সাবেক স্পিডস্টার শোয়েব আখতারের মতে সুযোগটা হেলায় হারিয়েছে পাকিস্তান। সুলতান অব সুইংখ্যাত ওয়াসিম আকরাম শুধু সমালোচনাতেই থেমে থাকেননি। সঙ্গে ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন। চিহ্নিত করেছেন মোহাম্মদ রিজওয়ানদের ‘রোগ’ ঠিক কোন জায়গায়। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যানও মুখ বন্ধ রাখতে পারেননি। নতুনদের সুযোগ দেওয়ার সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। পাশাপাশি ক্রিকেটারদের রোগের সার্জারি করার পরিকল্পনার কথাও জানান।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ধারাভাষ্যকারের দায়িত্বের সূত্রে কাল মাঠে বসেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখেছেন আকরাম। দেখেছেন ৪৪ বলে ৩১ রান করে রিজওয়ান কীভাবে যশপ্রীত বুমরাকে আড়াআড়ি খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন।
এ নিয়ে ম্যাচ শেষে স্টার স্পোর্টসে বিরক্তিই প্রকাশ করেছেন আকরাম, ‘ওরা ১০ বছর ধরে ক্রিকেট খেলছে। আমি তো ওদের শেখাতে পারব না। রিজওয়ানের মধ্যে কোনো গেম অ্যাওয়ারনেসই (ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝা) নেই। তার জানার কথা বুমরার হাতে বল তুলে দেওয়া হয়েছে উইকেটের জন্য। ওই সময় বুমরাকে সতর্কতার সঙ্গে খেলাটাই হতো বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু রিজওয়ান বড় শট খেলতে গেল এবং আউটও হলো।’
পাকিস্তান দলের যারা বড় শট খেলতে পারেন, তাদের অন্যতম ফখর ও ইফতিখার। ফখর এক ছয় এক চারে ৮ বলে ১৩ রান করে হার্দিক পান্ডিয়াকে ওড়াতে গিয়ে ঋষভ পন্তের হাতে ক্যাচ দেন। আর ইফতিখার ১৯তম ওভারে বুমরার ফুলটস বলে ক্যাচ তোলেন। এ দুজনের মধ্যে ইফতিখারের তীব্র সমালোচনা করেছেন আকরাম, ‘ইফতিখার আহমেদ লেগ সাইডে একটা শটই (খেলতে) জানে। সে কয়েক বছর ধরে দলের অংশ, কিন্তু কীভাবে ব্যাট করতে হয়, জানে না। আর ফখরের গেম অ্যাওয়ারনেস নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।’
আকরাম কথা বলেছেন পাকিস্তান দলের খেলোয়াড়দের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিয়েও। বিশেষ করে বাবর আজম ও শাহিন আফ্রিদির মধ্যে নেতৃত্ব কেন্দ্র করে যে মানসিক লড়াইয়ের গুঞ্জন শোনা যায়, সেটি উঠে এসেছে আকরামের কথায়, ‘খেলোয়াড়েরা একে অপরের সঙ্গে কথা বলে না। এটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, আর আপনি দেশের হয়ে খেলছেন। এ ধরনের খেলোয়াড়দের দেশে বসিয়ে রাখুন।’
খেলোয়াড়দের সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি পাকিস্তান ক্রিকেটের একটি প্রবণতাও তুলে ধরেছেন আকরাম। ব্যর্থতার জন্য খেলোয়াড়েরা কমই ভোগেন বলে দাবি তার, ‘পাকিস্তানি খেলোয়াড়েরা মনে করে, তারা ভালো না করলে কোচ বরখাস্ত হবে। তাদের কিছু হবে না। সময় এসেছে কোচকে রেখে পুরো দলই বদলে ফেলার।’
সম্প্রচারমাধ্যমে আকরামের এসব মন্তব্যের দিনে প্রায় একই সুরে কথা বলেছেন পিসিবির প্রধান নাকভি। দ্য নেশনের খবরে বলা হয়, নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মধ্যে ‘পাইকারি’ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন নাকভি, ‘মনে হয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট দলের জন্য মাইনর সার্জারিই (ছোটখাটো অস্ত্রোপচার) যথেষ্ট। কিন্তু এ ধরনের বাজে পারফরম্যান্সের পর এটা পরিষ্কার যে, দলে মেজর সার্জারি দরকার।’
