শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাতে ১১৪ রান চাই বাংলাদেশের

আপডেট : ১০ জুন ২০২৪, ১০:৪৪ পিএম

টস জিতে এইডেন মার্করাম নিলেন ব্যাটিং, নিউ ইয়র্কের উইকেটে যে সিদ্ধান্তটা অনেকের চোখেই রীতিমত আত্মঘাতী। যদিও তার ব্যাখ্যা ছিল ব্যবহৃত উইকেটে রানতাড়া হবে কঠিন আর নাজমুল হোসেন শান্ত চেয়েছিলেন আগে বোলিংই করতে। দুই অধিনায়কের চাওয়া পাওয়া মিলে গেল একই বিন্দুতে। তারপর যেটা হল, সেটা বোধহয় মার্করাম কল্পনাও করেননি। বাংলাদেশের পেস আক্রমণ এভাবে ধ্বসিয়ে দেবে দক্ষিণ আফ্রিকার টপ-অর্ডার, সেটা কেই বা ভেবেছে!

তানজিম হাসান সাকিব-তাসকিন আহমেদ; এই দুজনে মিলে শুরুর ৪ ওভারেই ফেলেছেন ৩ উইকেট। দলীয় ২৩ রানের মাথায় ডাগআউটে ফেরত গেছেন রেজা হেনড্রিকস, কুইন্টন ডি কক আর মার্করাম নিজেই। তারপরও যে প্রোটিয়াদের ইনিংসটা ৬ উইকেটে ১১৩ রান পর্যন্ত গেল সেটা লিটন দাসের বদান্যতায়। মাহমুদউল্লাহ'র বলে উইকেটের পেছনে ১৩ রানে থাকা মিলারের ক্যাচটা লিটন না ফেললে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসটা হয়ত এতটাও এগোয় না।

দারুণ শুরু এনে দিয়েছেন তানজিম হাসান সাকিব। কুইন্টন ডি কক তাকে শুরু থেকেই চড়াও হয়ে খেলছিলেন। ম্যাচের দ্বিতীয় বলে ছয়, প্রথম স্কোরিং শট। পরের বলে চার। বড় ওভার হবার লক্ষণ,পঞ্চম বলে স্কয়ার লেগে ঠেলে নিলেন সিঙ্গেল। স্ট্রাইকে হেনড্রিকস, প্রথম বলেই লাইন মিস করে প্যাডে লেগে এলবিডাব্লিউ। পরের ওভারে তাসকিন এসে দ্বিতীয় বলেই ছয় হজম করলেও এর বেশি মার হজম করতে হয়নি। তৃতীয় ওভারে সাকিব আবারও বল হাতে, দুটো ডটের পর একটা ওয়াইড, তার পরের বলেই ডি ককের স্টাম্প ছত্রখান। ম্যাচের মাঝে সাকিব বলেছেন, 'আমার শিকার করা ৩ উইকেটের ভেতর ডি ককেরটাই সেরা, কারণ সে আমার বলে চার ছয় মেরেছিল আর আমি তাকেই আউট করেছি'। পরের ওভারে তাসকিন ভাঙ্গেন মার্করামের স্টাম্পও। ৩.৫ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা ২৩ রানে হারায় ৩ উইকেট। ৩ বল পর সাকিব শুন্য রানেই বিদায় করে দেন ট্রিস্টান স্টাবসকে। নড়বড়ে শুরুর পর প্রোটিয়াদের ইনিংস সামাল দেন হেনরিখ ক্লাসেন এবং ডেভিড মিলার। আইপিএলে তারা যেভাবে খেলেন, ঠিক বিপরীত ছন্দে খেলছেন বিশ্বকাপে। পঞ্চম উইকেটে ৭৯ বলে ৭৯ রানের জুটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের মেরুদন্ডটা গড়ে দিয়েছেন দুজনে। এটা ভাঙ্গা যেত আগেই, মাহমুদউল্লাহ'র প্রথম বলেই থিক আউটসাইড এজে ক্যাচ দিয়েছিলেন মিলার। গ্লাভসে যাবার আগে বল লাগে লিটনের উরুতে, তাই বেঁচে যান মিলার। শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরিয়েছেন রিশাদ হোসেন, ম্যাচে তার একমাত্র শিকার মিলার যার নামের পাশে ৩৮ বলে ২৯ রানের ইনিংস একদমই বেমানান। অন্যদিকে হাফসেঞ্চুরির ঠিক আগে আগে ৪৬ রান করা ক্লাসেনকে বোল্ড করেছেন তাসকিন। 

মোস্তাফিজের শেষ ওভারে টানা চারটা ডট, কেশব মহারাজের অসহায়ত্ব সবই দেখেছে নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়ামের বাংলাদেশ সমর্থকরা। সেই সঙ্গে মাত্র ১১৪ রানের জয়ের লক্ষ্য দেখে উল্লাসও বাধ ভেঙেছে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত