শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ঢামেকে রোগীর সংখ্যায় বিস্মিত জাপানের রাষ্ট্রদূত

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৪, ১০:৫৯ পিএম

ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জাপানি রাষ্ট্রদূত ইউয়ামা কিমিনোরি। সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেনের সাথে এই হাসপাতাল পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রদূত। এ সময় রাষ্ট্রদূত কম জনবল ও সক্ষমতা নিয়ে এত বিপুল সংখ্যক রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনারও প্রশংসা করেন।

আজ শনিবার (৮ জুন) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাথে জাপান বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (জেবিএমএ) এক সমঝোতা স্মারক স্মাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই তথ্য জানান।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জাপানের রাষ্ট্রদূত আমার সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন। এ সময় এই হাসপাতালের এতো সংখ্যক রোগী দেখে তিনি যথারীতি অবাক হয়েছেন। জাপানের রাষ্ট্রদূত আমার কাছে জানতে চেয়েছেন অল্প সক্ষমতা ও এই জনবল দিয়েও আমরা কীভাবে এতো সুন্দর চিকিৎসা সেবা পরিচালনা করছি। এসময় তিনি আমাদের চিকিৎসকদেরও প্রশংসা করেছেন।

‘আমরা তাকে জানিয়েছি যে, আমাদের অসংখ্য প্রশিক্ষিত চিকিৎসক আছে, যাদের অনেকেই ঢাকার বাইরে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। আমাদের এই চিকিৎসকরা জাপান সরকারের সহযোগিতা পেলে আরও অনেক এগিয়ে যাবে’- বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

জাপানে বিএসএমএমইউ চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের সুযোগ: 

এখন থেকে প্রতিবছর বিএসএমএমইউর চিকিৎসকরা জাপানে ফেলোশিপ ট্রেনিংয়ের সুযোগ পাবেন। আর এই ট্রেনিংয়ের সকল ব্যয়ভার বহন করবে জাপান বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন। শনিবার দুই পক্ষের মধ্যে এ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন ও জাপানি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত ইউয়ামা কিমিনোরি উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মোঃ নূরুল হক।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে প্রতিবছর বিএসএমএমইউ এর ক্লিনিক্যাল ডিপার্টমেন্টের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের চিকিৎসকরা জাপানের একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিন থেকে ছয় মাসের উচ্চতর ফেলোশীপ ট্রেনিংয়ের সুযোগ পাবেন।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের খুবই ভালো সম্পর্ক। তারা বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। সাসাকা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশি চিকিৎসকদের স্কলারশিপও দিয়ে থাকে। আমরা চাই চিকিৎসা খাতে জাপানের সঙ্গে আমাদের এই সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত থাকুক। জাপান বিশ্বের অন্যতম উন্নত রাষ্ট্র। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে তারা অনেক বেশি এগিয়ে।

অনুষ্ঠানে বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, দেশের অসংখ্য চিকিৎসক জাপানে স্কলারশিপে প্রশিক্ষণে যায়। আমরাও বিএসএমএমইউর পক্ষ থেকে জাপানের এসব প্রশিক্ষণ ও স্কলারশিপে জোরালোভাবে অংশগ্রহণ করতে চাই। সেই লক্ষ্যেই তাদের সাথে আমাদের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর। আমরা আশা করছি, চিকিৎসা সেবা ও প্রশিক্ষণে সবসময় জাপান আমাদের পাশে থাকবে। এমনকি বিএসএমএমইউ বাংলাদেশে স্মার্ট হেলথ সিস্টেমের জন্য কাজ করছে, আমরা চাই আমাদের এই কর্মযজ্ঞেও জাপান আমাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করুক।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এর আগে ২০১৯ সালের ২৯ মে জাপানের রাজধানী টোকিওতে বাংলাদেশে অগ্নিদগ্ধ রোগীদের উন্নত চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্মারকলিপি পেশ করেছিলেন জাপান বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের (জেবিএমএ) ভাইস-প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. হিরোয়ুকি সাকুরাই। জেবিএমএ ২০১৩ সাল থেকে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেনের উদ্যোগে প্রতিবছর বাংলাদেশে বার্ন ও প্লাস্টিক সাজর্নদের জাপানের চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর ফেলোশীপ ট্রেইনিং এর ব্যবস্থা করে আসছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে এখন থেকে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জনদের পাশাপাশি অন্যান্য ক্লিনিক্যাল বিষয়ের বিশেষজ্ঞরাও উচ্চতর ফেলোশীপ এর সুযোগ পাবেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত