হাসিবুল হোসেন শান্ত। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লেগ-বাই রানটা তার। বর্তমানে বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচক তিনি। তানজিদ তামিম, তানজিম সাকিবদের খুঁজে বের করার পেছনের একজন মানুষ। বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কেমন গেল এ নিয়ে আলাপ করেছেন দেশ রূপান্তরের সামীউর রহমানের সঙ্গে
বাংলাদেশ দল শুক্রবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলে দেশে ফিরল। বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
হাসিবুল হোসেন শান্ত : সার্বিকভাবে খুব একটা খারাপ বলা যাবে না। ইতিবাচক দিকটা হচ্ছে বাংলাদেশ সুপার এইটে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। বোলিং ডিপার্টমেন্ট চমৎকার সার্ভিস দিয়েছে, যার জন্য আমরা সুপার এইটে উঠে আসতে পেরেছি। নেতিবাচক দিকটা হচ্ছে, আমাদের ব্যাটারদের খারাপ ফর্ম। ব্যাটিংটা যদি আরেকটু ভালো হতো তাহলে আমাদের বিশ্বকাপটা আরেকটু ভালো হতো। রেজাল্টের দিক থেকে চিন্তা করলে বাংলাদেশ সুপার এইটে খেলেছে, তিনটা ম্যাচ জিতেছে। অনেকে বলবেন যে নেদারল্যান্ডস এবং নেপালকে হারিয়ে জয়ের সংখ্যা বেড়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা তো নেপালের সঙ্গে ১ রানে জিতেছে। টি-টোয়েন্টিতে আসলে ছোট দল, বড় দল বলে কিছু নেই, তাও বিশ্বকাপে। ব্যাটাররা, যাদের কাছ থেকে আমরা রান আশা করি, তারা যদি রানটা করতে পারত, তাহলে আমাদের জন্য বিশ্বকাপটা আরেকটু ভালো যেত। ব্যাটারদের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ ভালো লাগেনি।
আইসিসি ট্রফিতে ২৫ ওভারে যখন ১৬৬ রানের লক্ষ্য আপনাদের সামনে দেওয়া হয়, তখন কিন্তু আপনারা নিয়মিত উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আতাহার আলি খানকে ব্যাট করতেই নামাননি। আফগানিস্তানের সঙ্গে এ রকম কোনো উদ্ভাবনী কৌশলের অভাব কি আপনাকে হতাশ করেছে?
শান্ত : আফগানিস্তানের সঙ্গে হৃদয়কে ছয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে। হৃদয় আমাদের দলের একমাত্র ব্যাটসম্যান যে রানের মধ্যে আছে, তাকে যখন পাঠানো হলো যখন আমাদের সমীকরণ মেলানোর সম্ভাবনা প্রায় শেষ। আর আমাদের সময়ে কিন্তু সবাই কিছু না কিছু রান করেছিল ওই ম্যাচে (আইসিসি ট্রফি ১৯৯৭ ফাইনাল), আর এখানে তো সব ব্যাটসম্যানই ফ্লপ। এইটার সঙ্গে ওইটা মেলালে চলবে না। আফগানিস্তানের সঙ্গে আমাদের ব্যাটসম্যানদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে মনে হয়েছে, আমরা আগেই হাল ছেড়ে দিয়েছি।
আপনি তো এখনো বয়সভিত্তিক পর্যায়ে নির্বাচকের কাজ করছেন, বাংলাদেশের যে দলটা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতল, সেই সময়ে আপনি নির্বাচক ছিলেন। সেই দলটার অনেকেই এই বিশ্বকাপের দলে খেলেছে। তানজিদ হাসান তামিমকে কি আপনার টি-টোয়েন্টি উপযোগী ব্যাটসম্যান মনে হয়েছে?
শান্ত : তানজিদ তামিম ওই ধরনেরই খেলোয়াড়, তবে অন্যান্য দেশের ‘এ’ দল বা আরও ভালো ভালো দলের সঙ্গে খেলিয়ে যদি আনা হতো তাহলে ভালো হতো। আমাদের দেশে হয়েছে কি, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পর সরাসরি চলে যাচ্ছে জাতীয় দলে। আমাদের দেশে ঘরোয়া ক্রিকেট এমনিতেই কম হয়। ও যদি আরেকটু প্রস্তুত হয়ে জাতীয় দলে আসতে পারত, তাহলে ওর পারফরম্যান্স আরও ভালো হতো। আর অভিজ্ঞতার কথা বললে তো পারফরম্যান্স শান্তরও (নাজমুল হোসেন) হয়নি, লিটনেরও হয়নি। তানজিদ তামিমকে ওভাবে রেডি করা হয়নি। যারা অনূর্ধ্ব-১৯-এর দলটা থেকে জাতীয় দলে গেছে, সবাই কিন্তু কঠোর পরিশ্রম করে। মনে করবেন না যে ইচ্ছা করে খারাপ করেছে, সেটা ওদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখেই বোঝা যায়। তামিমকে ‘এ’ দলে খেলিয়ে আরও তৈরি করে নেওয়া দরকার ছিল।
আপনি নিজে পেসার ছিলেন। বিশ্বকাপে তানজিম হাসান সাকিবের পারফরম্যান্স কেমন লেগেছে?
শান্ত : আমি ভাবিনি সে এত ভালো করবে। সাকিব আমার প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তার সঙ্গে আমার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে অনেক কথা হতো। সে অনেক হার্ড ওয়ার্ক করেছে। ওর বোলিংয়ের মধ্যে যে নিয়ন্ত্রণ আর আক্রমণাত্মক মানসিকতা আছে, সেটা আমাকে মুগ্ধ করেছে, ওর হাইটটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে, ওর কাছ থেকে শেখার অনেক কিছু আছে।
বাংলাদেশের পরবর্তী টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খুব সম্ভবত নভেম্বরে, ওয়েস্ট ইন্ডিজেই। পরবর্তী ম্যাচের আগে এই সময়টায় দলে কী পরিবর্তন দেখতে চান?
শান্ত : আমাদের একটাই টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা, বিপিএল। শুধু বিপিএলের ওপর ভরসা না করে আলাদাভাবে টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা লাগবে। সেটা ঘরোয়া ক্রিকেটে বলেন কিংবা নিজেদের মধ্যে ম্যাচ বলেন, আলাদা করে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং সেগুলোকে অর্থপূর্ণ করতে হবে, স্রেফ খেলার জন্য খেললে হবে না। ম্যাচে জেতার জন্য চাপ থাকতে হবে। আমরা যখন খেলেছি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয়তো কম খেলেছি, তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে আবাহনী-মোহামেডান, ব্রাদার্স-বিমান এসব দলে কিন্তু জেতার জন্য চাপ থাকত। দর্শকদের চাপ থাকত। এই চাপ নেওয়াটা শিখতে হবে। হার্ড ক্রিকেট খেলতে হবে। খেলার সংখ্যা বাড়াতে হবে।
