হাওরের পানিতে কাগুজে উন্নয়ন

দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় অস্তিত্ব হারিয়েছে বাঁধগুলো

  • ২৮ হাজার কোটির মহাপরিকল্পনা
  • রাস্তা সংস্কারে উদ্যোগ নেন না জনপ্রতিনিধিরা
আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৪, ১০:৫৫ এএম

হাওরের জীবন এখনো কঠিন। কয়েক বছরে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, কিন্তু আলোর চেয়ে অন্ধকার বেশি। রাস্তা হয়, বর্ষায় আবার তলিয়ে যায়। জীবনমানের উন্নয়নের জন্য হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল সবই দেওয়া হয়। কিন্তু এর প্রভাব কী, খোঁজ নেয় না কেউ।

২০১২ সালে সিলেট অঞ্চলের ৩৭৩টি হাওরকে কেন্দ্র করে ২০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছিল। এখন কাজ চলছে ৭৬টি প্রকল্পের। ২০ বছরে ২৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। হাওরাঞ্চল ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, তারা মনে করেন, এত অর্থ ব্যয়ের পরও তাদের জীবনযাত্রায় খুব একটা হেরফের ঘটেনি। তাদের সুখ আর উন্নয়ন আদতে কাগজে-কলমেই।

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সুনামপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. শফিক। গরু নিয়ে হাওরে যাচ্ছেন। মুখে রাজ্যের চাপ। এক টুকরো জমি আছে, সেখানে উৎপাদিত ফসল দিয়েই সারা বছর চলে সংসার। তার এলাকায় যে রাস্তা একসময় হয়েছিল, তা এখন প্রায় বিলীন। তার যত অভিযোগ স্থানীয় জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে। বলে-কয়েও করানো যায়নি নতুন রাস্তা।

মো. শফিকের কথার সূত্র ধরে নতুন নওয়াগাঁওর রাস্তা ধরে দেখা যায়, সেখানে একটি জায়গায় শুধু ব্রিজ আর কালভার্ট আছে, রাস্তা নেই। শফিক বলেন, কয়েক বছরের বন্যায় রাস্তা হারিয়ে গেছে। এ এলাকায় ৩৫ বছর ধরে এক ইউপি (ইউনিয়ন পরিষদ) চেয়ারম্যান আছেন, কিন্তু কোনো কাজ করেন না। সেখানকারই আরেক বাসিন্দা যোগেন্দ্রনাথ জানান, হাওরের সবচেয়ে বড় সমস্যা বর্ষায়। এ সময় কাঁচা রাস্তা ডুবে থাকে। শুকনো মৌসুমে এগুলো ঠিক করার কথা থাকলেও আর কেউ সংস্কার করেন না।

কিশোরগঞ্জের তারাইলের রৌটি গ্রামের বাসিন্দা আজহারুল ইসলাম লিটন। ৫৩ বছর বয়সী

কৃষক। হাওরের জীবনমান উন্নয়নের একটি প্রকল্পে তিনি আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। কিছুটা আয় বেড়েছে। কিন্তু যখন জটিলতায় আটকে যান, তখন কোনো কর্মকর্তাকে পান না। তার এলাকায় ২০১৮ সালে ক্ষুদ্র আয়বর্ধক কর্মসূচির আওতায় ৫০টি ছাগল বিতরণ করা হয়েছিল, কিন্তু পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারায় অধিকাংশ ছাগল বাঁচেনি। যারা ছাগল বিতরণ করে গিয়েছিলেন, তারাও আর খোঁজ নেননি।

আজহারুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের যে ছাগলগুলো দেওয়া হয়েছিল। বর্ষাকালে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে অধিকাংশ ছাগলই মারা যায়। তবে ধান উৎপাদনে যে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম, তাতে কিছুটা কাজ হয়েছে। উৎপাদন সামান্য বেড়েছে। বর্ষাকালে হাওর এলাকায় ছাগলের খাবারের অভাব থাকে। এগুলো বাঁচিয়ে রাখাও কষ্টকর। ওই সময় ছাগলের রোগবালাইও দেখা দেয়। চিকিৎসা করানো সম্ভব হয় না।’

বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের আরেক প্রান্তে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পোইকোনা গ্রামের বাসিন্দা আসাদুজ্জামান। তার এলাকার মনাই নদীতে ‘কজওয়ে’ (জলকপাট বা স্লুইসগেটের মতো পানি নিয়ন্ত্রিত করে রাখার ব্যবস্থা) তৈরি করেছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। নদী এলাকার সমতল থেকেও এটি অনেক উঁচুতে। চলাচলে কষ্ট হয় তাদের। তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকায় টগার হাওরে ১০ কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল, সেটি এখন আর নেই। যখন এটি করা হয়েছিল, তখনই খুব কম উচ্চতা ছিল। প্রতিবছরের বন্যায় সেগুলো মাটিতে মিশে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকার পানি নিষ্কাশনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বর্ষায় কোনো উদ্যোগই দেখি না।’

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার হালদেরপুর গ্রামের শেখ মুকিত জানান, তার এলাকায় পানি সমস্যা প্রকট। একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছিল ছয় বছর আগে। ওই এলাকায় ৩০০ একর জমিতে ধান চাষের উদ্দেশ্যও ছিল নলকূপটি পোঁতার। নলকূপটি প্রথম দুই বছর ডিজেল মেশিন দিয়ে চালানো হয়েছিল। ডিজেলের দাম বাড়ায় চার বছর ধরে সেটি আর চালানো হয় না। বন্ধ আছে।

দেশ রূপান্তরকে মুকিত জানান, তার এলাকায় মখার হাওর রয়েছে। গত কয়েক বছর আগে এখানে ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। খালও খনন করা হয়েছিল। সেচের ব্যবস্থা করার কথা ছিল, কিন্তু করা হয়নি। যে রাস্তা করা হয়েছিল, গতবারের বন্যায় তা অধিকাংশই মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। তাদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য আট পরিবারকে ১৬টি ছাগল দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে ছাগলগুলো সবগুলোই মারা যায়। সেগুলো চিকিৎসাও করানো সম্ভব হয়নি।

সরেজমিনে হবিগঞ্জের বানিয়াচং, সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাংলাদেশ পনি উন্নয়ন বোর্ডের তৈরি করা হাওরের বাঁধে অধিকাংশই মিশে গেছে হাওরের সঙ্গে। যে বাঁধগুলো তৈরি করা হয়েছিল, কোথাও মাটি নেই, কোথাও বাঁধই নেই।

হাওরের প্রকল্পগুলো কাজে লাগে না কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় দেশ রূপান্তর বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী তারা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে না। অধিকাংশ প্রকল্পই অপরিকল্পিত। যেমন আমাদের হাওরের বেড়িবাঁধে এমন অবস্থা হয়েছে, সেটি আর হাওর থাকছে না। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, প্রকল্প যত বাড়ে তাদের লাভ।’

তিনি বলেন, যে প্রকল্প ২০১৭ সালে শুরু হয়েছিল এ প্রকল্পই বারবার করা হয়। দুই বছর আগে যে প্রকল্প ব্যয় ২৫ লাখ টাকা ছিল, সেটি এখন আরও বেড়েছে। তারা নতুন নতুন প্রকল্প নেয়, সেখানে অনিয়মের আশ্রয় থাকে। অনেক ক্ষেত্রে তারা কোনো বাঁধ তৈরি করে না।

এই পরিবেশবিদ বলেন, ‘আমরা মনে করি পানি উন্নয়ন বোর্ড যদি নিয়মমাফিক তাদের কাজগুলো করত, তাহলে দুই বছর পরপর বাঁধ তৈরি করতে হয় না।’

২০১৪ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে শুরু হয়েছিল ‘হাওর এলাকায় বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রকল্প’। আট বছরে প্রকল্পটি শেষ হয়েছে ২০২২ সালে। মেঘনার উজানের অববাহিকার বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জনগণের জীবনমানের উন্নয়নের জন্য প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল। প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটিতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণই ছিল প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। ২৯টি হাওর উন্নয়নের জন্য এ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল।

প্রকল্পটি শুরু হওয়ার আগে সমীক্ষা করে জাইকা। কিন্তু সমীক্ষাটি পূর্ণাঙ্গ ছিল না। জাইকা সমীক্ষাটি করেই জানিয়েছিল এ প্রকল্পে পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা যাচাই প্রয়োজন। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা যাচাই না করেই শুরু করা হয় প্রকল্পের কাজ। আদতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পুরো অর্থই মিশে গেছে হাওরের পানিতে।

প্রকল্পের আওতায় ৮০ কিলোমিটারের বেশি পূর্ণ বন্যা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০২২ সালের বন্যার পর অধিকাংশই প্রায় অস্তিত্বহীন। ৩৯৭ কিলোমিটারের ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল, শুষ্ক মৌসুমেও খুঁজে পাওয়া যায় না এসব ডুবন্ত বাঁধ।

তা ছাড়া কজওয়ে তৈরি করা হয়েছিল এসব এলাকায়। কিন্তু কজওয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের পারাপারের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফসল উত্তোলনের মৌসুমে এগুলো দিয়ে পারাপার সম্ভব হয় না।

এ প্রকল্পটির মূল্যায়ন করতে গিয়ে প্রকল্প এলাকায় উপকারভোগীদের মধ্যে একটি জরিপ করেছিল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। জরিপে অংশ নেওয়া ৫২ শতাংশ বলছেন, ডুবন্ত বাঁধ সম্পর্কে তাদের ধারণা আছে, কিন্তু বাকি ৪৮ শতাংশ জানেন না কোথায় ডুবন্ত বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। ২৯ শতাংশ ডুবন্ত বাঁধ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা জানিয়েছেন।

বাঁধ মজবুতভাবে করা হচ্ছে কি না আইএমইডির এমন জরিপে ৪৮ শতাংশ বলেছেন, তাদের কোনো ধারণা নেই। ১৯ শতাংশ নেতিবাচক ধারণা করেছেন, আর ৩৩ শতাংশ ইতিবাচক ধারণা দিয়েছেন।

যেমন কারপাশা কজওয়ে নির্মাণ শেষ হয়েছিল ২০১৯ সালে। সে বছর কজওয়েটি মাটির বাঁধ দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল, কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, এর ফলে বোরো ধান রক্ষা পাবে। কিন্তু তারপর আবার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল। সমস্যা হলো কজওয়ের ওপর দিয়ে মানুষের পারাপারের কোনো ব্যবস্থা নেই।

হবিগঞ্জের বিবিয়ানা খালের ওপর কজওয়ে হয়েছিল ২০২০ সালে। কজওয়ের বড় সমস্যা হলো আগাম বন্যা প্রতিরোধের জন্য খালটি বন্ধ করা হলে কজওয়ের উজান দিকে রাস্তার পূর্বপাশের বাড়িঘর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটির কার্যকারিতা এখন ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন স্থানীয় লোকজন।

হাওরাঞ্চলের অবকাঠামো ও জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প (হিলিপ) নামে আরেকটি প্রকল্প ২০১২ শুরু হয়ে ২০১৯ সালে শেষ হয়েছে। ১ হাজার ৭৬ কোটি টাকার এ প্রকল্পের আওতায় ৫০০টি বিল উন্নয়নের কথা ছিল। কিন্তু মাত্র ৩৮৩টি বিল ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়েছে। বাকিগুলোর উন্নয়ন সম্ভব হয়নি।

এই প্রকল্পের আওতায় ২৩০ কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণের তথ্য রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, এসব গ্রামীণ সড়কের অধিকাংশই ২০২২ সালের পর চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলাচল করা যায় না সড়কগুলোয়। হবিগঞ্জের সুনামপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এ এলাকায় করা পাকা সড়কগুলোও বন্যায় অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত, জনপ্রতিনিধিরা এগুলো সংস্কারের কোনো উদ্যোগই নেন না।

আইএমইডির জরিপ বলছে, এসব এলাকায় হাটের দিন ৩৫৪টি যান্ত্রিক ও ২২১টি অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল করে থাকে।

এ প্রকল্পের আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে আলিগঞ্জ বাজার উন্নয়ন করা হয়েছে। এর চুক্তি মূল্য ছিল প্রায় ৩১ লাখ টাকা। টিনশেডের এ বাজারটিতে মানুষের যাতায়াত সাধারণত কম।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ইমামবাড়িতে ২ কিলোমিটারের একটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ২০১৭ সালে নির্মাণ করা এ সড়কটির গাইডওয়ালের উচ্চতা ২০ ইঞ্চি হওয়া সত্ত্বেও এ কয়েক বছরে এটিও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

একই জেলার আজমিরীগঞ্জের চালিয়ার খালে ২৬ লাখ টাকায় খননকাজ করা হলেও এখন সেটি প্রায় অদৃশ্য।

আইএমইডি কর্মকর্তারা বলছেন, বিল বা খাল খননের পর যে মাটি উত্তোলন করে কিল্লা স্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলো বর্ষায় আবার মিশে যায়, পরে কোনো সংস্কারকাজ না হওয়ায় খালগুলোও অদৃশ্য হয়ে পড়ে।

হিলিপ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫ জেলার ২৮ উপজেলায় ১৭৬ হাওর ইউনিয়নে ছয়টি কমপোনেন্ট (খাত) বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যোগাযোগ অবকাঠামো, কমিউনিটি অবকাঠামো, কমিউনিটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, জীবনমান সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় আবাদ তথ্যবিনিময় এ প্রকল্পের মূল কাজ।

প্রকল্পটি ২০১২ সালের জুনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৯৪৫ কোটি টাকায় অনুমোদিত হলেও সংশোধনীর পর প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৭৬ কোটিতে।

হাওরের ক্ষেত্রে টেকসই কোনো প্রকল্প নেওয়া সম্ভব হয় না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা প্রকল্পগুলো মানুষ বা কোনো না কোনো এজেন্সি দিয়ে বাস্তবায়ন করি। আমরা যে এসব ক্ষেত্রে খুব স্বচ্ছতার জায়গায় আসতে পারছি, তা নয়। আমরা কল্পনায় অনেক ভালো জিনিস চাই, কিন্তু সেখানে পৌঁছার জন্য যে লজিস্টিক সাপোর্টসহ বিভিন্ন উপাদান প্রয়োজন সেই কমিটমেন্টের জায়গায় নেই বলেই হাওরে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হয়নি।’

তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী একনেকে অভিযোগ তোলেন কৃষকরা সরকারের দেওয়া কৃষি যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন জিনিস পাচ্ছেন না। তখন কৃষি সচিবের নেতৃত্বে তদন্ত হয়, কিন্তু তদন্তে কেউ অভিযুক্ত হননি। পরে দেখা যায়, আসলেই সেখানে অনিয়ম হয়েছে।

বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের হিসাবে সারা দেশে ৩৭৩টি হাওর রয়েছে। এসব হাওরের সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে ২০১২ সালে মহাপরিকল্পনা হাতে নেয় সরকার। ২০৩২ সাল পর্যন্ত ২০ বছর মেয়াদি এই মহাপরিকল্পনা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল ২৮ হাজার ৪৩ কোটি টাকা। সিলেট ও আশপাশের অঞ্চলের ৭টি হাওর এলাকায় ২ কোটি মানুষের জন্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ৭৩টি উন্নয়ন প্রকল্প চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদে আরও ১৭৫টি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এর আগে ১০২টি উন্নয়নকাজ শেষ করেছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত