সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

'এই মাহমুদউল্লাহকে কদিন আগেই উপেক্ষা করার কথা ভাবছিল বাংলাদেশ!'

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৪, ০২:৫৩ পিএম

দাসুন শানাকার করা ১৯তম ওভারের শেষ বলে ২ রান নিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তারপর হাতের মুঠি শক্ত করে মৃদু উল্লাস প্রকাশ করেন। তারপর ড্রেসিং রুম থেকে দৌড়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। যে ছবি মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে। দুজনের অভিব্যক্তিই বলে দিচ্ছিল লঙ্কানদের বিপক্ষে এই জয় কতটা স্বস্তি দিচ্ছে বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমে।

বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সিরিজ হার বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস তলানিতে নামিয়ে দিয়েছিল। লঙ্কানদের বিপক্ষে খাঁদের কিনারা থেকে পাওয়া জয় বাংলাদেশের জন্য আরাধ্য এক স্বপ্ন জয়ের মতো। এই ম্যাচে ক্ষণে ক্ষণে ছিল নাটকীয়তা।

নায়কের ভূমিকায় ধাপে ধাপে হাজির হয়েছেন একেক জন। বল হাতে শুরুটা করেছিলেন তাসকিন আহমেদ। এরপর মাঝে রিশাদ হোসেন টানা দুই বলে উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে মোমেন্টাম পাইয়ে দিয়েছেন। এরপর ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতা। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে টানা তিন বলে ছক্কা মেরে বাংলাদেশকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন তাওহীদ হৃদয়।

এরপর আবারও দৃশ্যপট বদল। নুয়ান থুশারা টানা দুই বলে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে দিয়েছেন চোখ রাঙনি। তবে ঠান্ডা মাথার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বাংলাদেশকে হেরে যেতে দেননি। এমন অনেক ম্যাচে খাঁদের কিনারা থেকে বাংলাদেশকে জিতিয়েছেন তিনি। ডালাসে আবারও ত্রাণকর্তা হিসেবে হাজির হয়েছেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল।

তার ১৩ বলে ১৬ রানের ইনিংসে রুদ্ধশ্বাস এক জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ। অথচ এই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদই ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর নেতৃত্ব হারাতে হয়েছিল। ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাননি। ম্যাচ শেষে জনপ্রিয় ক্রিকেট বিশ্লেষক হার্শা ভোগলে মাহমুদউল্লাহকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। তিনি বেশ অবাকই হয়েছেন যে এই মাহমুদউল্লাহকেই বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিল বাংলাদেশ।

তিনি টুইটে লিখেছেন, 'বিশ্বাস হচ্ছে না বাংলাদেশ কয়েকদিন আগে মাহমুদউল্লাহকে উপেক্ষা করার কথা ভাবছিল।'

মাহমুদউল্লাহ বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযানে নিয়মিত সঙ্গীই। ২০০৭ থেকে ২০২১ পর্যন্ত—টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম ৭টি আসরেই বাংলাদেশ দলে ছিলেন। ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়নি। এরপর নিজেকে আরও শানিয়ে মাঠে ফিরেছেন এই ব্যাটার। চলতি বছর স্বপ্নের মতো ফর্ম কাটিয়েছেন তিনি। এবছর ১১ ম্যাচের ৮ ইনিংসে ব্যাটিং করে ১৯৩ রান করেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। গড় ৩৮.৬০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৪২.৯৬। তার পারফরম্যান্সই বলে দিচ্ছে হাল ছাড়ার পাত্র নন তিনি।

হার্শা প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তাওহীদ হৃদয়কেও। তিনি ২০ বলে ৪০ রানের ক্যামিও খেলে নজর কেড়েছেন এই ক্রিকেট বিশ্লেষকের। তিনি আরেক টুইটে লিখেছেন, 'তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাপারে অনেক কিছুই শুনেছি এবং তা অতিরঞ্জিত ছিল না। তাকে স্পেশাল খেলোয়াড় বলেই মনে হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের জন্য লিটন দাসের ফর্মে ফেরাটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আমি বিশ্বাস করি, সাদা বলে সে তাদের (বাংলাদেশ) সেরা ব্যাটার।' 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত