ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের ভয়ানক দুর্ঘটনা নিয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারের দিকে সাতটি প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। দুর্ঘটনাটিকে ‘অপরাধমূলক গাফিলতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। খাড়গের প্রশ্ন, বালেশ্বরের দুর্ঘটনার পরও ট্রেন সংঘর্ষ রোধী কবচ প্রযুক্তি এক কিলোমিটার লাইনেও বসানো হয়নি।
গত এক দশক ধরে কেন রেলে তিন লাখ শূন্যপদ পড়ে রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন খাড়গে। এনসিআরবি রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে খাড়গে বলেন, ২০১৭ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে রেল দুর্ঘটনায়। এক্স হ্যান্ডেলে খাড়গে বলেছেন, ‘রেলওয়ে বোর্ড স্বীকার করেছে ভয়ংকরতম কর্মী সংকোচনের কথা। যার ফলে ট্রেনের চালকের সংখ্যা দিনদিন কমে এসেছে। এই কারণে অতিরিক্ত ডিউটি করতে হয় তাদের এবং দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধিও এর অন্যতম কারণ। তাহলে কেন এইসব পদে এতদিন ধরে লোক নিয়োগ হয়নি?’
যাত্রী সুরক্ষার জন্য গঠিত কমিশন অব রেলওয়ে সেফটি বোর্ডকে বেশ কিছু সুপারিশ করেছিল। যা কার্যকর না করে বোর্ড গাফিলতি করেছে। এ কথা সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির রিপোর্টেও সমালোচিত হয়েছে। তাহলে কেন রেল সুরক্ষা কমিশনকে এতদিনে শক্তিশালী করা হলো না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন খাড়গে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘রাষ্ট্রীয় রেলসুরক্ষা কোষের তহবিল বন্ধ করা হলো কেন? এই টাকা অন্য খাতে খরচ হয়ে যাচ্ছে। রেলের অফিসাররা অপ্রয়োজনীয় খাতে এবং বিলাসবহুল সুবিধাভোগে এই টাকা অপচয় করছেন কেন?’ খবর সংবাদ প্রতিদিনের।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্লিপার ক্লাসের ভাড়া উত্তরোত্তর বাড়ছে। অন্যদিকে স্লিপার কোচের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে একটি কামরায় এত ভিড় বাড়ছে। টিকিট বাতিল করা হচ্ছে। রেলমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, অতিরিক্ত যাত্রীদের নামাতে পুলিশ ব্যবহার করা হবে। কিন্তু উনি কি জানেন গতবছর ২.৭০ কোটি মানুষ স্লিপার কোচে জায়গা না পেয়ে টিকিট বাতিল করেছিলেন? এটাই কি মোদি সরকারের নীতি?’
খাড়গে আরও বলেন, ‘যখনই কোনো ট্রেন দুর্ঘটনা হয়, তখন মোদির রেলমন্ত্রী সেখানে পৌঁছে যান। কারণ ক্যামেরা তার আগে আগে যায়। দুর্ঘটনাস্থলে গিয়েই এমন ভাব করেন যেন সবকিছু ঠিক আছে। কিন্তু মোদি আপনি বলুন এই দুর্ঘটনার জন্য আপনি না আপনার রেলমন্ত্রী, কে দায়ী?’
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন নোম চমস্কি, বাড়িতেই চলবে চিকিৎসা