বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

প্রেমের টানে নাটোরে চীনা যুবক, ইমামের মেয়েকে বিয়ে

  • ভালোবাসার টানে চীন থেকে নাটোরের গ্রামে ছুটে এসেছেন চীনা চিকিৎসক লি সি জাং
  • বৌদ্ধ ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম রীতি অনুসারে বিয়ে করেছেন ইমামের মেয়ে ফাতেমাকে

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৪, ১১:২২ এএম

ভালোবাসার টানে সুদূর চীন থেকে নাটোরের প্রত্যন্ত গ্রামে ছুটে এসেছেন লি সি জাং নামে এক যুবক। নিজ ধর্ম ত্যাগ করে স্থানীয় মসজিদের ইমামের মেয়েকে করেছেন বিয়ে। এর মাধ্যমে পূর্ণতা পেয়েছে তাদের ছয় মাসের প্রেম।

গত বুধবার সদর উপজেলার বড়বাড়িয়া গ্রামে আবু তাহেরের বাড়িতে আসেন চীনের বাসিন্দা লি সি জাং। চীনের সাং সাই এর বাসিন্দা লি পেশায় একজন চিকিৎসক। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৭ লাখ টাকা দেন মোহর ধার্য করে মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয়। রোববার আদালতে বিয়ে রেজিস্ট্রারি করা হয়।

ফাতেমার পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উই চ্যাটের মাধ্যমে প্রায় ছয় মাস আগে চীনের সাংহাইয়ের বাসিন্দা প্লাস্টিক সার্জন লি সি জাংয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় নাটোরের প্রত্যন্ত গ্রাম বড়বাড়িয়ার ফাতেমা খাতুনের। লি সি জাংয়ের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমেই চীনা ভাষা রপ্ত করেন ফাতেমা।

ফাতেমা নাটোর সদর উপজেলার লক্ষীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়বাড়িয়া গ্রামের আবু তাহেরের পঞ্চম কন্যা ও নাটোর নবাব সিরাজ -উদ-দ্দৌলা সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃত বিভাগের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্রী। ফাতেমার বাবা আবু তাহের স্থানীয় কাঠালবাড়িয়া মসজিদের ইমাম।

ফাতেমাকে বিয়ের আগে নিজের ধর্ম ত্যাগ করেছেন চীনা যুবক লি সি জাং। সবার সামনে বৌদ্ধ ধর্ম ত্যাগ করেন তিনি। পরে মুসলিম রীতি অনুসারে বিয়ে করেন ফাতেমাকে। ধর্মান্তরিত হয়ে নিজের নতুন নাম রাখেন আলী।

নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে দাবি করে লি সি জাং ওরফে আলী বলেন, ‘এ বিয়েতে আমি খুব খুশি। বাংলাদেশে এসে ভালোবাসার মানুষকে আপন করে পেয়ে খুব উচ্ছ্বাসিত। আশা করছি আমার ভালোবাসার মানুষ সারাজীবন আমার পাশে থাকবে।‘

এদিকে ফাতেমা বলেন, লি সি জাং আমার ভালোবাসার টানে বাংলাদেশে এসেছে। আমার জন্য তার নিজের ধর্মও ত্যাগ করেছে। সুখে-দুঃখে আমরা একসঙ্গে থাকতে চাই। সুখ-দুঃখে একসঙ্গে থাকতে সবার দোয়া চেয়ে স্বামীর সঙ্গে চীনে চলে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন ফাতেমা।

ফাতেমার বাবা আবু তাহের জানান, তার মেয়ে সামাজিক যোগাযোগেরমাধ্যমে চীনের তরুণের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়েন। তার মেয়ে চীনের এই যুবককে বিয়ের আগ্রহ প্রকাশ করায় স্থানীয় ভাবে বিয়ের প্রস্তাব আসলেও সে রাজি হয়নি। পরে চীনের ওই তরুণ তার বাড়িতে আসলে বৃহস্পতিবার ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী বিয়ে পড়ানো হয়েছে।

নাটোর সদর উপজেলার লক্ষীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা নুরুজ্জামান কালু বলেন, মোবাইলের মাধ্যমে সম্পর্কের পর তাদের বিয়ে হয়েছে বলে জেনেছি। দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন ঘটনা ঘটলেও নাটোরে এই প্রথমবারের মতো চীনের বাসিন্দা ভালোবাসার টানে ছুটে এসেছেন। তাদের জীবন সুখের হোক এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি।

তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হোক এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন এলাকাবাসীও। বর্তমানে ট্রান্সলেটর অ্যাপ ব্যবহার করে অন্যান্যরা কথোপকথন চালিয়ে যাচ্ছেন আলির সঙ্গে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত