সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চেয়ারম্যানের গোডাউনে মিলল ঈদে দুস্থদের বরাদ্দ চাল

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৪, ১০:৫৯ এএম

পাবনার সুজানগরে দুস্থদের খাদ্য সহায়তার ৬৫ বস্তা চাল বিতরণ না করে ব্যক্তিগত গোডাউনে মজুত করে আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। রবিবার (১৬ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার নাজিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে এ  অভিযোগ ওঠে। 

এদিকে চেয়ারম্যান অভিযোগ মিথ্যা দাবি করলেও গোডাউনে চাল মজুতের প্রমাণ পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। রবিবার দিবাগত রাত ২ টার দিকে গোডাউন পরিদর্শন করে এ তথ্য জানান সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয়  সূত্রে জানা গেছে, এ ইউনিয়নে ২৩শ কার্ডে দুস্থদের খাদ্য সহায়তার (ভিজিএফ) চাল বরাদ্দ রয়েছে। যেটি গত বৃহস্পতিবার থেকে বিতরণ শুরু করে ঈদের আগে বিতরণ শেষ করার কথা। কিন্তু চাল বিতরণ শেষ না করেই ইউনিয়নের বোয়ারিয়া বাজারে ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান তার ব্যক্তিগত গোডাউনে চাল মজুত রাখেন। গতকাল রবিবার (১৬ জুন) সন্ধ্যা থেকে প্রতি ভ্যানে ৭/৮ বস্তা করে চাল বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতে দেখা গেছে। 

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গোডাউনের আশপাশে স্থানীয়রা জড়ো হতে থাকলে চেয়ারম্যানের লোকজন গোডাইনে তালা দিয়ে পালিয়ে যান। পরে অভিযোগ পেয়ে রাত ২টার দিকে ইউএনও ওই গোডাউন পরিদর্শনে গিয়ে ৬৫ বস্তা চাল জব্দ করেন।

ইউএনও বলেন, আপাতত ৬৫ বস্তা চাল গোডাউনে পেয়েছি। যেটি ঈদের আগেই বিতরণ শেষ হবার কথা। কিন্তু চেয়ারম্যান দাবি, অতিরিক্ত গরমের কারণে প্রায় দেড়শো সুবিধাভোগী চাল নিতে আসেনি। ওই চালগুলো তিনি গোডাউনে রেখেছেন। তবে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রবিবার সন্ধ্যা থেকে ভ্যানে করে ৩০ কেজি বস্তার ভিজিএফ এর চাউল গোডাউন থেকে বের করা হয়। ওই সময় গোডাইনে আনুমানিক দেড় থেকে ২শ বস্তার মত চাল ছিল। এভাবেই দুস্থদের চাউল নিয়মের বাইরে তার ব্যক্তিগত লোকদের দেয়া হয় এবং পরে সেগুলো তারা ৭/৮শ টাকা বস্তা দরে বিক্রি করেন। এতে করে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হন। এ ধরণের অনিয়মের বিচার হওয়া উচিত।

বোয়ারিয়া বাজার এলাকার এক ভ্যানচালক বলেন, সব ইউনিয়নে ঈদের আগে চাল দিয়ে দিছে। অথচ এই ইউনিয়নে চাল গরীদের না দিয়ে চেয়ারম্যানের গোডাউনে রাখা হয়েছে। তিনি চাল আত্মসাৎ করতে চেয়েছিলেন। এভাবেই সব আত্মসাৎ হয়ে যাচ্ছে, বঞ্চিত হচ্ছি আমাদের মতো দুস্থ ও গরীবেরা।

এদিকে চাল আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র দাবি করেছেন চেয়ারম্যান মশিউর রহমান। তিনি বলেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে প্রায় দেড়শো লোক চাউল নিতে আসেনি। বাধ্য হয়ে তাদের চাউল গোডাউনে রাখা হয়েছে। ঈদের পরে সুবিধাভোগীদের ডেকে বিতরণ করা হবে। তাছাড়া এটি ব্যক্তিগত গোডাউন নয়, ইউনিয়ন পরিষদের জন্য অনুমোদিত গোডাউন।

ইউএনও মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন, ওই ৬৫ বস্তা চাউল জব্দ করে ইউপি সচিব, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রেখে আসা হয়েছে। এতোগুলো চাউল বিতরণ হয়নি অথচ উনি  (চেয়ারম্যান) সংশ্লিষ্ট কাউকে জানাননি। এখানে নিয়মের ব্যতয় হয়েছে। এছাড়া আত্মসাতের অভিযোগসহ অন্যান্য সকল বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত