ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সংস্কারপন্থী মাসুদ পেজেশকিয়ান। দ্বিতীয় দফায় অনুষ্ঠিত ভোটে কট্টরপন্থী সাইদ জালিলিকে হারিয়েছেন তিনি। আজ শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ানের তথ্যমতে, শুক্রবারের নির্বাচনে সাঈদ জালিলির চেয়ে প্রায় ৩০ লাখ ভোট বেশি পেয়েছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। পেজেশকিয়ান পেয়েছেন ১ কোটি ৬৩ লাখ ভোট পেয়েছেন। যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী জালিলি পেয়েছেন ১ কোটি ৩৫ লাখ ভোট।
বেশ কয়েক বছর পর ইরানের মসনদে বসলেন দেশটির সংস্কারপন্থী কোন নেতা। ইরানের ক্ষমতা বেশ কয়েক বছর ধরে রক্ষণশীলদের হাতে রয়েছে। তবে পেজেশকিয়ান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় সংস্কারপন্থিরা আশার আলো দেখছেন।
মাসুদ পেজেশকিয়ান সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত। তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছর ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সাবেক সংস্কারবাদী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ খাতামির সরকারে এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ইরানের পার্লামেন্টে উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের শহর তাবরিজে ২০০৮ সাল থেকে প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন তিনি।
মাসুদ পেজেশকিয়ান বরাবরই ইরানের পরিবর্তনের পক্ষে। একাধিকবার দেশটির সমাজ ব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন তিনি। ইরানের নৈতিকতা পুলিশের সমালোচনাও করেছিলেন তিনি। তার এক বক্তৃতায় ইরানে বিক্ষোভকারীদের সাথে যেভাবে আচরণ করা হয়েছিল তার সমালোচনা করেছিলেন তিনি।
নির্বাচনের প্রচারণায় পেজেকশিয়ান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ইরান থেকে হিজাব আইন প্রত্যাহারের। এমনকি পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে ইরানের অর্থনীতির উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে এবং পশ্চিমের সাথে উত্তেজনা কমানোর জন্য পুনরায় পরমাণু চুক্তি পুনর্বিবেচনা করবেন তিনি।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন নতুন প্রেসিডেন্ট এলেও ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাদের মতে, মাসুদ পেজেশকিয়ান নির্বাচনে জিতেছেন ঠিকই, কিন্তু এর মানে এই নয় যে তিনি দেশের দিক পরিবর্তন করার ক্ষমতা পাবেন।
১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ইরানের যেকোন বিষয়ে মূলত সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এছাড়া তিনিই দেশটির প্রধান ও কমান্ডার ইন চিফ। দেশটির সরকারি পুলিশ ও নীতি পুলিশের কর্তৃত্বও খামেনির হাতে।
ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নিয়ন্ত্রণও আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হাতে। আইআরজিসির দায়িত্ব ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা করা।
ইরানের প্রেসিডেন্ট দেশটির শীর্ষ নির্বাচিত কর্মকর্তা। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পরই তার অবস্থান। সরকারের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব তার ওপর। ইরানের অভ্যন্তরীণ নীতি ও পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে তার গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। তবে তার ক্ষমতাও বিশেষ করে নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে সীমিত।
বিশ্লেষকরা বলছেন ভবিষ্যতে একজন সংস্কারবাদী প্রেসিডেন্টকে ইরানের পার্লামেন্টে আধিপত্য বিস্তারকারী অতি-রক্ষণশীল শক্তির মুখোমুখি হতে হবে।
ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
একনজরে ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেকশিয়ান