শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। সে কখনোই মানুষের কল্যাণ কামনা করে না। সর্বদা মানুষকে ধোঁকা দিয়ে গর্হিত কাজে লিপ্ত রাখার চেষ্টা করে। আল্লাহতায়ালা শয়তান সম্পর্কে কোরআনে বলেন, ‘তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা বাকারা ১৬৮) তার এই ধোঁকার পদ্ধতি কখনো বদ সুরতে আবার কখনো নেক সুরতে। তবে মানুষ বদ সুরতের তুলনায় নেক সুরতের ধোঁকায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কয়েকটি নেক সুরতে ধোঁকার আলোচনা করা হলো।
যুক্তিকে প্রাধান্য দেওয়া : শয়তান যুক্তিবিদ্যায় বেশ পারদর্শী। শরিয়তের হুকুম-আহকামের সামনে যুক্তিকে প্রধান্য দেওয়া শয়তানের কাজ। শয়তান আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে আদম (আ.)-কে সেজদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। আর সে যুক্তিস্বরূপ পেশ করেছিল যে, আমি আগুনের তৈরি আর আদম মাটির তৈরি। শয়তানের যুক্তি সম্পর্কে কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘সে (শয়তান) বলল, আমি তার (আদমের) চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি দ্বারা।’ (সুরা সোয়াদ ৭৬)
আকৃতি পরিবর্তন করা : পৃথিবীর সব মানুষ নিজ নিজ আকৃতিতে সুন্দর। কেননা আল্লাহ মানুষকে উত্তম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। তবে কারও কারও কাছে আল্লাহর আকৃতিকে অপছন্দ মনে হয়। পরিবর্তন-পরিবর্ধনে লিপ্ত হয় নিজ আকৃতিকে। এমনকি সৌন্দর্য বৃদ্ধির নামে অঙ্গে অঙ্কন করে উল্কি বা ট্যাটু। যা সম্পূর্ণ ইসলামবিরোধী ও শয়তানের ধোঁকা। কেননা শয়তান মানুষকে এসব কাজে লিপ্ত হতে নেক সুরতে আশা-ভরসা দেয়।
গুনাহকে সুসজ্জিত করা : খারাপ কাজ সর্বদাই খারাপ। তবে মানুষ লোভ-লালসায় গুনাহের কাজ জেনেও তাতে লিপ্ত হয়। যেমন : কেউ কেউ ধনাঢ্যতার আশায় সুদের লেনদেন করে। আবার ব্যবসায়ী তার ব্যবসায় লাভবান হওয়ার আশায় মিথ্যার আশ্রয় নেয়। এ ধরনের আরও পাপের কাজকে শয়তান শোভনীয় করে তোলে। যা স্পষ্ট নেক সুরতে ধোঁকা। আল্লাহতায়ালা কোরআনে বলেন, ‘আমি সেই নারী ও তার সম্প্রদায়কে দেখেছি আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যের সেজদা করছে। শয়তান তাদের কাছে তাদের কার্যকলাপকে শোভনীয় করে দেখিয়েছে। এভাবে সে তাদের সঠিক পথ থেকে নিবৃত্ত রেখেছে। ফলে তারা হেদায়াত পাচ্ছে না।’ (সুরা নামল ২৪)
সন্দেহ পোষণ করা : আল্লাহ ও রাসুল সত্য, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে শয়তান মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও শরিয়তের বিধিবিধান নিয়ে মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করতে সর্বদা জাগ্রত। এমনকি মুমিন মুসলমানদের অন্তরেও সন্দেহের বীজ বপন করতে সে সদা তৎপর থাকে। তবে যদি কখনো শয়তান এমন নেক সুরতে আল্লাহ বা শরিয়তের বিধিবিধান নিয়ে ভাবনায় জাগ্রত হয় তাহলে দ্রুত আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া উচিত। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কারও কাছে শয়তান আসতে পারে এবং সে বলতে পারে, এ বস্তু কে সৃষ্টি করেছে? ওই বস্তু কে সৃষ্টি করেছে? এরূপ প্রশ্ন করতে করতে শেষ পর্যন্ত বলে বসবে, তোমাদের প্রতিপালককে কে সৃষ্টি করেছে? যখন ব্যাপারটি এ স্তরে পৌঁছে যাবে, তখন সে যেন অবশ্যই আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায় এবং বিরত হয়ে যায়।’ (সহিহ বুখারি)
অহেতুক ঝগড়া করা : মানুষের জবান খুবই মূল্যবান সম্পদ। তাই জবান দিয়ে কখনো অহেতুক বা বেহুদা কথা বলা ঠিক নয়। অহেতুক কথা বলা গুনাহের কাজও বটে। আর শয়তান মানুষকে বিভিন্ন সুরতে ধোঁকা দিতে ব্যস্ত থাকে। শয়তানের ধোঁকার অন্যতম মাধ্যম হলো দলিল-প্রমাণ ছাড়াই মানুষের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হওয়া, ঝগড়া করা। অপর দিকে মুমিন কখনোই দলিল-প্রমাণ ছাড়া কথা বলে না। আল্লাহতায়ালা কোরআনে বলেন, ‘কিছু মানুষ অজ্ঞানতাবশত আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে এবং প্রত্যেক অবাধ্য শয়তানের অনুসরণ করে।’ (সুরা হজ ৩)
