শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাংলাদেশকে ধ্বংস করে অবসরে লেবানন কিংবদন্তি মাতুক

লেবানন ৪-০ বাংলাদেশ

আপডেট : ১২ জুন ২০২৪, ১২:২৬ এএম

২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শেষটা এত বাজে ভাবে হবে কেউই চিন্তা করেননি। গ্রপ পর্বের শেষ ম্যাচের প্রতিপক্ষ লেবানন বলেই আশা ছিল ভালো কিছুর। সেটা তো হয়ইনি, এই বাছাইয়ের সবচেয়ে বাজে ম্যাচটা মঙ্গলবার রাতে খেললো বাংলাদেশ। লেবানন অধিনায়ক হাসান মাতুক আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন অবসরের। এই ম্যাচটা খেলেই ১৮ বছরের সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারের ইতি তিনি টানলেন অসাধারণ এক হ্যাটট্রিক দিয়ে।

আর লেবানন বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে এসে পেলো ৪-০ গোলের বড় জয়ের সান্ত্বনা। বাংলাদেশের সঙ্গী হলো ভীষণ বাজে একটা শেষের হতাশা।

ফিফা র‌্যাংকিংয়ের হিসেবে আই গ্রুপে বাংলাদেশের অবস্থান সবার নিচে। অন্য তিন দলের সঙ্গে ব্যবধানটাও অনেক। শেষ পর্যন্ত পারফরম্যান্সেও সেই ব্যবধানটাই বজায় থাকলো। ছয় ম্যাচে ২০ গোল হজম করা বাংলাদেশের শেষটা হয়েছে পাঁচ ম্যাচ হার আর ঘরের মাঠে এক ড্রয়ে। সেটা লেবাননের বিপক্ষে ছিল বলেই শেষটা অন্যরকম কিছুর আশা ছিল।

কিন্তু ভালো মাঠে লেবানন যে অদম্য, সেটা প্রমাণিত হলো আরেকবার। ঠিক ১৩ বছর আগে বৈরুতে যে পরিণতি বরণ করতে হয়েছিল, দোহার খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামেও হারতে হলো চার গোলের ব্যবধানে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন হাসান মাতুক। এই ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবলে অবসর নেওয়া মাতুককে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

আসলে বাংলাদেশ খেই হারায় শুরুতেই। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও কোচ হাভিয়ের কাবরেরা একাদশ সাজান তিন সেন্টারব্যাক ও দুই উইং ব্যাক দিয়ে। সেই ম্যাচের মতোই তৃতীয় সেন্টারব্যাক শাকিল হোসেনের ভুলে পঞ্চম মিনিটে গোল হজম করতে হয় বাংলাদেশকে। একটি কর্নারে লেবাননের একজনকে অহেতুক ঘুসি মেরে বসেন এই ডিফেন্ডার।

রেফারির চোখ এড়ালেও এড়ায়নি সহকারী রেফারির চোখ। তিনিই রেফারিকে বলেন পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে। স্পষ্ট থেকে সহজেই ক্যারিয়ারের ১২৩ ও শেষ ম্যাচে গোলের মালা গাঁথা শুরু করেন লেবাননের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হাসান মাতুক।

গোল হজমের পরও বাংলাদেশ চেষ্টা করেছে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে আক্রমণে থাকা শেখ মোরসালিন ও রাকিব হোসেনকে বলের জোগান দিতে। এই সময়টায় রাকিবকে দারুণ কিছু পাস বাড়িয়েছেন একাদশে ফেরা বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া।

রাকিব সেগুলো নিয়ে ডান দিয়ে আক্রমণে উঠেছেন ঠিক, তবে মোরসালিনের খোঁজ পাননি লেবাননের দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায়। ১৬ মিনিটে প্রতি-আক্রমণ থেকে জামাল বল পেয়ে দ্রুত থ্রু পাস বাড়ান রাকিবকে। ডান দিক দিয়ে সেই বল নিয়ে বক্সে ঢুকে রাকিব শট নিয়েছিলেন। তবে লেবাননের কিপার সেটা রুখে দেওয়ার পর এ্ক ডিফেন্ডার ক্লিয়ার করেন।

তিন মিনিট পর তপু বর্মণের ভুল পাসের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি লেবাননের নম্বর নাইন করিম দারউইচ। ম্যাচের ৩৩ মিনিটে কর্নারের জটলা থেকে কাসেম আল জেইনের ভলি রুখে দেন বাংলাদেশ কিপার মিতুল মারমা। এরপর বিরতিতে যাওয়ার আগ মুহূর্তে লেবানন হাই-প্রেস করে আরেকটি গোল আদায় করে নেয়।

ডান দিক থেকে নাসরের ক্রস বাংলাদেশ ডিফেন্ডারদের চোখ এড়িয়ে নাদের মাতারের পায়ে জমা হয়। দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের প্লেসিংয়ে গোল করেন নাদের। বিরতি থেকে ফিরেই (৪৯ মিনিটে) মাতুক দ্বিতীয় গোলের দেখা পান। একটা ফ্রি-কিক থেকে দ্রুত বল পেয়ে যান করিম দারউইচ। ডান দিয়ে আক্রমণে উঠে বাইলাইন থেকে কাটব্যাকে খুঁজে নেন ফাঁকায় থাকা মাতুককে। ঠান্ডা মাথায় ৩-০ করেন লেবানন অধিনায়ক।

ম্যাচের ৫৮ মিনিটে সুযোগ ছিল ব্যবধান কমানোর। বক্সের ঠিক ওপর থেকে মোরসালিনের অসাধারণ সেট-আপ পেয়ে রাকিবের বাঁ পায়ের শট পোস্টের ওপর দিয়ে যায়। দুই মিনিট পর উল্টো প্রতি আক্রমণ থেকে গোল হজম করতে হয় তাদের। ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন মাতুক। করিম দারউইচের আড়াআড়ি পাস ধরে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে ক্যারিয়ারের ২৬তম গোলের দেখা পান তিনি।

এর খানিক বাদেই মাতুককে তুলে নেন লেবাননের কোচ। নিজের হ্যাটট্রিক, দলকে বড় জয় এনে দেওয়ার তৃপ্তি সঙ্গী করে সাইডবেঞ্চে বসেই অঝোরে কেঁদে ফেলেন ২০০৬ সালে অভিষেক হওয়া মাতুক। ৩৬-এ এসে শেষটা করলেন তৃপ্তি নিয়ে। তাতে বাংলাদেশের সঙ্গী হলো আরেকটা বড় হারের লজ্জা।

আই গ্রুপ থেকে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে সেরা হয়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের তৃতীয় পর্বে নাম লিখিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। মঙ্গলবার তাদের কাছে ৫-০ গোলে হারা ফিলিস্তিন দ্বিতীয় হয়ে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গী হয়েছে।

৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয়ে শেষ করল লেবানন। আর বাংলাদেশের থলেতে স্রেফ ১ পয়েন্ট। এখন তাদের প্রস্তুতি নিতে হবে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয়পর্বের জন্য। যা আগামী বছর শুরু হবে মার্চ থেকে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত