জিতলে ভাসানো হয় প্রশংসায়। হারলে বিদ্ধ করা হয় সমালোচনার তীরে। হয় চুলছেড়া বিশ্লেষণ। তেমনি পাকিস্তান যখন এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে, তখন চারদিক থেকে ধেয়ে আসছে সমালোচনা। শোয়েব মালিক, শোয়েব আখতার সবাই বাবর আজমদেরকে যেন চড়াচ্ছেন শূলে। এমনকি বিশ্বকাপের মাত্র তিন মাস আগে নেতৃত্ব বদল নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। সেই প্রসঙ্গ উঠে আসছে আবারও।
দেশটির সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি পক্ষ নিয়েছেন তার মেয়ের জামাই শাহিন আফ্রিদির। তার মতে, বাবরের উচিত ছিল শাহিনের অধিনায়কত্বকে সমর্থন করা। বোর্ড বলার পর নেতৃত্ব না নিয়ে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারতেন বলেও মন্তব্য করেন ২০০৯ বিশ্বকাপের ম্যান অব দ্য ফাইনাল। তবে অধিনায়ক বদল নিয়ে বাবরকে নয়, দায় দিচ্ছেন তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে।
গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় পাকিস্তানের নেতৃত্ব ছাড়েন বাবর। লাল বলের ক্রিকেটে অধিনায়ক করা হয় শান মাসুদকে, আর সাদা বলে শাহিন আফ্রিদিকে। কিন্তু এক সিরিজ পরেই নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে ফিরিয়ে আনা হয় বাবরকে।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সেই নেতৃত্ব বদলের প্রসঙ্গটি এনে শহীদ আফ্রিদি পিসিবি ও বাবরের ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, ‘শাহিনকে অধিনায়কত্ব দিলেন, বললেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবে। তখন বাবরের উচিত ছিল শাহিনকে সমর্থন করা। আবার নেতৃত্ব প্রস্তাব করার পর তার বলা উচিত ছিল, “না, আপনারা ওকে (শাহিন) অধিনায়ক বানিয়েছেন। আমরা ওর নেতৃত্বেই খেলব। কারণ, ওর সঙ্গে আমি অনেক দিন ধরে খেলছি। অধিনায়ক বানিয়েছে নির্বাচক কমিটি। আমি ওর নেতৃত্বকে সমর্থন করি।” এ অবস্থানটা বাবরের নেওয়া দরকার ছিল। আর সেটা করলে বাবরের সম্মান বাড়ত, একটা দৃষ্টান্ত তৈরি হতো।’
তবে শাহিনকে এক সিরিজ পরই সরিয়ে দেওয়া এবং নিজে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে বাবরকে সম্পূর্ণ দায় দেওয়ার সুযোগও নেই বলে মনে করেন শহীদ আফ্রিদি, ‘এখানে বাবরকে পুরোপুরি দোষও দেওয়া যায় না। কিছু দায় নির্বাচকদের কাঁধে বর্তায়। কারণ, কয়েকজন নির্বাচক প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, কীভাবে অধিনায়কত্ব করতে হয় বাবর জানে না।’
ভারতের কাছে হারের পর পিসিবি চেয়ারম্যান নাকভি পাকিস্তান দলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। অনেকেই বলাবলি করছেন বিশ্বকাপের পর আট-নয়জন খেলোয়াড় বাদ পড়বেন। তবে এমন কিছু ঘটার সুযোগই নেই বলে মনে করেন আফ্রিদি, ‘শুনছি ৮-৯ জন নাকি বাদ দিয়ে দেবে। এটা তখনই করা যায়, যখন আপনার হাতে অনেক খেলোয়াড় থাকে। আপনি যদি খেলোয়াড় বাবরকে সরাতে চান, ওর মতো কেউ আপনার হাতে আছে? রিজওয়ানের বিকল্প হওয়ার মতো কেউ আছে? বড় পরিবর্তনের কথা তখনই বলা যায়, যখন আপনার বেঞ্চ শক্তিশালী থাকে।’
