় মারা যাওয়া রোগীদের। অনুসন্ধানে জড়িত একজন প্যারামেডিক বলেন, কোন কোন মৃতদেহে ক্যাথেটার সংযুক্ত ছিল।
ইসরায়েল সেনাবাহিনী গত ১৮ মার্চ আল-শিফা হাসপাতালে অভিযান শুরু করে। তারা অভিযোগ করে, ওই হাসপাতালে হামাসের সদস্যরা লুকিয়ে আছেন। তাঁদের নির্মূল করতে এ হামলা। যদিও তাদের অভিযোগ অস্বীকার করেছে হামাস।
দুই দফা অভিযান ও ক্রমাগত হামলায় বর্তমানে আল-শিফা হাসপাতালটি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে জীবনের সব অনুভূতি ধ্বংস করে দিয়েছে তারা। হাসপাতালের বেশ কিছু ভবন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কংক্রিটের আস্তরণ। হাসপাতালটিতে বর্তমানে গণকবর আর মৃতদেহ ছাড়া কিছুই নেই।
মেক্সিকো সীমান্ত নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেন বাইডেন