শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশ

অসহায় মফিজের চা স্টলে লাগানো তালা খুলে দিলেন ইউএনও

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৪, ০৪:৫৭ পিএম

দেড় সপ্তাহ আগে বৃদ্ধ মফিজ উদ্দীন ও ফজিলা বেগম দম্পতির একমাত্র উর্পাজনের অবলম্বন চায়ের দোকানে তালা দেন আওয়ামী লীগ নেতা ও বাজার কমিটির সভাপতি। ক্ষমতার জোরে বৃদ্ধ দম্পতির টিনের ছাপড়া চায়ের দোকানের দখল নিতে এ তালা দেন আওয়ামী লীগ নেতা। এরপর দোকান থেকে তাদের বের করে দেওয়া হয়। ছেলে সন্তানহীন মফিজ উদ্দীন ও ফজিলা বেগম তাদের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। রোজগারের একমাত্র অবলম্বন চায়ের দোকান ফিরে পেতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন মফিজ উদ্দীন ও ফজিলা বেগম। ওই নেতার ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি।

তবে আজ শনিবার (৮ জুন)  দুপুরে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দাঁড়িয়ে থেকে মফিজ উদ্দীনের চায়ের দোকানের তালা খুলে দিয়েছেন। এ সময় চা বিক্রেতা মফিজ উদ্দীন খুশিতে কান্না করে ফেলেন। এর আগে ইউএনও বৃদ্ধ মফিজ উদ্দীনের জরাজীর্ণ বাড়িতে যান। সেখানে মফিজের অসুস্থ স্ত্রীর খোঁজ খবর নেন। পরে তাদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন। তাদের জরাজীর্ণ বাড়ির ব্যাপারেও সহযোগিতার আশ্বান দেন ইউএনও।

গত ২৯ মে বিকালে গাজীপুরের শ্রীপুরের গোসিংগা ইউনিয়নের মাছ মহল এলাকায় মফিজের চায়ের দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেন বাজার কমিটির সভাপতি ও আ.লীগ নেতা বোরহান উদ্দীন মোড়ল। পরে অসহায় মফিজ উদ্দীন বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেন তাদের চায়ের দোকানটি ফিরে পেতে। একপর্যায়ে উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছেও অভিযোগ দেন তিনি।

এ বিষয়ে গতকাল ৭ জুন ‘রোজগারের চা স্টলে তালা-অসহায় মফিজ ফজিলা’ শিরোনামে দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এ সংবাদটি ইউএনও’ র নজরে আসলে সরেজমিন গিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে অসহায় চা বিক্রেতা মফিজের দোকানের তালা খুলে দেন। এ সময় মফিজকে কোনো প্রকার হয়রানি না করার নির্দেশ দেন বাজার কমিটিকে। দুপুরের পর পর মফিজ তার চায়ের দোকানে ফের চা বিক্রি শুরু করেন।

অভিযুক্ত আ.লীগ নেতা ও বাজার কমিটির সভাপতি বোরহান উদ্দীন মোড়ল বলেন, ইউএনও’র নির্দেশে মফিজের চা স্টলের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে।

চা বিক্রেতা মফিজ উদ্দীন বলেন, দুপুরে তার চা স্টলের তালা খোলা হয়েছে। দেড় সপ্তাহ পর চা দোকানটি খোলা হলো। 
ইউএনও দাঁড়িয়ে থেকে আমার দোকানে তালা খুলে দিয়েছেন। তিনি আমার অসুস্থ স্ত্রীকে দেখে গেছেন। আল্লাহ তার হায়াত দান করবেন।  

স্থানীয় ইউপি সদস্য (৭ নম্বর ওর্য়াড) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুপুরে ইউএনও নিজে দাঁড়িয়ে থেকে অসহায় মফিজের চা স্টলের তালা খোলার ব্যবস্থা করেন। এ সময় বাজার কমিটির সভাপতি বোরহান মোড়লও উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শোভন রাংসা বলেন, অসহায় বৃদ্ধ চা বিক্রেতা মফিজ উদ্দীনের আয়ের একমাত্র অবলম্বন তাদের চা স্টলে লাগানো তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। যারাই ক্ষমতার জোরে এমন অমানবিক কাজ করেছে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন কোনো প্রকার হয়রানি না করা হয় মফিজ উদ্দীন ও তার স্ত্রীকে। তারা তাদের এ চা স্টল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করবে। তিনি বলেন, তাদের জরাজীর্ণ বসত বাড়ির ব্যাপারেও কী কী সহযোগীতা করা যায় তাও চিন্তা করা হচ্ছে। আশা করি একটি সমাধান হবে।
  

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত