সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পছন্দ-অপছন্দের সংস্কৃতি ছাড়তে না পারাই পাকিস্তানের কাল হয়েছে, দাবি মালিকের

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৪, ০১:২৬ পিএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরু থেকেই পাকিস্তান দাপুটে দল। প্রতিবারই তারা অন্তত সেমিফাইনাল কিংবা ফাইনালে ছিল। সুপার এইটের বাধা ডিঙাতে না পারার নজির শুধু ২০১৪ ও ২০১৬ সালে। তারপরের দুটি আসরে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু এবার তারা গ্রুপ পর্বই ডিঙাতে পারেনি। হেরেছিল যুক্তরাষ্ট্রের মতো দলের বিপক্ষেও। আর কাল প্রকৃতির বাধায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতেই পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। তাতেই পুড়েছে বাবর আজমদের কপাল।

গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলটিকে নিয়ে ক্ষোভে ফুসে উঠছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররা। সাবেক অধিনায়ক শোয়েব মালিক কড়া মন্তব্য করেছেন বোর্ডের বিরুদ্ধে। পছন্দ-অপছন্দের খেলোয়াড়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারাকেও এই ফলের জন্য দায়ী করেছেন তিনি।

৪২ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান বলেছেন, ‘আমরা পছন্দ-অপছন্দের খেলোয়াড়ের যে সংস্কৃতি, সেটা থেকে বেরিয়ে আসতে পারি না।  ঘরোয়া অঙ্গনে খেলোয়াড়রা তাদের বাধা অতিক্রম করার জন্য প্রক্রিয়াটিও অনুসরণ করে না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের অধঃপতনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এটাই।’

টেন স্পোর্টস পাকিস্তানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শোয়েব মালিক বলেন, ‘ক্রিকেটের সঙ্গে আমার এখনও সম্পৃক্ততা আছে। আমি পাকিস্তানের সঙ্গে শুধু (ঘরোয়া) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলি, শেষটাও খেলেছি। শিয়ালকোট দলের হয়ে খেলেছি। আমার খারাপ লাগছিল যে আমাদের খেলোয়াড়দের র‌্যাঙ্কিংয়ের মধ্য দিয়ে আসা খেলোয়াড়দের কোনো খেলা সচেতনতা ছিল না। পিএসএলের পর এটাই আমাদের সেরা টুর্নামেন্ট। নিচের লেভেলে অনেক খারাপ অবস্থা আছে।’

মালিক যোগ করেছেন, ‘আমরা পছন্দ বা অপছন্দ থেকে বেরিয়ে আসতে পারি না; এটা আমাদের সংস্কৃতি। এটি বছরের পর বছর ধরে বিকশিত হয়েছে। কিন্তু মেধাবী খেলোয়াড়দের পক্ষে কথা বলার কেউ নেই, তারা সুযোগ পায় না। এতে আমার দুঃখ হয়। অন্তত খেলা সচেতনতা থাকা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘সহযোগী দলগুলোর বিপক্ষে হার-জিত গৌণ ব্যাপার, তবে খেলার দিক থেকে আপনাকে ডিক্টেটিং দেখতে হবে। নিম্ন স্তরে খেলা সচেতনতা নেই এবং আমরা পাকিস্তান দলের সাথেও এটি দেখতে পাচ্ছি। ম্যাচ যখন সংকটময় পরিস্থিতিতে পড়ে, তখন খেলা সচেতনতা থাকে না। অন্ততঃ বাধা অতিক্রম করার প্রক্রিয়াটি আপনার জানা উচিত। এখানে খেলোয়াড়রাও প্রক্রিয়াটা জানে না।’

ক্ষুব্ধ মালিক বলেন, ‘আমরা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জেতার জন্য ক্রিকেট খেলি না, আইসিসি ইভেন্ট জেতার জন্য খেলি না। গত চার-পাঁচ বছরে আমরা কি কোন ইভেন্ট জিতেছি? যদি আমরা জিততে না পারি, তাহলে আমি বলব যে গত ৪-৫ বছর ধরে ক্রিকেটকে ম্যানিপুলেট করা একজন এজেন্টের সঙ্গে গ্যাং, বন্ধুত্ব এবং টোলা রয়েছে।’

অধিনায়ক বাবর আজমের দিকে আঙ্গুল তুলেন মালিক। ৩২ বছর বয়সী এই অধিনায়কের অধীনে কোনো শিরোপা নেই পাকিস্তানের। তাই তার সমালোচনা করে ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অধিনায়ক মালিক বলেন, ‘বাবর আজমের কথাই ধরুন, সে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। লম্বা সময় ধরে সে খেলোয়াড়দের টানছে। কিন্তু এই খেলোয়াড়রা আবার দীর্ঘদিন ধরে ফর্মের বাইরে। এটা অবশ্যই ভালো লাগার কথা না। আমার মনে হয়, বন্ধুত্বের কারণেই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারাই (হুকুম দেওয়ার)। এটা ঠিক আছে, কিন্তু সবার আগে দেশকে রাখতে হবে।’

মালিক যোগ করেছেন, ‘যখন সি, ডি এবং ই দল পাকিস্তানে ছিল, তখন তাদের যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়নি। সুতরাং, কিভাবে আপনি বেঞ্চ শক্তি বিকশিত করতে পারেন? ভবিষ্যতের জন্য তাদের কীভাবে প্রস্তুত করবেন?’

২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অভিষেক আসরে পাকিস্তানের অধিনায়ক ছিলেন শোয়েব মালিক। তার অধীনে পাকিস্তান রানার্স-আপ হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত