জাতীয় ওষুধনীতির কারণেই বর্তমানে দেশের মানুষের মোট চাহিদার ৯৮ ভাগ ওষুধ দেশে উৎপাদিত হচ্ছে। বাংলাদেশে ওষুধ শিল্পের ব্যাপক বিকাশ, ওষুধের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও মানোন্নয়ন এবং ওষুধের দামের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে ১৯৮২ সালে জাতীয় ওষুধনীতি প্রণয়নে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সম্পৃক্ততায় গণমুখী নীতি প্রণয়নের কারণে। শনিবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কর্তৃক সাভারের পিএইচএ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘জাতীয় ওষুধনীতি ১৯৮২ প্রণয়নের ৪২ বছর : অর্জন ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তরা এসব কথা বলেন।
আয়োজিত সেমিনারে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতারের সঞ্চালনায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এর ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা: মো: সায়েদুর রহমান, বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক ও বিআইডিএস এর গবেষণা পরিচালক ড. কাজী ইকবাল বলেন।
আলোচনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এর ফার্মাকোলজী বিভাগের অধ্যাপক ডা: মো: সায়েদুর রহমান বলেন, ১৯৮২ সালে জাতীয় ওষুধনীতি প্রণয়ন কমিটিতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সম্পৃক্ততা পুরো প্রক্রিয়াটির গন্তব্য বদলে দেয়। সে সময় জাতীয় অধ্যাপক ডা. নূরুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত আট সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর গণমুখী নীতি, নিরপেক্ষ মানসিকতা, দৃঢ়তা, প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টি এই বিশেষজ্ঞ কমিটির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছিল। তবে এর আগে ওষুধের সার্বিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত কোন আইনই ছিল না। জাতীয় ওষুধ নীতি ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ এই লক্ষ্য অর্জনেও সহায়তা করেছে।
সেমিনারের অন্য বক্তা বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তীকালে বাংলাদেশে বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানিগুলোর আধিপত্য ছিল। কাঁচামাল এদেশে তৈরি করবে বলে বিদেশী কোম্পানিগুলো সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিলেও এদেশে কোন কাঁচামাল তৈরি হতো না। ওষুধের দাম ছিল সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। জাতীয় ওষুধনীতি প্রণয়নের ফলে বিদেশী কোম্পানিগুলোর আধিপত্য কমে গেছে। বর্তমানে ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।
বিআইডিএস এর গবেষণা পরিচালক ড. কাজী ইকবাল বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সবসময় দেশের, দেশের মানুষের স্বার্থকে চিন্তা করতেন বিধায় এই নীতিতে সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচিত হয়েছিল। জাতীয় ওষুধ নীতির কারণে স্থানীয় উৎপাদন কোম্পানির বিকাশ ঘটেছিল। সেমিনারটি সঞ্চালন করেন গণ বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার।
সেমিনারে সমাপনী বক্তব্য দেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সহধর্মিণী নারী উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ শিরীন পারভীন হক। তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জাতীয় ওষুধনীতি ১৯৮২ প্রণয়নের ৪২ বছর : অর্জন ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে অংশগ্রহণ করায় আলোচকসহ উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং ভবিষ্যতে এই শিল্পের প্রয়োজনে সকলকে একযোগে মিলেমিশে কাজ করার আহ্বান জানান। দিনব্যাপী এ সেমিনারে আমন্ত্রিত অতিথি ছাড়াও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ট্রেজারার, ডীন ও রেজিস্ট্রারসহ ফার্মাসিট, চিকিৎসক ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।
