বাংলাদেশবিরোধী ‘কল্পনার ফানুস’ বাজেট

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৪, ০৭:০৩ এএম

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘বাংলাদেশবিরোধী’ দাবি করে একে ‘কল্পনার ফানুস’ বলে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপি নেতারা। গতকাল বৃহস্পতিবার বাজেটের ওপর দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন তারা। দলটির পক্ষ থেকে বাজেট বিশ্লেষণ করে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলে জানা গেছে।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘লুটেরাদের বাজেট তো, লুটের জন্যই হবে। এই বাজেটে আমি দেখতে পাচ্ছি, আবার নতুন করে লুট করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তথাকথিত বাজেটে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। যে জায়গায় আয়ের অংশ দেখানো হচ্ছে, তাতেও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়বে। আবারও ব্যয় মেটাতে যা করবে, সেখানেও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ পড়বে। এই বাজেটকে গণবিরোধী বলব না, এটা আসলে বাংলাদেশবিরোধী বাজেট হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিদেশ থেকে অনুদান বা ঋণ যাই বলেন, সবটাই সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে। মানুষ এই বোঝা টানতে টানতে আর পারছে না। একদিকে মুদ্রাস্ফীতি চরমভাবে বেড়ে গেছে। যেটা সাধারণ মানুষের নাগালে আর নেই। বিশেষ করে খাদ্যদ্রব্যের মূল্য একেবারে নাগালের বাইরে। কয়েক দিন আগে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। বাজেটে বাড়ায় আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়বে। কারণ আইএমএফের সঙ্গে যে চুক্তি, প্রতি বছর চারবার করে বাড়াতে হবে। বিদ্যুৎ খাতে যে চুরি হয়েছে, সেটা সবাই জানে। কুইক রেন্টাল, ভারতের আদানি থেকে বিদ্যুৎ আনা, সবগুলোতেই সরকারের পকেট ভারী হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রূপপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট কোথায়? পায়রা বন্দর কোথায় গেল? ফ্লাইওভার হচ্ছে। কিন্তু মানুষের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। মানুষ এখন শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছে। মানুষ আর পারছে না। গ্রামে গিয়েও বিপদে তারা। সেখানে কর্মসংস্থান নেই। এই বাজেটে এটাও একটা বড় দুর্বলতা। কারণ মানুষের কর্মসংস্থানের কোনো রাস্তা রাখা হয়নি। মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতির জন্য এই বাজেট।’

বাজেটে কালো টাকা সাদা করার ওপর ১৫ শতাংশ, আর বৈধ আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে, সাংবাদিকরা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এতে আবারও প্রমাণিত হলো যারা ন্যায়ের পথে চলে তাদের ওপর চাপ পড়ছে। যারা অন্যায়ের পথে চলে তাদের ওপর চাপ পড়ছে না। কীভাবে একজন সরকারি কর্মকর্তা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হন। কীভাবে সাবেক সেনাপ্রধান এত সম্পদ তৈরি করতে পারে? এমন হাজারো ঘটনা চারদিকে ঘটছে। মালয়েশিয়ায় শ্রমিক যেতে পারল না, এর জন্য কারা জড়িত। সরকারের চার থেকে পাঁচজন মন্ত্রী ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা বানিয়ে নিয়ে গেল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত