গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অনুমতি ছাড়াই বসানো হয়েছিল পশুর হাট। খবর পেয়ে অভিযানে যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অবৈধ বাজার বসানোর অভিযোগে ইজারাদারকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিলে টোক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এমএ জলিল (৬৫) তার লোকজন নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। শুধু তা-ই নয়, ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজন পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে দণ্ডিত আসামিকে ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
চেয়ারম্যান এমএ জলিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। ওই ইজারাদার তার ভাতিজা বলে জানা গেছে। গতকাল বুধবার (১২ জুন) ইউনিয়নের বীর উজলী দীঘির পাড় বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই চেয়ারম্যানকে আসামি করে আরও ২৩ জনের নামে মামলা করে পুলিশ।
পরে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এমএ জলিল ও তার সহযোগী ফাউজউদ্দীন (৫০) গ্রেপ্তার করা হয়। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুরে উজুলী দীঘির পাড় বাজারে পশুর হাট বসে। এ হাটের ইজারাদার ইউপি চেয়ারম্যান এমএ জলিলের ভাতিজা আমান উল্লাহ। খবর পেয়ে বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) একেএম লুৎফর রহমান বাজারে উপস্থিত হয়ে ইজারাদারকে অবৈধ হাট সরিয়ে নিতে বলেন। এ সময় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। ইজারাদার বাজার সরাতে রাজি হননি।
পরে ইউএনও আমান উল্লাহকে গ্রেপ্তার করতে নির্দেশ দেন। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে তার লোকজন নিয়ে ইউএনওসহ পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এরপর ইজারাদার আমান উল্লাহকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় তাদের লোকজন পুলিশকে মারধরও করে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জানান, ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই নিজের বাহিনী নিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করছেন এমএ জলিল। নির্বাচনের পর নিজ দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি শুরু করেন। বিভিন্ন ধরনের মামলা দিয়ে এলাকাছাড়া করেন। তার ছেলে পরাগ চাঁদাবাজিতে জড়িত। তিনিও বাহিনী নিয়ে চলেন। মাদক ও অবৈধ মাটি ব্যবসার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন। এছাড়াও ইউপি সদস্যদেরও হয়রানি করেন চেয়ারম্যান জলিল। অনেক সদস্যকে ন্যায্য বরাদ্দ দেন না।
পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সফিকুল ইসলাম কবির হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান তার লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে এলাকায় রাজত্ব কায়েম করেছেন। তার ছেলে মাদক ও অবৈধ মাটির ব্যবসা করে এলাকার রাস্তাঘাট নষ্ট করে দিয়েছে। ইউপি সদস্যরাও কোণঠাসা হয়ে আছে। আড়াই বছর ধরে আমার ওযার্ডে সরকারি কোনো বরাদ্দ দেয়নি। তার ভাই আমার সঙ্গে নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় এই কাজ করছেন চেয়ারম্যান জলিল। পরিষদে আমার জন্য কোনো চেয়ার নেই। আরও অন্তত ৫ জন মেম্বার নানা ভাবে নির্যাতিত। কোনো প্রতিবাদ করলে সব উন্নয়ন বরাদ্দ আটকে দেয়।
কাপাসিয়া থানার এসআই রাশেদ মিয়া বলেন, পুলিশ পেটানোর দায়ে ভোরে অভিযান চালিয়ে চেয়ারম্যান জলিল ও তার সহযোগী ফাইজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৩ জনকে আসামি করে পুলিশ বাদী হয়ে এ মামলা করেছে। মামলা নম্বর ১৯। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের ধরতে কাজ চলছে।
কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম লুৎফর রহমান বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত ও অভিযুক্ত আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। সেই অবৈধ গরুর হাটও বন্ধ করা হয়েছে। চেয়ারম্যানহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কাপাসিয়া থানার ওসি আবুবক্কর মিয়া বলেন, পুলিশের মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানহ দুইজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এদিন সকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। চেয়ারম্যান ছাড়া অপর আসামির ৫ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। আদালত এখনো রিমান্ড মঞ্জুর করেনি।
