দেরি আর বেশি ভাড়ার বিড়ম্বনা

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৪, ০২:০৭ এএম

দুপুর সাড়ে ১২টা। রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাওয়ামুখী সড়কের বাম পাশে ইলিশ পরিবহনের একটি বাসের সামনে ঠায় দাঁড়িয়ে ২৫ বছর বয়সী এক তরুণ। তীব্র গরমে ঘর্মাক্ত তিনি। মো. দিদার নামের ওই ব্যক্তি বললেন, গুলশানের শাহজাদপুর এলাকায় তিনি রঙমিস্ত্রির কাজ করেন। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে ভাঙ্গা হয়ে যাবেন মাদারীপুরের শিবচরে। বললেন, সাধারণত ২০০-২৫০ টাকায় তিনি গন্তব্যে গেলেও ঈদ কেন্দ্র করে ভাড়া চাইছে ৪০০ টাকা। অতিরিক্ত ভাড়া কেন দেবেন এ নিয়ে বচসা চলছে বাসের সুপারভাইজারের সঙ্গে। ইতিমধ্যে নন-এসি এ বাসের সব আসন প্রায় ভরে গেছে। বাসের চালকের আসনের পাশে বনেটের ওপর বসা মো. মিজান নামে এক ব্যক্তি বললেন, ‘কিছু করার নেই। ঈদের আনন্দ বলে কথা। দ্বিগুণ ভাড়া দিয়েই যেতে হবে।’

গতকাল শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকায় দেখা গেছে, গিজগিজ করছে ঘরমুখো মানুষ। তীব্র গরম, অতিরিক্ত ভাড়া, সঙ্গে থাকা ব্যাগ-লাগেজ নিয়ে অসহনীয় যানজটে তাদের হিমশিম অবস্থা। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অবস্থা ছিল করুণ। তবে এত কষ্টের বিপরীতমুখী চিত্র হলো পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগে তাদের সবার চোখেমুখে খুশির ঝিলিক।

দুই বছর আগে পদ্মা সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হওয়ার পর দক্ষিণবঙ্গেও অন্তত ১৮টি জেলার মানুষের চলাচলের সুবিধাজনক রুটটি যাত্রাবাড়ী হয়ে। ঈদযাত্রায় এই এলাকায় তীব্র যানজট নিয়মিত। গতকালও এর ব্যতিক্রম ছিল না। ডেমরা থেকে যাত্রাবাড়ী সড়কে মৃধাবাড়ী থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত এক কিলোমিটারের বেশি থেমে থেমে গাড়ির চাপ ও যানজট দেখা গেছে। যাত্রাবাড়ী হয়ে অন্য প্রবেশমুখেও একই অবস্থা।

ওই এলাকায় কর্তব্যরত একাধিক ট্রাফিক পুলিশ নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদের ছুটিতে গত কয়েক দিন ধরেই তাদের তুমুল ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রচন্ড বেগ পেতে হচ্ছে। যাত্রাবাড়ী হয়ে লাখ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। সংগত কারণেই পদ্মা সেতুমুখী এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট মহাসড়কমুখী পরিবহন যাতে নির্বিঘ্নে ঢাকা ছাড়তে পারে, সেটাই এখন তাদের কাছে মুখ্য।

যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার এলাকায় পদ্মা সেতুমুখী অন্তত ১০টি পরিবহনের কাউন্টার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছে দেশ রূপান্তর। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি কাউন্টারের দায়িত্বরতরা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন। তাদের যুক্তি হলো, ফিরতি পথে যাত্রী নেই। প্রতিটি ট্রিপে পদ্মা সেতুর টোলের সঙ্গে জ¦ালানি খরচ, লাইন খরচ তো আছেই। যেজন্য ভাড়া বাড়াতে হয়েছে। তবে তাদের এ যুক্তিকে অদ্ভুত বলছেন যাত্রীরা। গোপালগঞ্জগামী রাজীব পরিবহনের নন-এসি বাসের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৮০০ টাকা করে। সাধারণত এ রুটের ভাড়া ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা বলে জানান একাধিক যাত্রী। পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার সামাদ বলেন, ফিরতি পথে যাত্রী নেই। পদ্মার ওপার থেকে বাসগুলো মাওয়া পার হয়ে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত আসতে সময় লাগছে এক থেকে তিন ঘণ্টা। অন্যান্য খরচ মিলিয়ে তাদের লাভ নেই বললেই চলে। নড়াইলগামী একাধিক পরিবহনে ৯০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নিতে দেখা গেছে। যদিও ঈদের আগে এ পরিবহনে ভাড়া ছিল ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। ফরিদপুরগামী জয় পরিবহনের কাউন্টারের সামনে দেখা গেছে মানুষের জটলা। সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন মো. আসাদ নামে এক ব্যক্তি। ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময়ে ফরিদপুর যেতে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। কিন্তু ঈদের এ সময় নেওয়া হচ্ছে ৭৫০ টাকা পর্যন্ত। বরিশালগামী ইলিশ এসি পরিবহনের সুপারভাইজার মো. নিজাম বলেন, এমনিতে ভাড়া ৭০০ টাকা হলেও ফিরতি পথে যাত্রী না থাকা, মাওয়া থেকে বাসগুলো যাত্রাবাড়ী আসতে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় বেশি লাগছে। ফলে ট্রিপ কমে গেছে। পুষিয়ে নিতে ১ হাজার টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

দুপুর ১টার কিছু পর সায়েদাবাদ জনপদের মোড় এলাকায় লক্ষ্মীপুরগামী জোনাকি পরিবহনের কাউন্টারে দেখা গেছে ভিড়। তবে একই অভিযোগ যাত্রীদের। ৪৩০ টাকার ভাড়া নিচ্ছে ৬০০ টাকা করে। টার্মিনাল থেকে কুমিল্লার লাকসামগামী জোনাকি পরিবহনের বাসে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা করে। একাধিক যাত্রী বলেন, এমনিতে এ রুটের ভাড়া ৩০০ টাকা করে। পরিবহনের কন্ডাক্টর ইমরান বলেন, যাত্রীরা ঈদের আনন্দে খুশি হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিচ্ছেন।

সরেজমিন রাজধানীর মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, সকালের দিকে যাত্রীর চাপ কম, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় বাড়ছিল। কয়েকটি কাউন্টারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া স্বল্প দূরত্বের বাসে অতিরিক্ত ও দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মহাখালী বাস টার্মিনালে মো. নয়ন নামের এক যাত্রী বলেন, ময়মনসিংহ যেতে এমনিতে কাউন্টারগুলো ৩৫০ টাকায় টিকিট কেনা যায়। কিন্তু ঈদ কেন্দ্র করে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা ভাড়াই চাইছে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া না নিতে ও দিতে মাইকিং করা হচ্ছে। কিন্তু বাড়তি ভাড়া না দিলে তো বাসে উঠতে পারছি না।

এই টার্মিনালে আরেক যাত্রী আরাফাত মিয়া বলেন, দুদিন আগেও হালুয়াঘাটগামী ইমাম পরিবহনের বাসে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় যাওয়া যেত। আজ (গতকাল) হঠাৎ সেই ভাড়া ৭০০-৮০০ টাকা হয়ে গেছে। এসব দেখার যেন কেউ নেই।

গাইবান্ধা যেতে গাবতলী বাস টার্মিনালে অপেক্ষারত রেজওয়ান নামে এক যাত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাসের টিকিটের জন্য এক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করে পেলাম না। এখন লোকাল বাসে যেতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া দিয়ে। ভোগাান্তি নিয়েই ঈদযাত্রা করতে হচ্ছে।’

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সব রুটেই যাত্রীদের দুই থেকে তিনগুণ বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে। যারা সড়কে চাঁদাবাজিতে জড়িত তাদের ওপর ঈদযাত্রায় সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে চাঁদাবাজরাই চাঁদাবাজি বন্ধের সিদ্ধান্ত আটকে দেয়। কঠোর মনিটরিং না করলে বাড়তি ভাড়া ঠেকানো সম্ভব হবে না।’

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামদানী খন্দকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অতিরিক্ত ভাড়া না নিতে সমিতি থেকে পরিবহনগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি টার্মিনালে বিশেষ মনিটরিং টিম দেওয়া আছে। কোনো বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে থেমে থেমে যানজট : আমাদের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর দুর্ঘটনা, কিছু সময়ের জন্য টোল আদায় বন্ধ, চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে মহাসড়কের যানজট ও ধীরগতির সৃষ্টি হয়। গতকাল সকাল ১০টা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা হতে সেতু টোলপ্লাজা পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার অংশে কোথাও যানজট আবার কোথাও ধীরগতি দেখা গেছে। দুপুর দেড়টার পর মহাসড়ক স্বাভাবিক হয়।

সরেজমিন মহাসড়কের এলেঙ্গা, ভূঞাপুর লিংক রোড, রাবনা বাইপাস এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, স্বাভাবিক দিনের মতোই পরিবহনগুলো কোনো বাধা ছাড়াই চলাচল করছে। তবে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব-ভূঞাপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক সড়কের কয়েকটি স্থানে পরিবহনের ধীরগতি রয়েছে। এর আগে উত্তরবঙ্গ থেকে মহাসড়কে যানজট এড়াতে ঢাকাগামী পরিবহনগুলো ওই আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ট্রেনে স্বস্তির পাশাপাশি অস্বস্তি : সময় মেনে ট্রেন চলা এবং যাত্রী চাপ তুলনামূলক কম হওয়ায় ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনে গতকাল ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনযাত্রীদের বেশিরভাগ স্বস্তি প্রকাশ করলেও ছিল কয়েকটি ট্রেনের বিলম্বে ছেড়ে যাওয়ার ভোগান্তি। ঈদের দুটি স্পেশাল ট্রেনসহ ৬৯ ট্রেন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। এতে প্রায় দেড় লাখ মানুষ ঢাকা ত্যাগ করেছেন। বেশিরভাগ ট্রেন প্রায় সময়মতো স্টেশন ছাড়লেও রাজশাহীগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি এক ঘণ্টা বিলম্বে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে যায়। এ ছাড়া চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেস পৌনে দুই ঘণ্টা বিলম্বে এবং রাজশাহীগামী মধুমতী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ৪০ মিনিট বিলম্বে স্টেশন ত্যাগ করে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন ওই ট্রেনের যাত্রীরা।

সকালের দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনে লোকাল (কমিউটার) ট্রেনের টিকিট বিক্রির কাউন্টারে অনেক ভিড় থাকলেও স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া আন্তঃনগর ট্রেনগুলোয় ভিড় ছিল তুলনামূলক কম। ফলে অনেকটাই স্বস্তিতে যেতে পেরেছেন যাত্রীরা।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, কমলাপুর থেকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় আটটি কমিউটার ট্রেনের টিকিট যাত্রা শুরুর আগে টিকিট কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হয়। অন্যদিকে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রা শুরু দুই ঘণ্টা আগে ট্রেনের মোট আসনের ২৫ শতাংশ টিকিট স্টান্ডিং (দাঁড়িয়ে যাত্রা) হিসেবে বিক্রি করার ফলে ওই টিকিটের জন্যও আন্তঃনগর ট্রেনের কাউন্টারের সামনে মানুষের ভিড় ছিল।

গত দুদিনের তুলনায় শনিবার ট্রেনে যাত্রীসংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের ট্রেনগুলো গাদাগাদি করে যাত্রীদের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়লেও গতকাল তেমনটা দেখা যায়নি। অবশ্য সকালে ছেড়ে যাওয়া রংপুর আর একতা এক্সপ্রেসে ভিড় বেশি ছিল। আর সিলেট ও চট্টগ্রামের ট্রেন ছিল অনেকটা ফাঁকা।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, গত ১২ জুন থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকা থেকে ট্রেনের যাত্রীরা নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে এবং ভোগান্তি ছাড়াই পৌঁছাতে পেরেছেন। যাত্রীরা তাদের ব্যবস্থাপনায় বেশ খুশি। এবার বিনা টিকিটে ভ্রমণের প্রবণতা একটু কম দেখা গেছে, যাত্রীরা সচেতন হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘রেলওয়ের সব পর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি, ডিএমপি, র‌্যাব এবং দেশের অন্যসব বাহিনী সম্মিলিতভাবে আমাদের সহযোগিতা করেছে।’ তিনি জানান, চাহিদার তুলনায় ট্রেন সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৫০০ আন্তঃনগর টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু এর বিপরীতে প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টিকিটের চাহিদাকে পুঁজি করে একশ্রেণির প্রতারকচক্র প্রতারণা শুরু করেছে। তাদের ১০ জনকে শুক্রবার র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে।

সকাল সোয়া ১০টার দিকে পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ছেড়ে যায় কমলাপুর স্টেশন থেকে। ট্রেন ছাড়ার আগে জানালার পাশে বসে ট্রেনটির যাত্রী আজিজুর রহমান বলেন, ‘ঈদের সময় সাধারণত ট্রেনে খুব ভিড় হওয়ায় নিজের আসন পর্যন্তও পৌঁছানো যায় না অনেক সময়। কিন্তু এবার আমি আমার নির্ধারিত আসনেই বসতে পেরেছি। টিকিট কাটতেও বেগ পেতে হয়নি।’

শেষ সময়ে সদরঘাটে ভিড় বেড়েছে : পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরুর পর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঈদযাত্রার সেই চিরাচরিত ভিড় কমেছে। তবে এবার ঈদুল আজহার কাছাকাছি সময়ে কিছুটা চিরচেনা রূপে ফিরছে এ লঞ্চ টার্মিনাল। ঈদযাত্রার প্রথম দিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ভিড় না থাকলেও গতকাল থেকে সেখানে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নদীপথে ঢাকা ছাড়ছে অসংখ্য মানুষ।

সরেজমিন দেখা গেছে, সদরঘাট দিনে ও রাতে ছেড়ে যাবে এমন লঞ্চগুলো দুপুরের আগেই ঘাটে নোঙর করে। কেবিন ও ডেকের যাত্রীদের বেশিরভাগই আগেভাগে এসে নির্ধারিত লঞ্চে এসে পৌঁছান।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তারা জানান, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের সুবিধার্থে এবার সদরঘাট টার্মিনাল ও দেশের অন্যান্য লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ১৮০টি লঞ্চ ছাড়বে। এসব নৌপরিবহনের মধ্যে ঢাকা থেকে ছাড়বে ৯০টি।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ভোলাগামী যাত্রী রিয়াজ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সড়কপথে যানজটে নাজেহাল হতে হয়। পদ্মা সেতু পার হতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যায়। তাই নৌপথকে বেছে নিলাম।’

মো. রাকিব নামে আরেক যাত্রী বলেন, লঞ্চের ডেকের ভাড়া আগের মতো ঠিক থাকলেও কেবিনের ভাড়া বেড়ে গেছে। খুব সহজে বরিশালের কেবিন মিলছে না। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা নদীবন্দর নৌযান চলাচল ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক মো. মামুন-অর-রশিদ বলেন, ঈদ কেন্দ্র করে সদরঘাট টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় কিছুটা বেড়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত