একই পরিবারের দুজন মানুষ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করলেও অনেক সময় তাদের যাত্রা একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যায়। আর তেমনই দুই বোন সম্পর্কে বলব যারা অভিনেত্রী হওয়ার জন্য বলিউডে প্রবেশ করেছিলেন, কিন্তু দুজনের মধ্যে একজনই সফলতা অর্জন করেছেন এবং অন্যজন ভিন্ন জীবনযাপনের জন্য অভিনয় ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। আর তারা হলেন ডিম্পল ও সিম্পল কাপাডিয়া।
বলিউডে ডিম্পলের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭৩ সালে ‘ববি’ সিনেমার হাত ধরে। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। এখনো একের পর এক সিনেমা-সিরিজে তার অভিনয় মুগ্ধ করে দর্শকদের। ডিম্পল কাপাডিয়া অল্প বয়স থেকেই একজন অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে রাজ কাপুরের ‘ববি’ ছবিতে অভিনয় করে নজরে আসেন তিনি।
কিন্তু ডিম্পলের ব্যক্তিগত জীবন ছিল ঘটনাবহুল। ডিম্পল কাপাডিয়া বিয়ে করেছিলেন প্রখ্যাত অভিনেতা রাজেশ খান্নাকে। কিন্তু বিয়ের ৯ বছর পর তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ডিম্পল কাপাডিয়া ‘ববি’ এবং ‘সাগর’ সিনেমায় অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছিলেন। পরবর্তী দশকে তার কাজের মাধ্যমে তিনি নিজেকে হিন্দি সিনেমার অন্যতম প্রধান অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। রাজেশ খান্নার থেকে আলাদা হওয়ার পর অভিনেত্রী তার দুই মেয়েকে নিয়ে বাবা-মায়ের বাড়িতে ফিরে আসেন, এবং আবার অভিনয়ে ফিরে আসেন।
তবে ডিম্পল কাপাডিয়ার সঙ্গে তার বোন সিম্পল কাপাডিয়াও বলিউডে কাজ করতে এসেছিলেন। ১৯৭৭ সালে রাজেশ খান্নার সঙ্গেই একটি ছবিতে কাজের সুযোগ পান তিনি। কিন্তু বিটাউনে তার সফর সুমধুর ছিল না। অচিরেই রুপালি পর্দা থেকে সরে আসেন তিনি।
পরে কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন সিম্পল কাপাডিয়া। তিনি সানি দেওল, টাবু, অমৃতা সিং, শ্রীদেবী এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়াসহ অনেক নামি অভিনেতাদের জন্য কস্টিউম ডিজাইন করেছেন। তিনি ১৯৯৪ সালে ‘রুদালি’ ছবিতে তার পোশাক ডিজাইনের জন্য জাতীয় পুরস্কারও জিতেছিলেন। কিন্তু এর মধ্যেই তার ক্যানসার ধরা পড়ে। ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে ২০০৯ সালে ৫১ বছর বয়সে মারা যান তিনি। সিম্পল কাপাডিয়ার এক ছেলে আছে। তার নাম করণ কাপাডিয়া। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ডিম্পল কাপাডিয়া শাহরুখ খান অভিনীত ‘পাঠান’ সিনেমায় একজন গুপ্তচরের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। এছাড়াও তিনি রণবীর কাপুরের মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন ‘তু ঝুঠি ম্যা মাক্কার’ ছবিতে। অনলাইন অবলম্বনে
