টাকা ছাড়াই মসজিদুল হারাম ও নববির নকশা করেন তিনি

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৪, ০৯:১৯ পিএম

মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববির নকশা করেছিলেন মোহাম্মদ কামাল ইসমাইল। ১৯০৮ সালে জন্ম নেওয়া কামাল মসজিদ দুটি পুনঃনির্মাণও করেছিলেন। মিসরের একটি হাইস্কুল থেকে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন তিনি। সবচেয়ে কম বয়সে লন্ডনের রয়্যাল কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন।

এরপর তিনি ইউরোপে যান ইসলামিক স্থাপত্যকলা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জ্ঞান অর্জনের জন্য। পরবর্তীতে তিনিই প্রথম প্রকৌশলী হিসেবে হারামাইন শরীফাইনের সবরকম নকশা ও পুনঃনির্মাণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।

এ বিষয়ে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অসাধারণ দক্ষতা থাকলেও এই কঠিন ও সময়সাপেক্ষ কাজটি সম্পূর্ণ করার জন্য তিনি কোনো রকম পারিশ্রমিক নিতে অস্বীকার করেন। এমনকি রাজা ফাহাদ এবং বিন লাদেন কোম্পানি চেষ্টা করেও তার তৈরি নকশা ও নির্মাণ কাজের তত্ত্বাবধানের জন্য তাকে এক পয়সাও দিতে পারেনি।

মসজিদুল হারাম

তিনি বলেন, ‘আমি কেন পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র জায়গায় কাজ করার জন্য টাকা নেব, তাহলে শেষ বিচারে আমি আল্লাহকে কী জবাব দেব?’ তার পুরোটা জীবন বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি তার ব্যক্তিগত জীবন গোপনীয় রাখতে পছন্দ করতেন। এ কারণে তার বেশিরভাগ সময় কাটত ইবাদত করে।

তিনি যখন মসজিদুল হারাম ও মসজিদ আন-নাবাওয়ি বা নববির নকশা ও পুনঃনির্মাণের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন সে সময় তার বয়স ৮০ পেরিয়ে গেছে। এরপর তিনি তার বাকি জীবন পুরোটা এসব পবিত্র জায়গায় কাজ করে কাটিয়ে দেন। এবং গণমাধ্যমকে কিছু না জানিয়েই।

তিনি বিয়ে করেন ৪৪ বছর বয়সে। তার স্ত্রী মারা যাওয়ার আগে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। এরপর তিনি আর কখনো বিয়ে করেননি। কামাল শতবর্ষী ছিলেন।

মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববির অসাধারণ নকশা ছাড়াও ভবনগুলো পুনঃনির্মাণে যেসব উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে তা খুবই দুষ্প্রাপ্য। যদি আপনার এসব পবিত্র জায়গায় যাওয়ার সুযোগ হয়ে থাকে, তাহলে দেখবেন সৌদিতে যতই গরম পড়ুক, মসজিদুল হারামের মেঝে স্পর্শ করলেই ঠান্ডা লাগে।

কারণ এই মেঝেতে সাদা মার্বেল ব্যবহার করা হয়েছে, যা লেবানন থেকে আনা হয়। কামাল গ্রিসে গিয়ে আরেকটা দুষ্প্রাপ্য মার্বেল পাথর কিনে আনেন যা অস্বাভাবিক উজ্জ্বল এবং এর সাদা রং গরম আবহাওয়ায় ঘর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। যখন মসজিদে নববির নির্মাণকাজ শুরু হয় সে সময় সৌদি আরবের বাদশা কামালকে স্নো হোয়াইট মার্বেল ব্যবহার করতে বলেন।

মসজিদে নববি

মসজিদুল হারাম ইসলামের পবিত্রতম স্থান যা মক্কায় অবস্থিত। ইতিহাসে অসংখ্যবার এটির আকার বর্ধিত হয়, যাতে প্রতি বছর হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য আসা অসংখ্য মুসল্লিদের এতে জায়গা দেয়া যায়। বাদশাহ ফাহাদের সময়কালে এটি বর্ধিত করার পর মসজিদটির পুরো এলাকার আয়তন দাড়িয়েছে তিন লাখ ৫৬ হাজার ৮০০ বর্গমিটার।

সাধারণ সময়ে এটি আট লাখ ২০ হাজার মুসল্লিকে জায়গা দিতে সক্ষম। তবে হজের সময় কিংবা মুসলিমদের পবিত্র মাস রমজানে এখানে ১০ লাখেরও বেশি মুসল্লি জায়গা পেয়ে থাকেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত