‘জিনের দ্বারা তদবির করি’ ফেসবুকে এই নামে একটি গ্রেুপে ঢুকে কবিরাজ সাইফুল ইসলাম (২৯) এর সাথে যোগাযোগ করেন চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড এলাকার এক গ্রাম্য চিকিৎসক মো. ইব্রাহিম সবুজ। তার একটি পারিবারিক সমস্যা সমাধানের জন্য যোগাযোগ করেন সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তার সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নেন সাইফুল। দীর্ঘ দিনেও তার সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ভুক্তভোগী আরেক ব্যক্তি সঙ্গে তার ফেসবুকে যোগাযোগ হলে সাইফুলের প্রতারণার কথা জানতে পেরে কৌশলে সাইফুলকে চট্টগ্রাম ডেকে নিয়ে আটক করে কিছু টাকা উদ্ধার করেন।
তিনি বলেন, সাইফুল ইসলাম নিরীহ মানুষের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত নানা উপায়ে প্রতারণার মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার বোর্ড বাজার তারগাছ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন সাইফুল কবিরাজ। তার বাড়ি রংপুরের কাউনিয়া থানার জিড়াবাড়ি এলাকায়। তার বাবার নাম মো. আশরাফুল আলী। ২০১৫ সালে সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে চাকরি করতেন। সেনাবহিনীতে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাৎ, মানুষের সাথে তার প্রতারণা ও অনৈতিক কার্যকলাপের জন্য সে সেনাবাহিনী থেকে ২০২১ সালে চাকুরিচ্যুত হয়। তার কাছে সেনাবাহিনীর একটি পরিচয়পত্র রয়েছে যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করে থাকে।
সাইফুল রংপুরে অনেক এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সে রংপুরের কাউনিয়া ভায়ার হাট গার্লস স্কুল মোড়ে চিকিৎসালয় খুলে শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে নাকের ভেতর মাংস বৃদ্ধি, পলিপাস, পায়ের সর্ব প্রকার ভেরিকেস ভ্যাইন, দুই পায়ের মাঝখানে হাঁটু লাগা, টিউমার, গুটি রোগ ও যৌন রোগ বিনা অপারেশনে ভালো করার নামে ওষুধ বিক্রি করে। সেখানে মানুষের সাথে প্রতারণা করে এলাকা ছেড়ে গাজীপুর মহানগরীর বোর্ড বাজার এলাকায় আশ্রয় নিয়ে ফেসবুকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে সমস্যা সমাধান করার নামে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর সফিপুর এলাকার ভুক্তভোগী মোশারফ হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, ফেসবুকে মোবাইলের মাধ্যমে পরিচয় হয় সাইফুল ইসালামের সঙ্গে। তিনি পারিবারিক সমস্যা সমাধানের জন্য সাইফুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ২১ দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানের কথা বলে সফিপুর এসে প্রতারক সাইফুল ১৮ হাজার টাকা নিয়ে যায়। কাজ না হলে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেয়। আর এ জন্য একটি চেকও প্রদান করে মোশারফ হোসেনকে। ওই সময়ে সমাধান না হওয়ায় ফের ১৪ দিনের সময় চেয়ে আরো ২৫০০ টাকা হাতিয়ে নেয় সাইফুল। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী মোশারফ হোসেনের মোবাইল নম্বর, হোয়াটস অ্যাপ, ইমু, ম্যাসেঞ্জার ব্লক করে দেয়। এক বছর ধরে প্রতারক সাইফুলের কোনো সন্ধান পাচ্ছেন না তিনি।
মোশারফ বলেন, সিরাজগঞ্জের একটি দরিদ্র পরিবারের পারিবারিক সমস্যা সমাধানের জন্য ওই পরিবারের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক সাইফুল। ওই পরিবারটি তাদের শেষ সম্বল একটি খাসি ও মুরগি বিক্রি করে সাইফুলের হাতে টাকা তুলে দিয়েছিল।
রোগী সেজে সাইফুলের সঙ্গে কথা বললে সে জানায়, প্রথমে তার কাছে বিকাশে ১৫৫১ টাকা পাঠাতে হবে। সে টাকা দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী করে জিন হাজির করে ভিডিও কলের মাধ্যমে রোগীকে দেখানো হবে। পরে সমস্যা কত দিনে সমাধান হবে এবং কত টাকা লাগবে জিন জানালে সে টাকা পরিশোধ করতে হবে।
এ ব্যাপারে সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানায়, তিনি কারো সাথে প্রতারণা করেননি। রোগীর সাথে কথা বলে তাদের সম্মতি নিয়ে চিকিৎসা করে থাকি। অনেকের উপকার হয় আবার অনেকের হয় না। কাজ করতে অনেক খরচ করতে হয়। সেই খরচের টাকা আগে নেই। চুক্তি মোতাবেক কাজ করে থাকি।
তিনি দাবি করেন, সেনাবাহিনী থেকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। তিনি স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিয়ে এসেছেন।
