শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এবার বেনজীরের রিসোর্টের মাছ চুরি করে বিক্রির চেষ্টা

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৪, ০২:২৫ এএম

আদালতের আদেশে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ করা হয়। এসব সম্পদ দেখভালের জন্য রিসিভার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় গত শুক্রবার দুপুরে গোপালগঞ্জে বেনজীরের সাভানা ইকো রিসোর্টের পুকুরের মাছ চুরি করে বিক্রির চেষ্টা চালানো হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি টের পেয়ে গতকাল শনিবার সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় ৫৯২ কেজি মাছ জব্দ করা হয়; যা ম্যাজিস্ট্রেট ও স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে নিলামে ৮৩ হাজার ৭৫৪ টাকায় বিক্রি করা হয়। এ ঘটনায় গোপালগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে।

এদিকে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের মালিকানায় থাকা সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কের রিসিভার নিয়োগ করা হয়েছে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনকে। গতকাল সকালে জেলা প্রশাসন পার্কের দায়িত্ব বুঝে নেয়।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের গত ২৩ মের আদেশে সাভানা ইকো রিসোর্টের সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছে। ওই সম্পদ পরিচালনার জন্য রিসিভার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় রিসোর্টের মধ্যে থাকা পুকুরের মাছসহ বিভিন্ন সম্পদ চুরি করে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছে বেনজীরের অনুসারীরা। শুক্রবার রিসোর্টের মৎস্য হ্যাচারি কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরার সময় দুদক বিষয়টি জানতে পারে। পরে দুদকের গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম গতকাল রিসোর্টে  অভিযান চালায়। দুদক টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে বেনজীরের লোকজন পালিয়ে গেলেও জেলেরা ধরা পড়ে। তারা দুদক টিমের জিজ্ঞসাবাদে জানায়, রিসোর্টের মৎস্য হ্যাচারি কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম তাদের মাছ ধরতে নিয়ে আসেন। দুদক টিম বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে জানালে কর্র্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। মাছ পচনশীল হওয়ায় দুদক টিম স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সহযোগিতায় মাছের জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে। এরপর জব্দ করা ৫৫৫ কেজি তেলাপিয়া এবং সাড়ে ৩৭ কোজি কাতলাসহ মোট ৫৯২ কেজি মাছ মৎস্য ব্যবসায়ীদের কাছে নিলামে ৮৩ হাজার ৭৫৪ টাকায় বিক্রি করা হয়। মাছ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমার জন্য উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এসএম জিল্লুর রহমান রিগানের জিম্মায় রাখা হয়। মাছ চুরির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় দুদকের সহকারী পরিচালক সোহরাব হোসেন সোহেল বাদী হয়ে গতকাল গোপালগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।

সাভানা রিসোর্টের নিয়ন্ত্রণ নিল জেলা প্রশাসন : রিসিভার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর গতকাল বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের মালিকানায় থাকা সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন। এখন থেকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী, পার্কের যাবতীয় কার্যক্রম চলবে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন এবং দুদকের গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরের দুটি দল পার্কে অবস্থান নেয়। তারা রিসোর্টের নিয়ন্ত্রণ বুঝে নেয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পার্কের প্রধান ফটকের পাশে মাইকিং করে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

জানা গেছে, ২০১৫ থেকে ২০২০ সালে র‌্যাবের মহাপরিচালক এবং ২০২০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত আইজিপি থাকাকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৈরাগীটোল গ্রামে সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্ক গড়ে তোলেন বেনজীর আহমেদ। এই পার্কের জমির প্রায় সবই স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়কে ভয় দেখিয়ে, জোর করে এবং নানা কৌশলে কেনা বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার অনেকের জমি দখল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত