বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আনার হত্যায় মিন্টুকে কি বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে? 

আপডেট : ২২ জুন ২০২৪, ০১:১৫ পিএম

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যা করা হয়েছে এবং মরদেহ টুকরো টুকরো করে গুম করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা যায়নি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনা যে বাড়িতে ঘটেছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সেই বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে মাংসের টুকরো এবং পাশের একটি খাল থেকে হাড় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এর প্রায় ২০ দিন পরেও উদ্ধার হওয়া হাড়-মাংসের ডিএনএ টেস্টের ফলাফল আসেনি।

এদিকে এমপি আনার হত্যাকান্ডের তদন্তকারী সংস্থাগুলো একেক সময় একেক ধরনের তথ্য পাওয়ার কথা জানাচ্ছে। প্রথম দিকে বলা হচ্ছিল, চোরাচালানের লেনদেন নিয়ে বিরোধে আনারকে হত্যা করা হয়েছে। আবার বলা হচ্ছে রাজনৈতিক কারণে তাকে খুন করা হয়েছে। এতে জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার ইন্ধন রয়েছে। সর্বশেষ ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুকে রিমান্ড শেষ না হতেই আদালতে সোপর্দ করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের আগে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতার বাসায় ছিলেন এমন তথ্যও জানা গেছে। তাকে আটকের পর আনার হত্যার মূল পরিকল্পনায় প্রভাবশালীদের জড়িত থাকার কথাও তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে।

এমন পরিস্থিতে জনসাধারণের মনে প্রশ্ন উঠেছে এমপি আনার হত্যার নেপথ্যে জড়িতদের বাঁচানো চেষ্টা করা হচ্ছে কিনা। সাত দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই তাকে তৃতীয় দিনেই আদালতে সোপর্দ করার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। তাদের মতে, মিন্টুসহ আনার হত্যায় জড়িতদের বাঁচাতে হয়তো উল্টো দিকে হাঁটছে তদন্তকারীরা। ‘অদৃশ্য চাপে’ হত্যাকারীদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।  

নাম প্রকাশ না করে পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, মিন্টু যদি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতেন, তাহলে বিতর্ক হতো না। আসলে মিন্টুকে ধরা নিয়ে তারা ঝামেলায় ছিলেন। শেষমেশ তাকে ধরার পর নানা জায়গা থেকে চাপও আসে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিন্টু যে জড়িত তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। 

তিনি আরও বলেন, আনার হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তালগোল পাকিয়ে যাওয়ার দিকেই যাচ্ছে বলে তার মনে হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে রাঘববোয়ালদের নাম জানা গেলেও তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা যাচ্ছে না। তাদের বিষয়ে ‘অচেনা’ বাধা আসছে।

নাম প্রকাশ না করে ডিএমপির এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, মিন্টুকে যে দিন গ্রেপ্তার করা হয়, ওই দিন তিনি ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতার বাসায় ছিলেন। পরে ওই নেতার নির্দেশে মিন্টু বাসার নিচে নেমে এলে তাকে আটক করে গোয়েন্দা কার্যালয়ে আনা হয়। এরপর থেকে ওপরমহল থেকে মিন্টুকে সাবধানতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চাপ ছিল। নিহত আনারের মেয়েও মিন্টুকে ছাড়িয়ে নিতে ওপর থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত