সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এমপি আনারকে হত্যার পর কয়েকজন আ.লীগ নেতার কাছে বার্তা পাঠায় খুনিরা

আপডেট : ১২ জুন ২০২৪, ০৯:৩৪ এএম

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যার ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুকে আটক করা হয়েছে। মিন্টুকে গ্রেপ্তারের আগে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কাজী কামাল আহম্মেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবুকে গ্রেপ্তারে করা হয়েছে। 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঝিনাইদহের কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার মোবাইলে খুনিরা খুদেবার্তা পাঠায়, ‘মিশন সফল’ এটা জানানোর জন্য। ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল আহম্মেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবুর মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠায় কিলার শিমুল ভূঁইয়া। আসামিরা তার ফোনে আনারের মরদেহের ছবি পাঠায়। একই ধরনের খুদেবার্তা পাঠানো হয় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুর ফোনেও। জেলার সাবেক এক সংসদ সদস্যকেও প্রায় একই ধরনের খুদেবার্তা দেওয়া হয় বলে তথ্য পায় পুলিশ।

সূত্র আরও জানিয়েছে, কেন খুনিরা কাজী কামাল, মিন্টুসহ অন্যদের এ ধরনের বার্তা পাঠাল, সে বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে। হত্যা মিশনে তারা জড়িত ছিল, নাকি ফাঁসানোর জন্য অভিনব কৌশল হিসেবে তাদের খুদেবার্তা দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া স্বর্ণ চোরাচালান নিয়ে বিরোধের জেরে আজীমকে হত্যা করে ‘এক ঢিলে দুই পাখি মারা’ হলো কি না, তা নিশ্চিত হতে নজর রাখছে গোয়েন্দারা।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঝিনাইদহের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ‘সংসদ সদস্য আনারকে হত্যার পর আসামিরা কার কার সঙ্গে শেয়ার করেছেন তা তদন্ত করা হচ্ছে। ছবি দিয়ে কেউ আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন কি না, কাদের মাধ্যমে লাভবান হয়েছেন, সব বিষয় তদন্ত করে বের করা হচ্ছে। 

হারুন অর রশীদ বলেন, ‘মামলাটি তদন্তাধীন। বাংলাদেশে ও ভারত মিলে দুটি মামলা হয়েছে। দুই দেশেরই উদ্দেশ্য অভিন্ন। আমরা কাজ করছি। আসামির সঙ্গে আমরা কথা বলেছি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সব তথ্য-উপাত্ত বিচার-বিশ্লেষণ করে মনে করেছি, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এজন্য তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে এনেছি। তার রিমান্ড চলছে, তাকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। ঘটনা ডিবি-ওয়ারী বিভাগ তদন্ত করছে।’

হত্যাকাণ্ডের পর ২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, ‘এগুলো আমরাও শুনেছি, সবকিছু তদন্ত করছি। হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড আখতারুজ্জামান শাহীন বাংলাদেশ থেকে দিল্লির পর কাঠমান্ডু, এরপর দুবাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন। তাকে আমরা ধরতে না পারলেও মোটামুটি বাকি সব আসামির বিষয়ে জানতে পেরেছি। আসামিদের অনেককেই গ্রেপ্তার করেছি।’

গত ১২ মে ভারতে চিকিৎসার জন্য গিয়ে নিখোঁজ হন ঝিনাইদহ-৪  আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার। পরে তাকে হত্যার খবর আসে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ও ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুসারে কিছু হাড় ও মাংসখন্ড উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলো আনারের কি না, এর ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত