সৌদিতে আগুনে পুড়ে তিন বাংলাদেশি নিহত

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৪, ১২:২৬ পিএম

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে ৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। বুধবার (৩ জুলাই) সৌদি আরবের রিয়াদের মুসাসানাইয়া এলাকায় সোফা তৈরির কারখানায় ওই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। নিহতদের সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই তাদের পরিবারে শোকের মাতম চলছে।

নিহতরা হলেন, আত্রাই উপজেলার তেজনন্দি গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে ফারুক হোসেন, দিঘা স্কুলপাড়া গ্রামের কবেজ আলীর ছেলে শুকবর রহমান ও শিকারপুর গ্রামের সাহাদ আলীর ছেলে এনামুল হোসেন।

নিহতদের পরিবার জানায়, বুধবার রাত ১০টার দিকে তারা নিহতের সংবাদ জানতে পারেন। 

নিহত ফারুকের পরিবার জানায়,  প্রায় ৬ বছর আগে ধারদেনা করে সৌদি আরবে যান ফারুক। সৌদিতে যাওয়ার পর থেকেই নানা ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়েন তিনি। গত ৮ মাস থেকে ফারুক একটি সোফা তৈরির কারখানায় কাজ শুরু করেন। বুধবার রাতে তারা জানতে পারেন কারখানায় আগুনে ফারুক নিহত হয়েছে।

নিহত এনামুলের চাচা জাহিদুল ইসলাম জানান, এনামুল গার্মেন্টস শ্রমিক হিসেবে বাংলাদেশে কাজ করতো। বেশ কিছু দিন পূর্বে অনেক টাকা ধারদেনা করে সৌদি আরবে যায়। ধারের টাকা মাত্রই পরিশোধ করেছে। বাড়ির কাজ শেষ হলে ২০২৫ সালে দেশে এসে বিয়ে করার কথা পরিবারকে জানিয়েছিলেন। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুনে পুড়ে এনামুল মারা যাওয়ার খবর পান তারা। বাবা-মার একমাত্র ছেলে এনামুল। ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। ছেলেকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন বাবা-মা।

উপজেলার দিঘা গ্রামের নিহত শুকবর আলীর জামাই বিদ্যুৎ হোসেন জানন, আড়াই বছর আগে একমাত্র সম্বল ১১ শতক জায়গা বিক্রি করে এবং ধারদেনার টাকায় সৌদি আরবে যান শুকবর। সেই ধারের টাকা এখনও পরিশোধ করতে পারেননি তিনি। শুকবর আলীর ২ ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে শামিম হোসেন প্রতিবন্ধী। শুকবর আলীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্চিতা বিশ্বাস দেশ রূপান্তরকে জানান, সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে নিহত ৩ জনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ দেশে আনাসহ সার্বিক সহযোগিতা করবে উপজেলা প্রশাসন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত