স্পেশাল অলিম্পিক জয়ী ফাতেমার পাশে আবদুল গাফফার

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৪, ০২:৩৫ পিএম

স্পেশাল অলিম্পিকে গোল্ড মেডেল জয়ী বিবি ফাতেমা। বাকপ্রতিবন্ধী হয়েও বিশ্বের দরবারে দেশের লাল-সবুজের পতাকাকে তুলে ধরেছেন। প্রায় পাঁচটি দেশে অনুষ্ঠিত স্পেশাল অলিম্পিকে দেশের  হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দেশের সুনাম বয়ে আনা সেই বিবি ফাতেমা আজ অসহায় জীবন পার করছেন। রাত পেরুলেই পবিত্র ঈদুল আজহা, অথচ এই মানুষটির খোঁজ রাখেনি কেউ। তাই করতে পারেনি ঈদের কেনাকাটাও। 

তালহা ও আলভী নামের দুই সন্তানের জননী বিবি ফাতেমা ঈদের দিনে সন্তানদের কী খাওয়াবেন তারও নিশ্চয়তা নেই। কারণ স্বামী হোটেলে যা আয় করেন তা বাড়ি ভাড়াসহ আনুষাঙ্গিক খরচেই শেষ হয়ে যায়। তবে কেউ না থাকলেও ক্রীড়াপ্রেমী ও মানবতার ফেরিওয়ালাখ্যাত আবদুল গাফফার তো আছেনই। তাই শেষ ভরসা ফুটবলার ও রূপায়ণ গ্রুপের উপদেষ্টা আবদুল গাফফারের কাছে ছুটে এসেছেন বিবি ফাতেমা। প্রতিবন্ধী এই ফাতেমার খোঁজ কেউ না রাখলেও আবদুল গাফফার ঠিকই রাখেন। তাই যখনই বিপদে পড়েন ফাতেমা ছুটে আসেন আব্দুল গাফফারের কাছে। 

এরই ধারাবাহিতকায় ঈদের আগের দিন দেশ রূপান্তর কার্যালয়ে আবদুল গাফফারের কাছে ছুটে আসেন ফাতেমা। সঙ্গে স্বামী ও দুই ছেলে সন্তানকেও নিয়ে আসেন। আবদুল গাফফারকে দেখেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। ইশারায় বোঝানোর চেষ্টা করেন আপনি আমাদের শেষ ভরসা। আপনার সাহায্য ছাড়া এই ঈদটি হয়তো ভালো কাটবে না। পরে ঈদের জন্য আবদুল গাফফার বিবি ফাতেমার হাতে ১০ হাজার টাকা তুলে দেন। যাতে অন্তত ঈদটা সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে ভালোভাবে কাটাতে পারেন।

এ সময় সাবেক ফুটবলার ও রূপায়ণ গ্রুপের উপদেষ্টা আবদুল গাফফার বলেন, ‘এই মেয়েটি বাকপ্রতিবন্ধী হয়েও বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের পতাকাকে সম্মানিত করেছে। অথচ সেই মেয়েটির আজ কেউ খোঁজ রাখে না। দিনের পর দিন কষ্টে দিন কাটছে তার। আমি যথাসাধ্য তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করি। যখনই প্রয়োজন হয় ফাতেমার স্বামী জানানোর সঙ্গে সঙ্গেই আমি সহযোগিতা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের বিত্তশালীদের প্রতি আমার অনুরোধ এই মেয়েটির পাশে দাঁড়ান। এরাই আমাদের দেশের সম্পদ। ফাতেমা জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারের মনোনীত হয়েছেন। তবুও তার খোঁজ রাখেনি কেউ।’

জানা গেছে, বিবি ফাতেমা একজন অ্যাথলেট। ২০০৯-২০১৫ পর্যন্ত সে অনেক ওয়ার্ল্ড গেমসে অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়াও রিজিওনাল গেমসেও অংশ নিয়ে দেশের হয়ে সুনাম অর্জন করেন।

এদিকে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে আবদুল গাফফারের সুনাম আর খ্যাতি টেনে নিয়ে গিয়েছে ক্রীড়াঙ্গণের সবার হৃদয়ে। করোনাকালীন সময়ে তার ভূমিকা অসাধারণ। বহু খেলোয়াড় ও সংগঠক তার মাধ্যমে পেয়েছেন ভরসা। পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন তিনি। তাই বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএসজেএ) থেকে পেয়েছেন করোনা যোদ্ধা অ্যাওয়ার্ড। এছাড়াও জাতীয় ফুটবল দল ছাড়াও ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, মোহামেডান ও আবাহনীর এই সাবেক খেলোয়াড় অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। প্রয়াত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের সময়ে (১৯৯৭ সালে) অস্থায়ী মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। 

তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সদস্য। ক্রীড়া সাংবাদিকদের সংগঠন বিএসপি এবং বিএসজেএ এর প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তিনি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত