লালমনিরহাটের আদিতমারীতে বস্তাবন্দি অবস্থায় স্কুল ছাত্র ফরহাদ মিয়া (১৬) নামের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বন্ধু মধু রায় (১৬) নামের এক কিশোরকে আটক করেছে আদিতমারী থানা পুলিশ।
উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের আরাজি দেওডোবা (শিববাড়ি) গ্রামের শাহাজান মিয়ার ছেলে ফরহাদ। ফরহাদ সারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেনীতে অধ্যয়ণরত ছিল। আর অভিযুক্ত মধু একই ইউনিয়নের রুহানিনগর এলাকার মৃত সুবাষ চন্দ্রের ছেলে।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহামুদ-উন-নবী বলেন, গত ৪ জুন সন্ধ্যা থেকেই নিখোঁজ ছিল ফরহাদ । নিখোঁজের ঘটনায় নিহতের বাবা শাহাজান থানায় একটি অভিযোগ করেন। তার দেয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মধুকে আটক করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু কিছুতেই মধু হত্যার বিষয়ে মুখ খুলছিল না। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে ফরহাদকে হত্যার কথা স্বীকার করে। মধুর দেয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক পুলিশ তার বাড়ি থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দা এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। এরপর তার দেখিয়ে দেয়া স্থান থেকে মধুর বাড়ির সন্নিকটে স্বর্নামতি নদীর ধারে একটি ডোবা থেকে ফরহাদের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, ফরহাদকে একটি ধান ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে মাদক সেবনের পর প্রথমে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর তার মরদেহটি বস্তায় ভরে ডোবাতে ফেলে দেয় মধু। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিলো কি-না সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
স্থানীয় একাধিক সুত্র জানায়, সম্প্রতি মধুর নিকট থেকে একটি পুরাতন মোটর সাইকেল কিনে নেয় ফরহাদ। এই মোটর সাইকেল কেনার পর থেকেই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। গত ৪ জুন মধুকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার জন্যই মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় ফরহাদ।
মরদেহ উদ্ধারস্থলে ভাদাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, এটি একটি নির্মম হত্যাকান্ড। দুই কিশোরের বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক এবং লেনদেনের কারণেই হত্যাকান্ডটি ঘটেছে বলে লোক মুখে শোনা যাচ্ছে। পুলিশি তদন্তে সব কিছুই পরিস্কার হবে আশা করছি।
মরদেহ উদ্ধারস্থল পরিদর্শন করেছেন লালমনিরহাট পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম।
