সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থাকে সংবিধানবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তিনি বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী কোটা বৈধ করার কোনো উপায়ও নেই।
জি এম কাদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছে। আমাদের দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে কোটা পদ্ধতি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোটা পদ্ধতি বাংলাদেশের সংবিধানের ২৯ এর ১,২,৩ এর সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সংবিধান সংশোধন করে এটাকে বৈধ করতে পারবে না।
তিনি বলেন, মৌলিক অধিকার সম্পর্কিত ২৯ এর ১,২,৩ ধারা পরিবর্তন করার ক্ষমতা সংবিধানে দেয়া হয়নি। এ দেশের মানুষ হাজার বছর ধরে বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে। আমাদের মধ্যে ডিভাইড অ্যান্ড রুল করে বৈষম্য করা হয়। কিছু সংখ্যক লোককে সুবিধা দিতে বেশির ভাগ মানুষকেই বঞ্চিত করা হয়। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও পাকিস্তান সৃষ্টির আন্দোলনে বাঙালিরা ভূমিকা রেখেছে শুধু বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে। পরবর্তীতে পাকিস্তানীরাও আমাদের সাথে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে।
আজ শনিবার বিকেলে গাজীপুর জেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'এ দেশের মানুষ বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম আন্দোলনে জয়লাভের জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের মূল অর্জন সংবিধান, সেখানে সুযোগ-সুবিধাদির ক্ষেত্রে সাম্যের কথা বলা হয়েছে। এ কথা যেন আমরা ভুলে না যাই।'
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগ আবার ডিভাইড এন্ড রুলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সাথে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। তারা সমাজকে বিভক্ত করেছে। শাসক শ্রেণি এই দেশকে ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক সম্পত্তি মনে করে। তারা আইনের ঊর্ধ্বে এবং পছন্দ মতো আইন তৈরী করে। শাসক শ্রেণির কাছে প্রথম শ্রেণির নাগরিক হচ্ছে পিউর আওয়ামী লীগ ও তাদের লাঠিয়াল বাহিনী। অনুগত প্রশাসন ও অনুগত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তৈরী করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে নিপীড়ন, নির্যাতন ও বৈষম্য করার জন্য। সরকারের কাছে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হচ্ছে ভেজাল আওয়ামী লীগ। আর তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক হচ্ছি আমরা সাধারণ জনগণ। বাংলাদেশে আমাদের কোনো অধিকার নেই।
তিনি বলেন, বৈষম্য বিরোধী এই আন্দোলনের অনুপ্রেরণা হচ্ছে আমাদের জাতীয় শহীদ মিনার। শহীদ মিনার হচ্ছে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আত্মাহুতির প্রতীক। আমরা আওয়ামী লীগের এই বৈষম্য মানি না। আমাদের জাতীয় স্মৃতিসৌধ হচ্ছে বৈষম্যহীন, ন্যয় বিচারভিত্তিক নিজেদের দেশ গড়ার প্রত্যয়। শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধে শপথ নিতে হবে আমরা বৈষম্য মানি না। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ থাকবে না, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে এবং উপযুক্ততার ভিত্তিতে দেশ এগিয়ে যাবে। আওয়ামী লীগকে কোন বিষয়ে অনুসরণ করবেন না। আওয়ামী লীগ অনুসরণযোগ্য কোনো রাজনৈতিক দল নয়। অত্যাচার ও শোষনের জন্য আওয়ামী লীগ অনুসরণীয় দল হতে পারে। আওয়ামী লীগের কাছে কোন কিছু চাওয়ার জন্য যাবেন না, তাহলে জনগণ আপনাকে ঘৃণা করবে। বাঁচতে না পারলে বাঁচবেন না। রাজনীতি করতে হলে কষ্ট করতে হবে, ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। যেকোনো বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। এটা পারলেই জাতীয় পার্টি এগিয়ে যাবে।
