বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ঢামেকে চোর সন্দেহে যুবককে পেটাল আনসার সদস্যরা

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৪, ১১:৩৭ পিএম

চোর সন্দেহে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক যুবককে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছেন আনসার সদস্যরা। আহত ওই যুবককে তারাই চিকিৎসা করিয়েছেন। পাশাপাশি এই ঘটনায় এক আনসার সদস্যও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আজ রবিবার বিকেলে হাসপাতালটির নতুন ভবনের ষষ্ঠ তলায় এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ওই যুবকের নাম সানজু (৩০)। থাকেন রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর রনি মার্কেট এলাকায়। হাসপাতালটির ষষ্ঠ তলায় কিডনির সমস্যা নিয়ে ভর্তি আছেন তার মামা ডালিম (৬০)।

আহত সানজু অভিযোগ করেন, তার মামা ডালিম (৬০) হাসপাতালটির নতুন ভবনের একটি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। বিকেলে তিনি মামাকে দেখতে হাসপাতালে আসেন। তবে সেই ওয়ার্ড ও বেড নাম্বার তার জানা ছিল না। সেজন্য ভবনটির ৭ম তলার ওয়ার্ডে ঘোরাঘুরি করে রোগী খুঁজছিলেন। তখন সেখানকার স্টাফরা এবং জহিরুল ইসলাম নামে এক আনসার সদস্য তাকে চোর সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদ করে। নিজেকে রোগীর স্বজন দাবি করে এবং রোগী দেখাতে তখন তিনি ওই আনসার সদস্যকে নিয়ে ষষ্ঠ তলায় নামেন। সষ্ঠ তলায় তার স্বজনের সাথে দেখা হলে পরে সেই স্বজনের সামনেই আনসার সদস্য জহিরুল এবং তার মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তাকে আনসার সদস্য জহিরুল বেধড়ক মারধর করেন। এরপর জহিরুল তাদের সহকর্মীদের ফোনে ডেকে আনেন। তাকে টেনে হিচড়ে লিফটে করে নিচে নামিয়ে সেখানেও তাকে মারতে থাকেন আনসারের টহল টিমের বেশ কয়েকজন সদস্য।

আহত সানজুর ভগ্নিপতি মো. লোকমান জানান, নতুন ভবনের ওয়ার্ডে যখন নিজের রোগী খুঁজে পাচ্ছিলেন না সানজু, তখন তাকে আনসার সদস্যরা বলে, তোর রোগী নাই, তুই মোবাইল চুরি করতে এসেছিস। এটি বলার পর দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায়ে আনসারের ওই সদস্য এবং তার সহকর্মীরা মিলে তাকে মারধর করেন। স্বজনদের সামনেই তাকে এলোপাতারি মারার পর পরবর্তীতে আনসার সদস্যরাই জরুরি বিভাগের সার্জারির ৭ নম্বর রুমে চিকিৎসা করান।

তিনি বলেন, রোগী দেখতে এসেছিল আমার ভাই। আর তাকে মোবাইল চোর সন্দেহে এভাবে মারধর করেছেন তারা। আনসার সদস্যদের কি কারো শরীরে হাত তুলার অধিকার আছে? আমার ভাইকে যারা মেরেছে, আমি তাদের শাস্তি দাবি করছি।

অভিযুক্ত আনসার সদস্য জহিরুল ইসলাম দাবি করেন, নতুন ভবনের ৭০১ নম্বর ওয়ার্ডে সন্দেহজনকভাবে ঘুরাফেরা করছিলেন ওই যুবক। তার রোগী আছে বলে তখন দাবি করে সে। তবে রোগী দেখাতে পারছিলেন না। এজন্য সেখান থেকে তাকে ৬ষ্ঠ তলায় নামানো হয় রোগী দেখানোর জন্য। সেখানে তার এক স্বজনকে পাওয়ার পর হঠাৎ তিনি আনসার সদস্যর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে যান। খুব বাজে ভাষায় গালাগালি করতে থাকেন আনসার সদস্য জহিরুলকে। এক পর্যায়ে জহিরুল তাকে একটি চড় মারেন। তখন দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

রোগীর স্বজনকে আনসার সদস্যের মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আনসারের প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তিনি জানেন না। একটি মিটিংয়ের জন্য তিনি হাসপাতালের বাইরে ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত