রাত পোহালে শুরু হচ্ছে কোপা আমেরিকা

আপডেট : ২০ জুন ২০২৪, ০৩:২৬ পিএম

একজনের কাজ গোল করা ও করানো। আরেকজনের প্রতিপক্ষকে গোল করতে না দেওয়া। তো, লিওনেল মেসিকে কী করে ইকার ক্যাসিয়াসের সঙ্গে মেলাবেন? মেলানোর জায়গা একটাই, তাদের বাহুবন্ধনী। ক্যাসিয়াসের নেতৃত্বে ২০০৮ থেকে ২০১২ এই চার বছরে স্পেন জিতেছে চারটি মেজর শিরোপা। ২০০৮ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে জার্মানিকে ১-০ গোলে হারানোর দুই বছর পর নেদারল্যান্ডসের হৃদয় ভেঙে স্পেন পায় প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপার স্বাদ। তার দু’বছর পরেই ফের ক্যাসিয়াসের স্পেন ইউরোপ-সেরা হয় ইতালিকে ৪-০ তে উড়িয়ে।

অনন্য এই রেকর্ডের হাতছানি এখন মেসির সামনে। ২০২১ সালে ব্রাজিলের মাটিতে স্বাগতিকদের হারিয়ে ২৮ বছর বছর পর কোপা আমেরিকা শিরোপা জিতেছিল মেসির আর্জেন্টিনা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সেটিই ছিল মেসির সবচেয়ে বড় অর্জন। এর এক বছর পর ৩৬ বছরের বিশ্বকাপ আক্ষেপ ঘুচিয়ে দেন মেসি। অমরত্ব লাভের পর এবার মেসির ফের কোপা আমেরিকা জয়ের সুযোগ।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হবে কোপা আমেরিকার ৪৮তম আসর। আর মেসি আছেন বলেই, মহাদেশীয় এই আসরের আগ্রহ তাকে ঘিরেই।

গেল এক বছর মোহনীয় ফুটবলে যুক্তরাষ্ট্রকে মাতিয়ে রেখেছেন ইন্তার মায়ামির মেসি। ভীষণ উপভোগ্য সময় কাটাচ্ছেন বাঁ পায়ের জাদুকর। ২০২১ কোপা থেকেই মেসি যতটা না ক্লাবের, তারচেয়েও বেশি আর্জেন্টিনার। আকাশি-সাদা জার্সিতে আর কতদিন খেলবেন, সেটা আপাতত ছেড়ে দিন সময়ের হাতে। বরং উপভোগ করুন এই মেসিকে। যিনি এবারের কোপায় খেলবেন শিরোপাধারী ও বিশ্বজয়ীর তকমা নিয়ে। ১০৮ বছরের প্রাচীন এই আসরে এবার খেলবে ১৬ দল। ১৪ জুলাই ফাইনাল হবে মায়ামিতে। যে শহরটা এখন মেসিরও। প্রিয় শহরে নিশ্চয় তিনিও চাইবেন আরেকবার শিরোপা উৎসব ছুঁতে।

শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় কানাডার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার অভিযান। এ গ্রুপে আলবিসেলেস্তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ চিলি ও পেরু। দ্বিতীয়পর্ব নিশ্চিতে ২১ জুন সকালে চিলির বিপক্ষে ম্যাচটা  বড় বাধা লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের জন্য। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে পরপর দুটি কোপার ফাইনালে এই চিলির কাছে হারতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে।

গত আসরে চিলির সঙ্গে প্রথম ম্যাচেই ১-১-এ থমকে যেতে হয়েছিল। তবে শুরুর ধাক্কা সামলে পাঁচ দলের গ্রুপে সেরা হয়ে আর্জেন্টিনা চলে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে। এরপর একে একে ইকুয়েডর, কলম্বিয়া ও মারাকানায় স্বাগতিক ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে কাক্সিক্ষত শিরোপায় হাত রাখেন মেসি।

এর দু’বছর পর কাতারের গল্পটা তো সবারই জানা। সৌদির কাছে গ্রুপের ম্যাচেই হারের ধাক্কা সামলে টানা ছয় জয়ে বিশ্বসেরা হয়ে ওঠা। ২০১০-এর স্পেনের মতোই। ক্যাসিয়াসের নেতৃত্বে স্পেনের শুরুটা হয়েছিল সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে। এরপর তিকিতাকার জাদু আর ক্যাসিয়াসের বীরত্বে মাত্র সাত গোল করেই বিশ্বসেরা স্পেন। এখানেই মিলে যাচ্ছে ক্যাসিয়াস আর মেসির গল্পটা।

কোপার এবারের আসরটা অনেক তারকার জন্য সম্ভাব্য বিদায়ী মঞ্চ। ২০২২-এ দোহায় নামার আগেই নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলার কথা বলেছিলেন মেসি। সেই কথা মতো শেষটা শিরোপায় রাঙিয়েছেন। এরপর পিএসজি ছেড়ে চলে আসেন মেজর সকার লিগে, ইন্টার মায়ামিতে। তার সংযুক্তিতে দল বড় কোনো সাফল্য পায়নি। তবে মেসি ভীষণ আমুদে সময় কাটাচ্ছেন। এই উপভোগের সময়টাতেই এসে উপস্থিত কোপা আমেরিকা। এটাই কোপায় শেষ বলা যায়। তবে পাকাপাকি আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ, তা বলা যাবে না। কারণ ওই যে উপভোগের মন্ত্রটা গেঁথে নিয়েছেন হৃদয়ে।

গেল সপ্তাহে ইএসপিএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেছেন, ‘রেকর্ড গড়া, নতুন সাফল্য পাওয়ার অনুভূতি অনন্য তবে আমি বলব না যে টানা ছয়টি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ আছে বলেই খেলব। যদি ভালো বোধ করি, সব কিছু যদি পরিকল্পনা মতো হয় তাহলে হয়তো খেলব। তবে কেবল খেলার জন্যই খেলতে চাই না। আগেভাগে কিছু বলা কঠিন কারণ এখনো ২ বছর বাকি।’

মার্কিন মুলুকে জমজমাট একটা আসরের প্রত্যাশা আর্জেন্টাইন অধিনায়কের, ‘আমি সব সময় বলে এসেছি আর্জেন্টিনাই ফেবারিট। কারণ আমরা সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে এবারও আমরা হেসেখেলে জিতব। ইকুয়েডরের এই প্রজন্মের ফুটবলাররা খুব ভালো করছে। কলম্বিয়া, উরুগুয়েও ভালো দল। ব্রাজিলের কথা না বললেই নয়। নেইমারের না থাকা ব্রাজিলের জন্য দুঃখজনক। তবে ওদের খেলোয়াড়ের অভাব নেই। নেইমার না থাকলেও ব্রাজিল খুবই শক্তিশালী দল। ওরাও শিরোপার দাবিদার।’

মেসির কথা মতো ৯ বারের শিরোপাজয়ী ব্রাজিল সবসময়ই এই আসরের ফেভারিট। সর্বশেষটি সেলেসাওরা জিতেছে ২০১৯ সালে এবং সর্বশেষ আসরের ফাইনালিস্ট তারা। যদিও কনমেবল অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ভুগতে হচ্ছে ব্রাজিলকে। বাছাইয়ের ছয় ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে জিতে তালিকার ৬-এ আছে তারা। বাছাইপর্বে হেরেছে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও কলম্বিয়ার কাছে।

এছাড়া কোপার দল গড়তেও বেগ পেতে হয়েছে কোচ দরিভাল জুনিয়রকে। চলতি বছর জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া এই কোচ আক্রমণভাগের অন্যতম অস্ত্র নেইমার ও রিচার্লিসনের সার্ভিস পাচ্ছে না চোটের কারণে। তাছাড়া ক্যাসিমিরো, গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও থিয়াগো সিলভার মতো অভিজ্ঞরাও ইনজুরির কারণে নেই দলে। ফলে দায়িত্বটা নিতে হচ্ছে ভীষণ ফর্মে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের অ্যাটাকিং জুটি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রদ্রিগোকে।

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের বাইরে কোপা আমেরিকায় সবসময় আলোচনায় থাকে চিলি, এই আসরের ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে, কলম্বিয়া ও মেক্সিকোর মতো দল। এছাড়া স্বাগতিক হিসেবে একেবারে হিসাবের বাইরে রাখা যাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্রকে, যারা দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করছে মর্যাদার এই আসর।

তবে সব ছাপিয়ে মার্কিন মুলুকের কোপাকে ঘিরে প্রশ্ন একটাই মেসি কি পারবেন ক্যাসিয়াসকে ছুঁতে?

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত