দেশে বিদেশি ঋণের ৯ শতাংশ চীনের

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৪, ০৬:২৭ এএম

বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ যেমন বাড়ছে, তেমনি এ ঋণ পরিশোধের চাপও বাড়ছে। উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সংস্থা হিসেবে সবচেয়ে বেশি ঋণ দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংকের আইডিএ প্রোগ্রাম, আর দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ঋণ জাপানের। তবে এসব সংস্থা থেকে বড় আকারের ঋণ নিলেও আলোচনা চলছে চীনা ঋণ নিয়ে। বিশে^র বিভিন্ন দেশে চীনা ঋণের ফাঁদের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা থাকলেও বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে আরও বেশি ঋণ নিতে আগ্রহী। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের যে পরিমাণের বিদেশি ঋণ রয়েছে, তাতে চীনের অংশীদারত্ব মাত্র ৯ শতাংশ।

একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ঋণগ্রহণের তালিকায় জাপান ও রাশিয়ার পরই অবস্থান চীনের। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্যানুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ ৬২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে চীনের ঋণ ৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এটি বাংলাদেশের মোট বিদেশি ঋণের ৯ শতাংশ। বাংলাদেশের শীর্ষ ২০ উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে শীর্ষ কাতারে রয়েছে এ দেশটি।

ইআরডির তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের শেষ নাগাদ অন্য দেশগুলো বাংলাদেশে উন্নয়নে এক সময় খাদ্য ও পণ্যে অনুদানের রেকর্ড থাকলেও চীনের সহযোগিতা শুধু প্রকল্প ঋণে।

দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী জাপান। এ দেশের কাছে বাংলাদেশের ঋণের দায় মোট ঋণের ১৭ শতাংশ। জাপানের কাছে বাংলাদেশের মোট ঋণের দায় ১০ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে। এরপরই ১০ শতাংশ দায় নিয়ে রাশিয়ার অবস্থান। রাশিয়ার ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারে। রাশিয়ার পরই চীনের অবস্থান।

সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঋণ রয়েছে বিশ্বব্যাংকের আইডিএর কাছে। এ সংস্থার কাছে ১৯ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ঋণ রয়েছে, যা বাংলাদেশের মোট দায়ের ৩১ শতাংশ। ১৪ দশমিক ৪১ বিলিয়নসহ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ঋণের দায় ২৩ শতাংশ।

তবে সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরের (২০২৩-২৪) এগারো মাসে চীনের কাছ থেকে কোনো প্রকল্পে এক ডলারের প্রতিশ্রুতিও নিশ্চিত করতে পারেনি বাংলাদেশ। আগের ঋণের অর্থছাড় করেছে এ দেশটি। এ সময় বিভিন্ন প্রকল্পে ৩৬ কোটি ১৭ লাখ ডলারের অর্থছাড় করেছে চীন। যদিও বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১১ মাসে ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ পেয়েছে বাংলাদেশ।

সম্প্রতি বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভের পতন ঠেকাতে চীনের কাছে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।

সড়ক ও রেল যোগাযোগ খাতের নয়টি প্রকল্পে চীনা ঋণের বিষয়ে আগ্রহী বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন চীন সফরে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ইতিমধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেল মন্ত্রণালয় এসব প্রকল্পের তালিকা পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ থেকে ১১ জুলাই চীন সফর করতে পারেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ওই সফরে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় রেল ও সড়ক যোগাযোগের প্রকল্পগুলোতে চীনা ঋণের বিষয়টি প্রাধান্য পেতে পারে।

ইআরডি জানায়, স্বাধীনতার পর থেকে চীন বাংলাদেশকে যে পরিমাণ ঋণ দিয়েছে তার ৯৫ শতাংশই এসেছে গত ১২ বছরে। শেষ ছয় বছরে এসেছে ৮৫ শতাংশ। স্বাধীনতার পর থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত মাত্র ২৭০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ দিয়েছিল চীন, সেখানে গত ১২ বছরে দিয়েছে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এই সময়ে প্রতিশ্রুত ঋণ ১০ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। ঋণ দেওয়া উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে চীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত