বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীসহ স্বামীর মৃত্যু

আপডেট : ২২ জুন ২০২৪, ০২:০৩ এএম

কক্সবাজার শহরের বাদশাঘোনায় আষাঢ়ের ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে মাটিচাপায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীসহ স্বামী নিহত হয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাদশাঘোনা-খাজামনজিল সীমান্ত এলাকায় এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন হাফেজ মো. আনোয়ার হোসেন (২৩) ও তার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মাইমুনা আক্তার (১৮)। আনোয়ার হোসেন বাদশাঘোনার প্রবাসী নজির আহাম্মদের ছেলে। তিনি পাঁচ বোনের এক ভাই ও বাবা-মায়ের দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন। আনোয়ার স্থানীয় ওমর ফারুক জামে মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্বপালন করতেন। আসরের নামাজের পর ঘোনারপাড়া বড় কবরস্থান মাঠে জানাজা শেষে নিহত স্বামী-স্ত্রীকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে।

উদ্ধারকারীদের বরাত দিয়ে আনোয়ারের প্রতিবেশী সায়মুন আমিন জানান, রাত ৩টার দিকে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। তা চলে ঘণ্টা ধরে। এরই মধ্যে অকস্মাৎ বাড়ির লাগোয়া পাহাড় ধসে আনোয়ারদের ঘরের চালে পড়ে। চালটি দেবে গিয়ে খাটে ঘুমানো স্বামী-স্ত্রীকে চাপা দেয়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে অন্যরুমে থাকা আনোয়ারের মা-বোনরা উঠে শোর-চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। তারা যে যার মতো মাটি সরিয়ে আনোয়ার ও তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেন। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নিহতের চাচা আবদুল্লাহ বলেন, পাহাড় ধসের পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ও কক্সবাজার দমকল বাহিনীকে ঘণ্টাখানেক কল দেওয়া হয়। কিন্তু তারা সাড়া না দেওয়ায় স্থানীয়রা যে যার মতো মাটি সরান। চালের টিন সরাতে গিয়ে একজনের হাত ও আরেক জনের পা কেটে গেছে। পরে দমকল বাহিনীর সদস্যরা হাসপাতালে এসে মরদেহ ও ঘটনাস্থলের ছবি নিয়ে গেছে।

নিহতের স্বজনরা জানান, আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চাকঢালার ছিদ্দিকাবাদ এলাকার মোস্তাক আহমেদ ও বুলবুল আকতারের মেয়ে মাইমুনার আট মাস আগে সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। দুই ভাই, তিন বোনের মধ্যে মাইমুনা সবার বড় ছিল। পাহাড় ধসের রাতে বৃষ্টির সময় একবার ঘুম থেকে উঠে আনোয়ার সবকিছু অবলোকন করে আবার শুতে যান। ভারী বৃষ্টি দেখে তার (আনোয়ারের) মা বউসহ তাকে নিয়ে তাদের রুম থেকে বাড়ির অন্যরুমে চলে আসতে বলেছিলেন ছেলেকে। কিন্তু কিছু হবে না বলে, দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে আবার ঘুমিয়ে পড়েছিল আনোয়ার ও মাইমুনা। সেভাবেই তাদের উদ্ধার করা হয়।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আশিকুর রহমান বলেন, দুজনকে মাটিচাপা থেকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে আনা হয়। হাসপাতালে পৌঁছার আগেই তারা মারা যান।

আষাঢ়ের শুরু পর গেল বুধবার কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড় ধসে স্থানীয় দুজনসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত