সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বন্ধকী জমি বিক্রি করে জনতা ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করবে এননটেক্স গ্রুপ

আপডেট : ১০ জুন ২০২৪, ১২:০৭ পিএম

বন্ধকী জমি বিক্রির মাধ্যমে আগামী দুই বছরের মধ্যে জনতা ব্যাংকের পাওনা ৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা পরিশোধ করবে রপ্তানীমুখী প্রতিষ্ঠান এননটেক্স গ্রুপ। ব্যাংক, ঋণগ্রহীতা ও ক্রেতা তিন পক্ষের মধ্যে চুক্তির ভিত্তিতে ভেঙে ভেঙে কিংবা একসঙ্গে পুরো জমি বিক্রির টাকা জনতা ব্যাংকের এননটেক্স হিসাবে জমা থেকে দুই বছরের মধ্যে পাওনা টাকা আদায় করা হবে। জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। দেশাত্মবোধ ও অর্থনীতির স্বার্থে এননটেক্স জনতা ব্যাংকের সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে বলে জানিয়েছে। 

এননটেক্সথব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এননটেক্স গ্রুপের ১৮টি প্রতিষ্ঠানের কাছে ২০২২ সালের নভেম্বর পযর্ন্ত আদায়কৃত আরোপিত, অনারোপিত সুদসহ ব্যাংকের পাওনা ছিল ৮ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা। ওই সময় পর্যন্ত সুদের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা পরবর্তীকালে এককালীন ঋণ পরিশোধ সুবিধার (ওয়ান টাইম এক্সিট) আওতায় ৩ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা সুদমওকুফ করে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। সুদ মওকুফ-পরবর্তী ৪ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করার শর্ত দেওয়া হয়। তাতে ব্যর্থ হয় এননটেক্স গ্রুপ। নতুন করে সুদ যোগ হয়ে এখন এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকের পাওনা দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৯৬০ কোটি ৭৭ লাখটাকা। গ্রাহকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময় দিল ব্যাংক।

এ্যাননটেক্স ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পর এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি ২৩ লাখ টাকারও বেশি পরিশোধ করেছে। ২০১৪ সালে এ্যাননটেক্স গ্রুপ জনতাব্যাংককে ১৯২ কোটি টাকা পরিশোধ করে। এরপর ২০১৫ সালে ২৩৬ কোটি, ২০১৬ সালে ২৯৬ কোটি, ২০১৭ সালে ৩৪২ কোটি ও ২০১৮ সালে ২৮৬ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে গ্রুপটি। ২০১৯ সালে নানা বিতর্ক সত্ত্বেও ও ৮৬ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে এননটেক্স। আর ২০২১ সালে পরিশোধ করেছে প্রায় ৮৭ কোটি টাকা।
 
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০২১ পর্যন্ত নিয়মিত ঋনের টাকা পরিশোধ করেছে কিন্তু করোনা মহামারীতেও প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানীমুখী বাণিজ্য সচল রেখেছিলো এ্যাননটেক্স গ্রুপ। কিন্তু পরবর্তীতে ইউক্রেন যুদ্ধপরিস্থিতিতে ডলার সংকটে কাঁচামাল আমদানী না করতে পারার প্রভাব পড়ে। বিশ্বের অন্যান্য বাণিজ্যের মতো ধাক্কা নামে প্রতিষ্ঠানটিতেও। এ বাস্তবতায় ঋণের টাকা আদায়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নেয়, সুদ মওকুফ বহাল রেখে আদায়যোগ্য দায় ৪ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা নির্ধারণ করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার। এ জন্য গত ৩০ মার্চের মধ্যে ৩০ কোটি জমা দিতে বলা হয় গ্রুপটিকে। তবে গ্রুপটি এখনো সেই টাকা জমা দিতে পারেনি। নতুন করে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। 

ব্যাংক সূত্র বলছে, আশুলিয়া ও টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন প্রায় ১২৮ একর জমি ব্যাংকের কাছে বন্ধক রয়েছে। উত্তরা দিয়াবাড়ি, মেট্রোরেল প্রকল্প, সম্প্রসারিত টঙ্গী মেট্রোরেল, বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট, আশুলিয়া এক্সপ্রেস্ওয়ে, বিজিএমইএ এর ফ্যাশন ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালেয়র মূলক্যাম্পাস পাশ্ববর্তী হওয়ায় এননটেক্সের জমির দাম তার কেনা দামের পাঁচগুণবেশি দামে এরই মধ্যে কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে বেশ কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অবহিত রয়েছে বলেও জানিয়েছে ব্যাংক।

জানতে চাইলে এননটেক্স গ্রুপের মালিক মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, জনতা ব্যাংকে ঋণের বিপরীতে তাদের বিশাল জায়গা-জমি বন্ধক দেওয়া আছে; যার বাজারমূল্য ব্যাংক ঋণের চেয়ে অনেক বেশি। ব্যাংক মনে করেছে জমি বিক্রি করে ঋণ শোধ করা যাবে। তাই ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে জমি বিক্রিতে তাদের আপত্তি নেই। তিনি ব্যাংকের টাকা দ্রুত পরিশোধ করে দিতে চান। পুরোপ্রক্রিয়া শেষ করতে হয়তো বছর দুয়েক লাগবে। জমি বিক্রির টাকায় প্রথমে ব্যাংকের ঋণ শোধ হওয়ার পর বাকিটা তিনি পাবেন। মোহাম্মদ ইউনুস আশাপ্রকাশ করে বলেন, ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংক-ঋণগ্রহীতা ও ক্রেতাউভয়ই লাভবান হবে-সেই সাথে দেশের অর্থনীত্ওি হবে সমৃদ্ধ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত